বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সাদুল্লাপুরে ব্যস্ত সময় পার করছে ফুল চাষিরা

ফুল চাষ করে সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরে পেয়েছে সাদুল্লাপুরের ফুল চাষিরা। বর্তমানে তারা ফুলের পরিচর্যা ও ফুল তোলা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে। ফুলের গ্রাম বলে পরিচিত গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ইদিলপুর ইউনিয়নের তাজনগর, আলীপুর, চকনদী গ্রামের ফুলচাষিরা স্বপরিবারে ফুল তুলে বাজারজাত করার জন্য খুবই ব্যাস্ত সময় পার করছেন।

এ বছর একই সাথে এসেছে ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালবাসা দিবস, পহেলা ফাল্গুন ঋতুরাজ বসন্ত বরণ, আবার ২১ ফেব্রুয়ারি ভাষা শহীদদের স্বরণে শহীদ মিনারে ফুলের শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পন, সবগুলি অনুষ্ঠানেই ফুলের প্রয়োজন। তাই বাজারে এক সাথে ব্যাপক ফুলের চাহিদা বেড়েছে। এখান কার ফুলচাষীরা এবার উন্নত মানের গোলাপ, গার্ডিয়াস আর গাঁদা ফুল চাষ করেছেন । স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকা, রংপুর, বগুড়া সহ বিভিন্ন জেলায় পাইকারী দরে ফুল বিক্রি করে লাভের মুখ দেখছেন ফুলচাষিরা।

তারা জানান গত দু’বছর করোনার কারনে ফুল বিক্রি কম হওয়ায় তাদের কে লোকসান গুনতে হয়েছে কিন্তু চলতি বছরে সে লোকসান পুষিয়ে লাভের মুখ দেখবেন বলে আশা করছেন ফুল চাষিরা।

কথা হয় চকনদী গ্রামের ফুলচাষি আনিছুর রহমানের সঙ্গে। তিনি জাগো২৪.নেট-কে জানান, বিগত ৬ বছর যাবৎ ফুল চাষ করেই তার সংসার চলে গত দু বছর করোনার কারনে ব্যাবসা মন্দ হওয়ায় এ বছরে মাত্র ২ বিঘা জমিতে গোলাপ ও গাঁদা ফুল লাগিয়েছেন। চারা ক্রয়,সার, কীটনাশক, মজুরী (কিষান) খরচ সহ ব্যায় হয়েছে প্রায় ২ লাখ টাকা আর ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ফুল বিক্রি করেছেন প্রায় ৩ লাখ টাকা। মোট আয় হয়েছে ১ লাখ টাকা। এক স্ত্রী, চার মেয়ে সহ ফুল চাষ করেই সুখে কাটছে তার সংসার।

একই কথা বলেছেন আলীপুরের গার্ডিয়াস ফুলচাষি রুহুল আমিন তিনি স্বল্প পরিসরে ১ বিঘা জমিতে সখের বশে ফুলচাষ করে প্রায় ৫০ হাজার টাকা বিক্রি করে লাভের মুখ দেখেছেন। ভালবাসা দিবস আর বসন্ত বরণ উপলক্ষে ব্যাপক ফুল বিক্রি হচ্ছে বলে তিনি জানান।

দীর্ঘদিনের ফুলচাষী তাজনগর গ্রামের বিপ্লব মিয়া এবারো ৪ বিঘা জমিতে গোলাপফুল চাষ করেছেন তিনি। প্রায় ৮ বছর যাবৎ ফুল চাষকে পেশা হিসাবে নিয়েছেন তাকে নিয়ে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় অনেক লেখালেখি হয়েছে বিভিন্ন টেলিভিশনে তার ফুল চাষের খবর প্রচার হয়েছে। কিন্তু সরকারী ভাবে বা স্থানীয় কৃষি বিভাগের কাছে কোন সহায়তা বা সুবিধা পাননি। তবুও পিছু পা হননি তিনি নিজ উদ্যোগেই ফুল চাষ করে যাচ্ছেন।

তিনি জানান করোনার কারনে গত দু বছর ফুল বিক্রি তেমনটা না হওয়ায় অনেক লোকসান হয়েছে। এবার হয়তো কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে আসবে।

এলাকায় দেখা মেলে সাদুল্লাপুর কৃষি বিভাগের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রানা মিয়া ও আসাদুল্যাহ আল গালিবের সঙ্গে। এ দুজন এই ইউনিয়নে কৃষি কর্মকর্তার (ব্লকসুপার ভাইজার) দায়িত্বে আছেন। রানা মিয়া জাগো২৪.নেট-কে জানান, ইদিলপুর ইউনিয়নের তিন গ্রামে ১৪-১৫ জন কৃষক চলতি মৌসুমে প্রায় ১৫ বিঘা জমিতে ফুল চাষ করেছেন, করোনার কারনে গত দু বছর ফুল বিক্রি কম হওয়ায় অনেক কৃষক এবার ফুলচাষে আগ্রহ হারিয়েছেন। তবুও যে সকল কৃষক ফুল চাষ করেছেন আমরা সর্বদা তাদের পাশে থেকে উন্নত মানের ফুলচাষের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি,এ এলাকার মাটি ফুল উৎপাদনের জন্য যথেষ্ট উপযোগী। তাই ফুল চাষে ঝুকে পড়েছে এলাকার কৃষককুল তথা ফুল চাষিরা।

