দিনাজপুরে বিস্তৃর্ণ মাঠ জুড়ে নজর কাড়ছে সরিষা ক্ষেত। যেনো সরিষা ফুলের হলদে হাসিতে রাঙিয়ে উঠেছে ফসলের মাঠ। এসব ফুলের মাছে উঁকি দিচ্ছে কৃষকের স্বপ্ন। একই সেঙ্গ সরিষা ফুলের সুগন্ধিতে মাতোয়ারা হয়ে উঠছে এলাকাবাসী সহ মৌমাছিরা। ব্যস্ত সময় পার করছে মধু সংগ্রহ মৌমাছিরা। সৌন্দর্য পিয়াসুরা উপভোগ করেছেন সরিষার ফুলের রুপ আবার অনেকেই ছবি তুলছেন শস্যক্ষেতে।
জেলা কৃষি বিভাগ জানিয়েছে গত বছরের চেয়ে এবছর দিনাজপুরে বৃদ্ধি পেয়েছে সরিষার চাষ। আবহাওয়া অনুকুল থাকায় এ বছর বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। চলতি মৌসুমে ১৩ হাজার ১৬২ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হচ্ছে জেলায়।
জানা যায়, অগ্রহায়ণ মাসের শুরুতে শুরু করে কৃষকেরা সরিষার চাষ। অল্প সময়ে, স্বল্প ব্যয়ে অধিক লাভ সরিষা চাষে। আমন ধান কাটার পর জমি তৈরি করে বীজ বপন করে আমন চাষীরা। বীজ লাগানোর ৫৫ থেকে ৬০ দিনের মাথায় সরিষা ঘরে তুলে কৃষকরা। এক বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করতে খরচ হয় ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা। প্রতি বিঘায় ৩ থেকে ৪ মণ ফলন হয়। যা বর্তমান বাজারে বিক্রি হবে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা।
বিঘাপ্রতি ১ কেজি সরিষার বীজ বপন করে সরিষা চাষীরা। প্রথমে গোবর, ১০ কেজি ডেপ, ১০ কেজি পটাস আর ১০ কেজি ইউরিয়া সার দিয়ে জমি তৈরি করে কৃষকেরা। আবার অনেক চাষীরা বিঘাপ্রতি ২০ কেজি ইউরিয়া দিয়ে থাকেন, যাতে করে পরবর্তীতে বোরো চাষে তাদের আর ধানে ইউরিয়া দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। এতে করে সরিষার ফলন ভাল হবে এবং ইরি চাষে আগাম জমি তৈরি হয়ে যাবে।
হিলি জালালপুরের সরিষা চাষী আকরাম হোসেন জাগো২৪.নেট-কে বলেন, গত বছর আমি ১ বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছিলাম। এবছর আমন ধান কেটে, দেড় বিঘাতে সরিষার চাষ করেছি। আল্লাহ দিলে এবার সরিষার ভাল ফলন পাবো।
বিরামপুর উপজেলার কেটরা গ্রামের কৃষক মাসুদ জাগো২৪.নেট-কে রানা বলেন, প্রতি বছর আমি ৩ থেকে ৪ বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করে থাকি। নিজের চাহিদা মেটাতেই আমার সরিষার চাষ। বাহিরের কোন তেল আমার পরিবার ব্যবহার করে না। নিজে সরিষা চাষ করে তা মিলে ভাঙি এবং বাঁকিটা বিক্রি করে দেয়। সরিষা থেকে যে খৈল পাই, তা বাড়ির গরুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করে থাকি। এবছর সরিষার ভাল ফলন দেখতে পাচ্ছি। আশা করছি, অন্য বছরের চেয়ে এবছর সরিষার ভাল ফলন পাওয়া যাবে।
হাকিমপুর উপজেলা কৃষি অফিসার ড. মমতাজ সুলতানা জাগো২৪.নেট-কে জানান, উপজেলায় এইবার ৮২৫ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ করেছে কৃষকরা। গেলো বছর ৮২০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছিলো। প্রতি বছরের মতো এইবারও আমরা সরিষা চাষীদের মাঝে বিনামূল্যে সার-বীজ বিতরণ করেছি। এবছর ৩৮০ জন কৃষককে ১ কেজি সরিষার বীজ, ১০ কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি পটাস সার দেওয়া হয়েছে।
বিরামপুর উপজেলা কৃষি অফিসার নিক্সন চন্দ্র পাল জাগো২৪.নেট-কে জানান, ১০১০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে উপজেলায়। বিনামূল্যে ৪০০ জন কৃষকের মাঝে বীজ-সার বিতরণ করেছি।
দিনাজপুর কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক তৌহিদ ইকবাল জাগো২৪.নেট-কে জানান, গত বছর জেলায় ১২ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছিলো। এবছর জেলার ১৩ টি উপজেলায় কৃষকরা ১৩ হাজার ১৬২ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ করেছেন। প্রণোদনা কার্যক্রমের আওতায় বিনামূল্যে সার-বীজ বিতরণ করা হয়েছে সরিষা চাষীদের মধ্যে। কৃষকদের সার্বিক সহযোগিতা ও সেবা দিয়ে আসছেন প্রতিটি উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
মোসলেম উদ্দিন, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট, দিনাজপুর 



















