শনিবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৩:২১ পূর্বাহ্ন

পিঁয়াজুর স্বাদে তরুণীরা ছুটে জলিলের দোকানে

স্টাফ করেসপন্ডেন্টে, জাগো২৪.নেট
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ১৫ জানুয়ারী, ২০২৩

আব্দুল জলিল (৬২)। নিভৃত গ্রামে বসবাস। যুবক বয়স থেকে দরিদ্রের সাথে সংগ্রাম। জীবিকার তাগিদে নানা পেশা শেষে বেচে নেন ডাল পিঁয়াজুর ক্ষুদ্র ব্যবসা। আগুন-তেলে নিজ হাতে তৈরী করেন পিঁয়াজু। ডাল আর মরিচ-পেঁয়াজে মিশ্রিত এই পিঁয়াজু এখন সবার কাছে প্রিয় হয়ে ওঠেছে। সকাল-বিকেল হলেই জলিলের পিঁয়াজুর স্বাদ নিতে দলবেঁধে ছুটে চলেন তরুণ-তরুণীরা। মচমচে এই পিঁয়াজু খেয়ে মাতোয়ারা হয়ে ওঠে তারা।

এই আব্দুল জলিলের বাড়ি গাইবান্ধা সাদুল্লাপুর উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের তাহেরপুর গ্রামে। এ গ্রামের মৃত বয়েজ উদ্দিনের ছেলে। বর্তমানে জামালপুর ইউনিয়নের বুজরুক রসুলপুর বাজারপাড়া নামকস্থানে তার পিঁয়াজুর দোনকানটি লক্ষ্য করা গেছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে জলিলের দোকানে দেখা যায় যুবক-যুবতীসহ সকল বয়সের মানুষের ভিড়। সবাই এসেছেন তার তৈরী করা ডাল পিঁয়াজু খেতে। একজোড়া পিঁয়াজুর দাম নেওয়া হচ্ছে মাত্র ৫ টাকা। পিঁয়াজু প্রেমিরা কেউ কেউ দাঁড়িয়ে থেকে খাচ্ছেন আবার অনেকে পরিবারের জন্য বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন।

স্থানীয়রা জানান, প্রায় ২০ বছর ধরে এই পিঁয়াজু বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছেন জলিল। একসময়ে ফেরি করে গ্রামে-গ্রামে বিক্রি করতেন। এখন বার্ধক্য বয়সের কারণে হাটে-বাজারে বসে নিজ হাতে পিঁয়াজু ভেজে তা বিক্রি করছেন। এ দিয়েই জীবিকা নির্বাহ তার।

সাগর মিয়া নামের এক যুবক জাগো২৪.নেট-কে বলেন, জলিল চাচার দোকানের গরম গরম পিঁয়াজু খেতে বেশ সুস্বাদু। সকাল-বিকেলের নাস্তা হিসেবে তার দোকানে পিঁয়াজু কিনে থাকি। যা অনেকটাই মজাদার ও লোভনীয় খাবার এটি।

মরিয়ম বেগম নামের এক নারী জাগো২৪.নেট-কে বলেন, যে কোন খাবারের স্বাদ বৃদ্ধিতে ডাল পিঁয়াজুর জুড়ি নেই। ভাত, মুড়ি ও অন্যান্য নাস্তার সঙ্গে অত্যান্ত মজাদার জলিল ভাইয়ের পিঁয়াজু।

এ বিষয়ে আব্দুল জলিল জাগো২৪.নেট-কে জানান, জীবিকার তাগিদে প্রায় ২০ বছর ধরে এই ব্যবসা করে আসছেন। বর্তমান শীতে গরম পিঁয়াজুর চাহিদা বেশী হওয়ায় প্রত্যেকদিন প্রায় ৫শ থেকে ৬শ টাকা বিক্রি করেন। এতে যেটুকু লাভ হয় তা দিয়ে চলে সংসার।

তিনি আরও বলেন, আমি পিঁয়াজুর পাশাপাশি সিঙ্গারাও তৈরী করি। এটিরও বেশ কদর রয়েছে। কিন্তু পূঁজি সংকটের কারণে গ্রাহকের চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। এ বিষয়ে কেউ যদি আর্থিক সহযোগিতা করতেন তাহলে এই ব্যবসায় স্বাবলম্বী হতে পারতাম।

এ বিষয়ে ফরিদপুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান আল মামুন মন্ডল মিলন জাগো২৪.নেট-কে বলেন, জলিল চাচা বেশ কয়েক বছর ধরে পিঁয়াজুর ব্যবসা করেন। পরিষদের পক্ষ থেকে মাঝে মধ্যে তাকে সুবিধা দেওয়া হয়।

শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | জাগো২৪.নেট

কারিগরি সহায়তায় : শাহরিয়ার হোসাইন