শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চিরিরবন্দরে  বাবা-মেয়েকে হত্যা মামলায় তিনজনের যাবজ্জীবন 

দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে চাঞ্চল্যকর পিতা ও মেয়েকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা মামলায় ২৮ বছর পর ৩ আসামীর যাবজ্জীবন কারাদন্ডাদেশ দিয়েছে বিজ্ঞ আদালত। একইসঙ্গে ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সশ্রম কারাদন্ডাদেশ দিয়েছে। একই মামলার অন্য একটি ধারায় (পেনাল কোড ৪৩৬/৩৪) তিন আসামিকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরো ২ মাসের সশ্রম কারাদন্ডাদেশ দেন বিচারক। উভয় ধারার সাজা একসঙ্গে কার্যকর হবে বলেও জানিয়েছে আদালত।
গত ৩০ মার্চ বৃহস্পতিবার দুপুরে দিনাজপুর অতিরিক্ত দায়রা জজ-২ আদালতের বিচারক শ্যাম সুন্দর রায় এই রায়ের আদেশে প্রদান করেন।
দন্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- চিরিরবন্দর উপজেলার আব্দুলপুর ইউনিয়নের নান্দেড়াই গ্রামের ভজুপাড়া এলাকার মৃত আফাজউদ্দিন শাহর ছেলে মফিলউদ্দিন শাহ (৬৮), মফিলউদ্দিন শাহর ছেলে হামিদুল হক (৪৮) ও একই এলাকার মৃত আজিমুদ্দিনের ছেলে বাবুল হোসেন (৫৫)।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা গেছে, পারিবারিক একটি মামলায় স্বাক্ষী দেয়ার কারণে ১৯৯৫ সালের ৫ এপ্রিল পূর্ব শত্রুতার জের ধরে উপজেলার নান্দেড়াই গ্রামের ভজুপাড়ায় গভীর রাতে ঘুমন্ত আব্দুল হকের বাড়িসহ পাড়ার প্রতিটি বাড়িতে আসামিরা বাড়ির দরজা বাইরে থেকে আটকে দিয়ে তারকাটা দিয়ে বেঁধে দিয়ে আব্দুল হকের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। এসময় তার পড়নের কাপড়ে আগুন লাগাবস্থায় আগুনের লেলিহান শিখার ভয়াবহতা দেখে বাঁচার আপ্রাণ চেষ্টা চালায় আব্দুল হক। উপায়ন্তর না পেয়ে ঘরের দরজা ভেঙ্গে বের হতে পারলেও বাড়ির বাইরের দরজা খুলে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। ওই দরজাও বাহির হতে লাগানো থাকায় একটি মাটির দেয়াল টপকিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন তিনি। সে চেষ্টাও বিফল হলে বাড়ির ভেতরে দেয়ালের ধারে আব্দুল হক আগুনে পুড়ে মারা যান ও তার মেয়ে রশিদা খাতুনের কাপড়ে আগুনে পুড়ে গিয়ে পুরো পিঠ দগ্ধ হয়। চিকিৎসাধীন থাকাবস্থায় কয়েকদিন পরে দিনাজপুর সদর হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করে রশিদা খাতুন। আসামিরা আব্দুল হকের বাড়ির পাশে তার ছেলেদের বাড়ির দরজাও বাহির থেকে আটকে দিয়ে অগ্নিসংযোগ করে এবং প্রতিবেশি আতিকুর রহমানসহ সকলের বাড়ির দরজা বাহির হতে আটকিয়ে দেয়। যাতে কেউ আগুন নেভানোর জন্য বাড়ি থেকে বের হতে না পারেন। এই নির্মম, নৃশংস হত্যা ও অগ্নিকান্ডের অভিযোগে পরদিন নিহতের বড় ছেলে এন্তাজুল হক বাদী হয়ে চিরিরবন্দর থানায় মামলা দায়ের করেন।
এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে মৃত আব্দুল হকের ছেলে আব্দুর রশিদসহ পরিবারের সদস্যরা জানান, অনেক বিলম্বে হলেও আমরা ন্যায়বিচার পেয়েছি। অনেক হুমকি-ধামকি উপেক্ষা করে মামলা চালিয়ে ছিলাম।
দিনাজপুর আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এডভোকেট রবিউল ইসলাম রবি এবং আদালতের পুলিশ পরিদর্শক রাজ্জাকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আসামীদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
জনপ্রিয়

