শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পীরগঞ্জে সৌর সেচ পাম্পের সুবিধা পাচ্ছেন সহস্রাধিক কৃষক

রংপুরের পীরগঞ্জে বরেন্দ্র অঞ্চলে সৌর বিদ্যুতে পাম্প চালিয়ে জমিতে সেচ দেয়া হচ্ছে। এতে বিদ্যুৎ যাওয়ার ভয় থাকছে না। জমিতে সেচ দিতে গভীর নলকূপের সামনে থাকছে না কৃষকদের দীর্ঘ লাইন ।

পীরগঞ্জ উপজেলায় এই পাম্প চালু করেছে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ)। সৌর বিদ্যুৎ চালিত পাম্পগুলো বিএমডিএর করতোয়া নদী থেকে পানি তুলে পৌঁছে দিচ্ছে বরেন্দ্র অঞ্চলের উঁচু জমিতে। এতে বাড়ছে ভূ-উপরস্থ পানির ব্যবহার। আর খরাপ্রবণ বরেন্দ্র অঞ্চলে চাপ কমছে ভূ-গর্ভস্থ পানির ওপর। সৌর পাম্পের পানিতে সেচ দিতে খরচও কমছে আসছে চাষিদের।

বিএমডিএ জানায়,করতোয় নদী থেকে বরেন্দ্র অঞ্চলের উচ্চতা স্থানভেদে ৭০ থেকে ১০০ ফুট। এসব উঁচু স্থানে বিদ্যুৎ বিভ্রাটে অধিকাংশ সময় ফসলি জমি নিয়ে সেচ সংকটে পড়তে হয় কৃষককে। কিন্তু সৌর পাম্পে এসব জমিতে ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহারে পাল্টাতে শুরু করেছে সে চিত্র। করতোয়া নদী থেকে সৌর পাম্পের মাধ্যমে পানি যাচ্ছে কৃষকের জমিতে। ৪ টি পাম্প থেকে প্রতিদিন পূর্ণ সেচ সুবিধা পাচ্ছে ৫’শ বিঘা জমিতে আবাদকারি চাষিরা। একটি সৌর বিদ্যুৎ চালিত এলএলপি পাম্প প্রতিটি পাম্প স্থাপনে খরচ হয়েছে প্রায় ২৫ লাখ টাকা। এই পাম্পগুলোর পানি ব্যবহার করে সারাবছর ধরেই ওই এলাকার প্রায় ৫’শ বিঘা জমিতে চাষাবাদ যাবে। পীরগঞ্জ উপজেলার বড় বদনা পাড়া গ্রামের পাম্প মালিক মজনু মিয়া বলেন,করতোয়া নদীর তীরে বালুচরে কৃষি জমিতে পানি সেচ নিয়ে কৃষক হয়রানি হতো। এখন রোপা আমন এবং ইরি বোর চাষ করা যাবে অতি সহজে।

সৌর বিদ্যুৎ চালিত সেচ পাম্প স্থাপন করায় সারাবছর ধরে সব ধরণের ফসল ফলানো যাবে। এতে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবেন কৃষক। এলাকার শতাধিক কৃষক এই পাম্পের অনুকূলে রয়েছে। বিএমডিএর পীরগঞ্জ জোন-সহকারী প্রকৌশলী জামিনুর রহমান বলেন, উপজেলায় ৪ টি সৌরবিদ্যুৎ চালিত এলএলপি পাম্প রয়েছে, প্রতিটি সেচ পাম্পে সর্বোচ্চ ১৫ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। সূর্যের আলো কমে আসার সঙ্গে সঙ্গে পাম্পের শক্তিও কমে আসে । এই পাম্পে নবায়নযোগ্য জ্বালানি সৌরশক্তি ব্যাবহারের ফলে বিদ্যুৎ এর জাতীয় উৎপাদনের উপর নির্ভরশীলতা কমবে। ফলে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবেন কৃষক। তিনি আরও বলেন- গভীর নলকূপে পানি তুলে সেচ দেয়ায় বরেন্দ্র অঞ্চলের ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর প্রতিনিয়ত নিচে নামছে। তাই বিকল্প হিসাবে সৌর বিদ্যুৎ দিয়ে ভাসমান সেচ পাম্প এখন কৃষকের বন্ধু হিসেবে পাশে থাকবে এবং এটিই হবে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি।

