বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভেড়া পালনে দিনবদলের চেষ্টা

তোফায়েল হোসেন জাকির: নদী বিধৌত জেলা গাইবান্ধা। এ জেলার চরাঞ্চলের পিছিয়ে পড়া নারীরা স্বপ্ন দেখছেন এগিয়ে যেতে। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে শুরু করা হয়েছে ভেড়া পালন। এ থেকেই দিনবদলের চেষ্টা করছে তারা।

সরেজমিনে বৃহস্পতিবার (১৮ নভেম্বর) গাইবান্ধা সদর, ফুলছড়ি ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন চরে দেখা যায় নারীদের ভেড়া পালনের চিত্র। এসময় অনেকে পালিত ভেড়াগুলোকে খাদ্য দিতে ব্যস্ত ছিলেন।

জানা যায়, নদীবেষ্টি গাইবান্ধার ব্রহ্মপুত্র নদসহ বিভিন্ন নদীর বুকে জেগে উঠেছে অসংখ্য বালুচর। এসব চরের অধিকাংশ মানুষ দরিদ্র সীমার নিচে বসবাস।এই মানুষগুলোর জীবন মানোন্নয়নের লক্ষ্যে সরকারের পাশাপাশি কাজ করছে বিভিন্ন এনজিও সংস্থা। এসব সংস্থার মধ্যে অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে ফ্রেন্ডশিপ এ.এস.ডি নামের একটি প্রকল্প। গাইবান্ধার গিদারী, মোল্লারচর, উড়িয়া, কাপাশিয়া ও হরিপুর ইউনিয়নের ৫ টি চরে প্রকল্পটির বাস্তবায়নে ও ফ্রেন্ডশিপ লুক্সেমবার্গের আর্থিক সহযোগিতায় ২৪০ জন দরিদ্র নারীকে ভেড়া প্রদান করে। এসব ভেড়ার প্রজনন থেকে ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে অধিক ভেড়া। এ থেকে আর্থসামাজিক উন্নয়ন হচ্ছে অনেকের।

ফুলছড়ির কাবিলের চরের সুবিধাভোগী মোমেনা বেগম নামের এক গৃহবধূ জানান, আগে অবহেলিত ছিলেন। ফ্রেন্ডশিপের ভেড়া পেয়ে এখন স্বাবলম্বি হওয়ার পথে।

তিনি আরও বলেন, ফ্রেন্ডশিপ আমাকে একটি গাভীন ভেড়া দেয়। আর এই ভেড়া থেকে ৪ টি বাচ্চা হয়েছে। আগামী এক বছরে আরও ১০ টি বাচ্চা বের হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ দিয়ে খামারে পরিনত করা হবে।

আরেক সুবিধাভোগী শাহানা বেগম জানান, তার পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ ছিল। ফ্রেন্ডশিপ থেকে একটি ভেড়া পেয়ে সেটি থেকে একাধিক হয়েছে। এরই মধ্যে কয়েকটি ভেড়া বিক্রি করে বেশ স্বচ্ছলতা ফিরেছে তার।

ওই প্রকল্পটির ইনচার্জ দিবাকর বিশ্বাস জাগো২৪.নেট-কে জানান, ভেড়া পালন করার ৬ মাস পর থেকে বাচ্চা ধারণের সক্ষমতা রাখে। একটি পূর্ণ বয়স্ক ভেড়া ২৮ থেকে ৩০ কেজি ওজনের হয়ে থাকে এবং তা বাজারে বিক্রি করলে ১৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা হবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে গাইবান্ধার ৮ টি চরে প্রাথমিক অবস্থায় দেশী ভেড়ার মাধ্যমে বীজ দিয়ে উন্নত জাতের ভেড়া তৈরি করা হচ্ছে। এই জাতের ভেড়ার মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত দূর্যোগপ্রবন এলাকার মানুষকে অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

গাইবান্ধা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মাছুদার রহমান সরকার জাগো২৪.নেট-কে জানান, গাইবান্ধা জেলায় ৭০ হাজার ভেড়া রয়েছে সমতল ভূমিতে। চরাঞ্চলে চারণ ভূমি থাকায় ভেড়া গরুর সাথে থাকতে পছন্দ করে। ভেড়া পালনে বাড়তি লোকের দরকার হয়না। সেখানে খাদ্য সংস্থান আছে। চরাঞ্চলগুলিতে ভেড়া পালন লাভজনক।