সাদুল্লাপুরে ব্যস্ত সময় পার করছে ফুল চাষিরা

প্রকাশের সময়: ০৬:০৮:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২২

ফুল চাষ করে সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরে পেয়েছে সাদুল্লাপুরের ফুল চাষিরা। বর্তমানে তারা ফুলের পরিচর্যা ও ফুল তোলা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে। ফুলের গ্রাম বলে পরিচিত গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ইদিলপুর ইউনিয়নের তাজনগর, আলীপুর, চকনদী গ্রামের ফুলচাষিরা স্বপরিবারে ফুল তুলে বাজারজাত করার জন্য খুবই ব্যাস্ত সময় পার করছেন।

এ বছর একই সাথে এসেছে ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালবাসা দিবস, পহেলা ফাল্গুন ঋতুরাজ বসন্ত বরণ, আবার ২১ ফেব্রুয়ারি ভাষা শহীদদের স্বরণে শহীদ মিনারে ফুলের শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পন, সবগুলি অনুষ্ঠানেই ফুলের প্রয়োজন। তাই বাজারে এক সাথে ব্যাপক ফুলের চাহিদা বেড়েছে। এখান কার ফুলচাষীরা এবার উন্নত মানের গোলাপ, গার্ডিয়াস আর গাঁদা ফুল চাষ করেছেন । স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকা, রংপুর, বগুড়া সহ বিভিন্ন জেলায় পাইকারী দরে ফুল বিক্রি করে লাভের মুখ দেখছেন ফুলচাষিরা।

তারা জানান গত দু’বছর করোনার কারনে ফুল বিক্রি কম হওয়ায় তাদের কে লোকসান গুনতে হয়েছে কিন্তু চলতি বছরে সে লোকসান পুষিয়ে লাভের মুখ দেখবেন বলে আশা করছেন ফুল চাষিরা।

কথা হয় চকনদী গ্রামের ফুলচাষি আনিছুর রহমানের সঙ্গে। তিনি জাগো২৪.নেট-কে জানান, বিগত ৬ বছর যাবৎ ফুল চাষ করেই তার সংসার চলে গত দু বছর করোনার কারনে ব্যাবসা মন্দ হওয়ায় এ বছরে মাত্র ২ বিঘা জমিতে গোলাপ ও গাঁদা ফুল লাগিয়েছেন। চারা ক্রয়,সার, কীটনাশক, মজুরী (কিষান) খরচ সহ ব্যায় হয়েছে প্রায় ২ লাখ টাকা আর ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ফুল বিক্রি করেছেন প্রায় ৩ লাখ টাকা। মোট আয় হয়েছে ১ লাখ টাকা। এক স্ত্রী, চার মেয়ে সহ ফুল চাষ করেই সুখে কাটছে তার সংসার।

একই কথা বলেছেন আলীপুরের গার্ডিয়াস ফুলচাষি রুহুল আমিন তিনি স্বল্প পরিসরে ১ বিঘা জমিতে সখের বশে ফুলচাষ করে প্রায় ৫০ হাজার টাকা বিক্রি করে লাভের মুখ দেখেছেন। ভালবাসা দিবস আর বসন্ত বরণ উপলক্ষে ব্যাপক ফুল বিক্রি হচ্ছে বলে তিনি জানান।

দীর্ঘদিনের ফুলচাষী তাজনগর গ্রামের বিপ্লব মিয়া এবারো ৪ বিঘা জমিতে গোলাপফুল চাষ করেছেন তিনি। প্রায় ৮ বছর যাবৎ ফুল চাষকে পেশা হিসাবে নিয়েছেন তাকে নিয়ে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় অনেক লেখালেখি হয়েছে বিভিন্ন টেলিভিশনে তার ফুল চাষের খবর প্রচার হয়েছে। কিন্তু সরকারী ভাবে বা স্থানীয় কৃষি বিভাগের কাছে কোন সহায়তা বা সুবিধা পাননি। তবুও পিছু পা হননি তিনি নিজ উদ্যোগেই ফুল চাষ করে যাচ্ছেন।

তিনি জানান করোনার কারনে গত দু বছর ফুল বিক্রি তেমনটা না হওয়ায় অনেক লোকসান হয়েছে। এবার হয়তো কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে আসবে।

এলাকায় দেখা মেলে সাদুল্লাপুর কৃষি বিভাগের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রানা মিয়া ও আসাদুল্যাহ আল গালিবের সঙ্গে। এ দুজন এই ইউনিয়নে কৃষি কর্মকর্তার (ব্লকসুপার ভাইজার) দায়িত্বে আছেন। রানা মিয়া জাগো২৪.নেট-কে জানান, ইদিলপুর ইউনিয়নের তিন গ্রামে ১৪-১৫ জন কৃষক চলতি মৌসুমে প্রায় ১৫ বিঘা জমিতে ফুল চাষ করেছেন, করোনার কারনে গত দু বছর ফুল বিক্রি কম হওয়ায় অনেক কৃষক এবার ফুলচাষে আগ্রহ হারিয়েছেন। তবুও যে সকল কৃষক ফুল চাষ করেছেন আমরা সর্বদা তাদের পাশে থেকে উন্নত মানের ফুলচাষের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি,এ এলাকার মাটি ফুল উৎপাদনের জন্য যথেষ্ট উপযোগী। তাই ফুল চাষে ঝুকে পড়েছে এলাকার কৃষককুল তথা ফুল চাষিরা।