চিরিরবন্দরে  বাবা-মেয়েকে হত্যা মামলায় তিনজনের যাবজ্জীবন 

প্রকাশের সময়: ০৪:২৬:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ মার্চ ২০২৩
দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে চাঞ্চল্যকর পিতা ও মেয়েকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা মামলায় ২৮ বছর পর ৩ আসামীর যাবজ্জীবন কারাদন্ডাদেশ দিয়েছে বিজ্ঞ আদালত। একইসঙ্গে ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সশ্রম কারাদন্ডাদেশ দিয়েছে। একই মামলার অন্য একটি ধারায় (পেনাল কোড ৪৩৬/৩৪) তিন আসামিকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরো ২ মাসের সশ্রম কারাদন্ডাদেশ দেন বিচারক। উভয় ধারার সাজা একসঙ্গে কার্যকর হবে বলেও জানিয়েছে আদালত।
গত ৩০ মার্চ বৃহস্পতিবার দুপুরে দিনাজপুর অতিরিক্ত দায়রা জজ-২ আদালতের বিচারক শ্যাম সুন্দর রায় এই রায়ের আদেশে প্রদান করেন।
দন্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- চিরিরবন্দর উপজেলার আব্দুলপুর ইউনিয়নের নান্দেড়াই গ্রামের ভজুপাড়া এলাকার মৃত আফাজউদ্দিন শাহর ছেলে মফিলউদ্দিন শাহ (৬৮), মফিলউদ্দিন শাহর ছেলে হামিদুল হক (৪৮) ও একই এলাকার মৃত আজিমুদ্দিনের ছেলে বাবুল হোসেন (৫৫)।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা গেছে, পারিবারিক একটি মামলায় স্বাক্ষী দেয়ার কারণে ১৯৯৫ সালের ৫ এপ্রিল পূর্ব শত্রুতার জের ধরে উপজেলার নান্দেড়াই গ্রামের ভজুপাড়ায় গভীর রাতে ঘুমন্ত আব্দুল হকের বাড়িসহ পাড়ার প্রতিটি বাড়িতে আসামিরা বাড়ির দরজা বাইরে থেকে আটকে দিয়ে তারকাটা দিয়ে বেঁধে দিয়ে আব্দুল হকের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। এসময় তার পড়নের কাপড়ে আগুন লাগাবস্থায় আগুনের লেলিহান শিখার ভয়াবহতা দেখে বাঁচার আপ্রাণ চেষ্টা চালায় আব্দুল হক। উপায়ন্তর না পেয়ে ঘরের দরজা ভেঙ্গে বের হতে পারলেও বাড়ির বাইরের দরজা খুলে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। ওই দরজাও বাহির হতে লাগানো থাকায় একটি মাটির দেয়াল টপকিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন তিনি। সে চেষ্টাও বিফল হলে বাড়ির ভেতরে দেয়ালের ধারে আব্দুল হক আগুনে পুড়ে মারা যান ও তার মেয়ে রশিদা খাতুনের কাপড়ে আগুনে পুড়ে গিয়ে পুরো পিঠ দগ্ধ হয়। চিকিৎসাধীন থাকাবস্থায় কয়েকদিন পরে দিনাজপুর সদর হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করে রশিদা খাতুন। আসামিরা আব্দুল হকের বাড়ির পাশে তার ছেলেদের বাড়ির দরজাও বাহির থেকে আটকে দিয়ে অগ্নিসংযোগ করে এবং প্রতিবেশি আতিকুর রহমানসহ সকলের বাড়ির দরজা বাহির হতে আটকিয়ে দেয়। যাতে কেউ আগুন নেভানোর জন্য বাড়ি থেকে বের হতে না পারেন। এই নির্মম, নৃশংস হত্যা ও অগ্নিকান্ডের অভিযোগে পরদিন নিহতের বড় ছেলে এন্তাজুল হক বাদী হয়ে চিরিরবন্দর থানায় মামলা দায়ের করেন।
এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে মৃত আব্দুল হকের ছেলে আব্দুর রশিদসহ পরিবারের সদস্যরা জানান, অনেক বিলম্বে হলেও আমরা ন্যায়বিচার পেয়েছি। অনেক হুমকি-ধামকি উপেক্ষা করে মামলা চালিয়ে ছিলাম।
দিনাজপুর আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এডভোকেট রবিউল ইসলাম রবি এবং আদালতের পুলিশ পরিদর্শক রাজ্জাকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আসামীদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।