ভেড়া পালনে দিনবদলের চেষ্টা

প্রকাশের সময়: ০২:৫৪:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ নভেম্বর ২০২১

তোফায়েল হোসেন জাকির: নদী বিধৌত জেলা গাইবান্ধা। এ জেলার চরাঞ্চলের পিছিয়ে পড়া নারীরা স্বপ্ন দেখছেন এগিয়ে যেতে। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে শুরু করা হয়েছে ভেড়া পালন। এ থেকেই দিনবদলের চেষ্টা করছে তারা।

সরেজমিনে বৃহস্পতিবার (১৮ নভেম্বর) গাইবান্ধা সদর, ফুলছড়ি ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন চরে দেখা যায় নারীদের ভেড়া পালনের চিত্র। এসময় অনেকে পালিত ভেড়াগুলোকে খাদ্য দিতে ব্যস্ত ছিলেন।

জানা যায়, নদীবেষ্টি গাইবান্ধার ব্রহ্মপুত্র নদসহ বিভিন্ন নদীর বুকে জেগে উঠেছে অসংখ্য বালুচর। এসব চরের অধিকাংশ মানুষ দরিদ্র সীমার নিচে বসবাস।এই মানুষগুলোর জীবন মানোন্নয়নের লক্ষ্যে সরকারের পাশাপাশি কাজ করছে বিভিন্ন এনজিও সংস্থা। এসব সংস্থার মধ্যে অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে ফ্রেন্ডশিপ এ.এস.ডি নামের একটি প্রকল্প। গাইবান্ধার গিদারী, মোল্লারচর, উড়িয়া, কাপাশিয়া ও হরিপুর ইউনিয়নের ৫ টি চরে প্রকল্পটির বাস্তবায়নে ও ফ্রেন্ডশিপ লুক্সেমবার্গের আর্থিক সহযোগিতায় ২৪০ জন দরিদ্র নারীকে ভেড়া প্রদান করে। এসব ভেড়ার প্রজনন থেকে ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে অধিক ভেড়া। এ থেকে আর্থসামাজিক উন্নয়ন হচ্ছে অনেকের।

ফুলছড়ির কাবিলের চরের সুবিধাভোগী মোমেনা বেগম নামের এক গৃহবধূ জানান, আগে অবহেলিত ছিলেন। ফ্রেন্ডশিপের ভেড়া পেয়ে এখন স্বাবলম্বি হওয়ার পথে।

তিনি আরও বলেন, ফ্রেন্ডশিপ আমাকে একটি গাভীন ভেড়া দেয়। আর এই ভেড়া থেকে ৪ টি বাচ্চা হয়েছে। আগামী এক বছরে আরও ১০ টি বাচ্চা বের হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ দিয়ে খামারে পরিনত করা হবে।

আরেক সুবিধাভোগী শাহানা বেগম জানান, তার পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ ছিল। ফ্রেন্ডশিপ থেকে একটি ভেড়া পেয়ে সেটি থেকে একাধিক হয়েছে। এরই মধ্যে কয়েকটি ভেড়া বিক্রি করে বেশ স্বচ্ছলতা ফিরেছে তার।

ওই প্রকল্পটির ইনচার্জ দিবাকর বিশ্বাস জাগো২৪.নেট-কে জানান, ভেড়া পালন করার ৬ মাস পর থেকে বাচ্চা ধারণের সক্ষমতা রাখে। একটি পূর্ণ বয়স্ক ভেড়া ২৮ থেকে ৩০ কেজি ওজনের হয়ে থাকে এবং তা বাজারে বিক্রি করলে ১৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা হবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে গাইবান্ধার ৮ টি চরে প্রাথমিক অবস্থায় দেশী ভেড়ার মাধ্যমে বীজ দিয়ে উন্নত জাতের ভেড়া তৈরি করা হচ্ছে। এই জাতের ভেড়ার মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত দূর্যোগপ্রবন এলাকার মানুষকে অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

গাইবান্ধা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মাছুদার রহমান সরকার জাগো২৪.নেট-কে জানান, গাইবান্ধা জেলায় ৭০ হাজার ভেড়া রয়েছে সমতল ভূমিতে। চরাঞ্চলে চারণ ভূমি থাকায় ভেড়া গরুর সাথে থাকতে পছন্দ করে। ভেড়া পালনে বাড়তি লোকের দরকার হয়না। সেখানে খাদ্য সংস্থান আছে। চরাঞ্চলগুলিতে ভেড়া পালন লাভজনক।