জনপ্রিয়

পীরগঞ্জে সৌর সেচ পাম্পের সুবিধা পাচ্ছেন সহস্রাধিক কৃষক

প্রকাশের সময়: ০৬:০৮:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ মার্চ ২০২২

রংপুরের পীরগঞ্জে বরেন্দ্র অঞ্চলে সৌর বিদ্যুতে পাম্প চালিয়ে জমিতে সেচ দেয়া হচ্ছে। এতে বিদ্যুৎ যাওয়ার ভয় থাকছে না। জমিতে সেচ দিতে গভীর নলকূপের সামনে থাকছে না কৃষকদের দীর্ঘ লাইন ।

পীরগঞ্জ উপজেলায় এই পাম্প চালু করেছে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ)। সৌর বিদ্যুৎ চালিত পাম্পগুলো বিএমডিএর করতোয়া নদী থেকে পানি তুলে পৌঁছে দিচ্ছে বরেন্দ্র অঞ্চলের উঁচু জমিতে। এতে বাড়ছে ভূ-উপরস্থ পানির ব্যবহার। আর খরাপ্রবণ বরেন্দ্র অঞ্চলে চাপ কমছে ভূ-গর্ভস্থ পানির ওপর। সৌর পাম্পের পানিতে সেচ দিতে খরচও কমছে আসছে চাষিদের।

বিএমডিএ জানায়,করতোয় নদী থেকে বরেন্দ্র অঞ্চলের উচ্চতা স্থানভেদে ৭০ থেকে ১০০ ফুট। এসব উঁচু স্থানে বিদ্যুৎ বিভ্রাটে অধিকাংশ সময় ফসলি জমি নিয়ে সেচ সংকটে পড়তে হয় কৃষককে। কিন্তু সৌর পাম্পে এসব জমিতে ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহারে পাল্টাতে শুরু করেছে সে চিত্র। করতোয়া নদী থেকে সৌর পাম্পের মাধ্যমে পানি যাচ্ছে কৃষকের জমিতে। ৪ টি পাম্প থেকে প্রতিদিন পূর্ণ সেচ সুবিধা পাচ্ছে ৫’শ বিঘা জমিতে আবাদকারি চাষিরা। একটি সৌর বিদ্যুৎ চালিত এলএলপি পাম্প প্রতিটি পাম্প স্থাপনে খরচ হয়েছে প্রায় ২৫ লাখ টাকা। এই পাম্পগুলোর পানি ব্যবহার করে সারাবছর ধরেই ওই এলাকার প্রায় ৫’শ বিঘা জমিতে চাষাবাদ যাবে। পীরগঞ্জ উপজেলার বড় বদনা পাড়া গ্রামের পাম্প মালিক মজনু মিয়া বলেন,করতোয়া নদীর তীরে বালুচরে কৃষি জমিতে পানি সেচ নিয়ে কৃষক হয়রানি হতো। এখন রোপা আমন এবং ইরি বোর চাষ করা যাবে অতি সহজে।

সৌর বিদ্যুৎ চালিত সেচ পাম্প স্থাপন করায় সারাবছর ধরে সব ধরণের ফসল ফলানো যাবে। এতে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবেন কৃষক। এলাকার শতাধিক কৃষক এই পাম্পের অনুকূলে রয়েছে। বিএমডিএর পীরগঞ্জ জোন-সহকারী প্রকৌশলী জামিনুর রহমান বলেন, উপজেলায় ৪ টি সৌরবিদ্যুৎ চালিত এলএলপি পাম্প রয়েছে, প্রতিটি সেচ পাম্পে সর্বোচ্চ ১৫ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। সূর্যের আলো কমে আসার সঙ্গে সঙ্গে পাম্পের শক্তিও কমে আসে । এই পাম্পে নবায়নযোগ্য জ্বালানি সৌরশক্তি ব্যাবহারের ফলে বিদ্যুৎ এর জাতীয় উৎপাদনের উপর নির্ভরশীলতা কমবে। ফলে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবেন কৃষক। তিনি আরও বলেন- গভীর নলকূপে পানি তুলে সেচ দেয়ায় বরেন্দ্র অঞ্চলের ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর প্রতিনিয়ত নিচে নামছে। তাই বিকল্প হিসাবে সৌর বিদ্যুৎ দিয়ে ভাসমান সেচ পাম্প এখন কৃষকের বন্ধু হিসেবে পাশে থাকবে এবং এটিই হবে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি।