গাইবান্ধার প্রত্যান্ত অঞ্চলে যেনো বর্ষায় জ্বলছে গ্রীষ্মের দাবদাহ। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে বিদ্যুৎ বিভ্রাট। ঘন ঘন লোডসেডিংয়ের কবলে নাভিশ্বাস হয়ে ওঠেছে মানুষেরা। এ থেকে কিছুটা রেহাই পেয়ে হাতপাখার সন্ধানে ছুটছেন তারা। সকল পেশা-শ্রেণির মানুষের কাছে এখন কদর বেড়েছে তালপাতা ও সুতোর তৈরী হাতপাখার।
বুধবার (৬ জুলাই) বিকেলে গাইবান্ধা শহরের নতুন বাজারে দেখা যায়, মানুষদের হাতপাখা কেনার ভিড়। আগে যেসব পাখা ৩০ টাকায় বিক্রি হতো, এখন সেইসব পাখা ৫০-৬০ দামে কিনতে হচ্ছে গ্রাহকদের।
জানা যায়, এক সময়ে ঘরে ঘরে ছিলো না বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা। সেই সময়ের মানুষদের গরম থেকে স্বস্তি পেতে হাতপাখায় ভরসা ছিলো। এরই মধ্যে শতভাগ বিদ্যুৎ নিশ্চিত হওয়ায় বিলুপ্তি হতে চলছিলো হাতপাখাগুলো। প্রত্যেক বাসা-বাড়িতে রয়েছে বৈদ্যুতিক পাখা। কেউ কেউ ব্যবহার করতেন এসি। তাই কর্মস্থলসহ বাড়িতেই গরম থেকে স্বস্তি পেয়েছিলেন সবাই। কিন্তু বিধিবাম! শতভাগ বিদ্যুৎ সংযোগ থাকলেও ৬০ ভাগ বিদ্যুতও মিলছে না বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানসহ বাসা-বাড়িগুলোতে। সম্প্রতি অতিরিক্ত লোডসেডিং বেড়েছে। ফলে মারাত্নকভাবে ব্যাহত হচ্ছে মানুষের জীবনযাত্র। ক্ষতির মুখে পড়েছে বিদ্যুৎ চালিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো। এমন কি তীব্র গরমে শিক্ষার্থীরাও লেখাপড়ায় আগ্রহ হারাচ্ছে। অনেক শিশুদের দেখা দিয়েছে ডায়রিয়াসহ নানা রোগ-বালাই।
বিদ্যমান পরিস্থিতিতে আবারও বাড়ছে সেই হাতপাখার প্রচলন। অনেকে পেশা হিসেবে দোকান কিংবা ফেরি করে হাতপাখা বিক্রিতে নেমেছেন। বিদ্যুতের ভেল্কীবাজীতে তুঙ্গে উঠেছে তাদের এই ব্যবসাটি। পাখা তৈরী কারিগরদেরও বেড়েছে চরম ব্যস্ততা। বর্তমান চাহিদার তুলনায় পাইকারদের কাছে অপ্রতুল রয়েছে। আর গরমে অতিষ্ট মানুষেরা হাতপাখা কিনতে হিড়িক ফেলেছেন।
হাতপাখা কিনতে আসা সৈয়দা সুলতানা বলেন, কয়েকদনি ধরে বিদ্যুতের অতিরিক্ত লোডসেডিংয়ের ফলে থমকে গেছে জীবনযাত্রা। শিশু সন্তান ও পরিবার নিয়ে অসহ্য গরমে অতিষ্ট। তাই ক্ষণিকের জন্য স্বস্তি পেতে ৫৫ টাকা দিয়ে একটি পাখা কেনা হলো। তবে এই পাখা আগে ৩০ টাকায় পাওয়া যেতো।
গাইবান্ধা শহরের নতুন বাজারের হাতাপাখা বিক্রিতা জহুরুল ইসলাম জানান, অন্যান্য পণ্যসামগ্রী বিক্রির পাশাপাশি হাতপাখা বিক্রি শুরু করেছেন। তার দোকানে তালপাতা, বাঁশ ও সুতোর তৈরী পাখা রয়েছে। প্রকার ভেদে প্রত্যেকটি পাখা ৫০-৬০ টাকা দামে বিক্রি করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে আগের তুলনায় বেশী বিক্রি হচ্ছে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে নেসকো বিদ্যুৎ বিভাগ গাইবান্ধা-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী এমদাদুল হক জানান, নানা কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গেছে। এ কারনে লোডসেডিং দেওয়া হচ্ছে। উৎপাদন বাড়াতে সরকারের পক্ষ থেকে চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
তোফায়েল হোসেন জাকির 














