দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যে দিয়ে ২দিনব্যাপী সূর্যপূজা উদ্যাপন করেছেন। স্থানীয়ভাবে এ পূজাকে বলা হয় ছট পূজা। প্রতিবছর কালীপূজার পর শুক্লপক্ষের ষষ্ঠ তিথিতে নদীর তীরে সূর্য দেবতাকে সন্তুষ্ট করতে এই পূজার আয়োজন করা হয়। একে অনেকে সূর্যস্নান বলে থাকেন।
পূজায় অংশগ্রহণকারী ভক্তদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মনোবাসনা পূর্ণ, আপদ-বিপদ দূরীকরণসহ বিভিন্ন মানত পূরণে হিন্দু ধর্মাবলম্বীর হরিজন, রবিদাস ও রজক সম্প্রদায়সহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের কয়েক’শ পুণ্যার্থীর সমাগম ঘটে উপজেলার পাকেরহাটের পাশ দিয়ে প্রবাহিত বেলান নদীতে। পূজার প্রথমদিন বুধবার বিকেলে পুণ্যার্থীরা উপবাস থেকে ফুল, প্রসাদসহ বিভিন্ন সামগ্রী নিয়ে বেলান নদীর তীরে জমায়েত হন। সেদিন সূর্যাস্তের ঠিক আগে পুণ্যার্থীরা নদীতে স্নান এবং হাঁটু পানিতে দাঁড়িয়ে সূর্যের দিকে মুখ করে কুলায় সাজানো প্রসাদ দিয়ে পূজা শুরু করেন। পূজার দ্বিতীয় দিন বৃহস্পতিবার সূর্যোদয়ের আগে একই নিয়মে পূজা শুরু করেন তারা। সূর্যোদয় হওয়ার পর সূর্যকে প্রণাম করে স্নান এবং সরবত পানের মধ্যদিয়ে শেষ করেন সূর্যপূজা। পূজা শেষে একে অন্যকে আবির মাখিয়ে দেন পুণ্যার্থীরা।
খানসামা উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ধীমান দাস বলেন, পৃথিবী সৃষ্টির জন্য খ্যাতি, অপ, পেচ, মরুদ ও বম্ এই ৫টি মূল উপাদান। এর মধ্যে পেচ হল অন্যতম। ইহা আসে সূর্য থেকে। তাই সূর্যকে দেবতা হিসেবে আমরা পূজা করে থাকি। প্রতিবছর সূর্য দেবতাকে সন্তুষ্ট করতেই এই পূজা করা হয়। এ পূজার মাধ্যমে সূর্য দেবতা সন্তুষ্ট হয়ে মনোবাসনা ও মানত পূরণ করে দেন।
মো. রফিকুল ইসলাম, করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট, চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) 

















