শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আশ্রয়ণের মসজিদে নামাজ আদায়ে চরম ভোগান্তিতে মুসল্লী

দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে আশ্রয়নের মসজিদে নামাজ আদায়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন মসজিদের মুসল্লীরা।
জানা গেছে, প্রায় ৩০ বছর পূর্বে তৎকালীন সরকার ৫০টি পরিবারের জন্য উপজেলার ইসবপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ নগর গ্রামে ইয়াকুবপুর বালাডাঙ্গা এলাকায় আশ্রয়ণ প্রকল্প করে দেয়। বর্তমানে ওই আশ্রয়ণে আড়াই শতাধিক মানুষ বসবাস করেন। শতাধিক মুসল্লী ৫৫ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৩০ ফুট প্রস্থ একটি টিনশেড মসজিদে নিয়মিত নামাজ আদায় করছেন। আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দা ও ওই মসজিদের মুসল্লী হাসান আলী বলেন, আশ্রয়ণের ঘরে ওঠার পর থেকেই আমরা নামাজ আদায়ে ভোগান্তির মধ্যে রয়েছি। মসজিদ নির্মাণের জন্য কোনো জায়গা-জমি ছিল না। আশ্রয়ণ থেকে অন্তত তিন কিলোমিটার দূরে একটি মসজিদ রয়েছে। সেখানে নামাজ আদায়ের জন্য আমাদের যেতে হতো। বছরখানেক আগে আশ্রয়ণের পাশেই শাহাজাহান আলী নামে স্কুলশিক্ষক মসজিদের জন্য জমি দান করেছেন। এরপর নিজেরাই অর্থ সহায়তা দিয়ে একটি টিনশেডের মসজিদ তৈরি করা হয়েছে। আমরা সবাই দিনমজুরি করে সংসার চালাই। মসজিদের জন্য মাইক-ফ্যান ও প্রয়োজনীয় সংস্কার করার জন্য টিন ক্রয়ের সামর্থও আমাদের নেই।
মোকসেদ আলী নামে আরেক মুসল্লী বলেন, মসজিদটি তৈরি করা হলেও মাইক ও ফ্যান না থাকায় গরমে খুব কষ্ট করে তারাবির নামাজসহ সকল নামাজ আদায় করতে হচ্ছে। ঘড়ি দেখে আজান ও সালাত আদায় করতে হয় মুসল্লীদের।
মসজিদের ঈমাম মাওলানা মো. জিয়াউর রহমান বলেন, মসজিদে একটা মাইক জরুরি প্রয়োজন। কারণ লোকেরা মাইকের আজান শুনে নামাজ আদায় করতে আসেন। কিন্তু এ মসজিদে একটা মাইকও নেই। অনেক মানুষ জামাতের সাথে নামাজ  আদায় করতে আসেন। মসজিদে ফ্যান না থাকায় তারাবি ও জুম্মার নামাজ খুব কষ্টে পড়তে হয়।
মসজিদের সভাপতি শাহাজাহান আলী বলেন, সকলের সহযোগিতায় টিন দিয়ে আপাতত মসজিদটি তৈরি করা হয়েছে। আশ্রয়ণের মানুষ তো দিন আনে দিন খায়। মসজিদের মাইক ও ফ্যানের টাকা তাদের কাছে চাইতেই বিবেকে বাঁধা দেয়।
উপজেলার ঈসবপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবু হায়দার লিটন বলেন, বালাডাঙ্গা আশ্রয়ণসহ আশপাশে মসজিদ না থাকায় সেখানকার মুসল্লীদের নামাজ আদায়ে দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তি হত। পরে এক স্কুলশিক্ষক মসজিদের জন্য জায়গা দিলে স্থানীয় সংসদ সদস্যের বরাদ্দ থেকে ৭০ হাজার টাকা দেয়া হয়েছে। তিনি মসজিদের জন্য মাইক ও কয়েকটি ফ্যান ক্রয়ের জন্য স্থানীয় মুসল্লী ও প্রশাসনসহ বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহবান জানান।
জনপ্রিয়

আশ্রয়ণের মসজিদে নামাজ আদায়ে চরম ভোগান্তিতে মুসল্লী

প্রকাশের সময়: ০৫:০২:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ এপ্রিল ২০২৩
দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে আশ্রয়নের মসজিদে নামাজ আদায়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন মসজিদের মুসল্লীরা।
জানা গেছে, প্রায় ৩০ বছর পূর্বে তৎকালীন সরকার ৫০টি পরিবারের জন্য উপজেলার ইসবপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ নগর গ্রামে ইয়াকুবপুর বালাডাঙ্গা এলাকায় আশ্রয়ণ প্রকল্প করে দেয়। বর্তমানে ওই আশ্রয়ণে আড়াই শতাধিক মানুষ বসবাস করেন। শতাধিক মুসল্লী ৫৫ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৩০ ফুট প্রস্থ একটি টিনশেড মসজিদে নিয়মিত নামাজ আদায় করছেন। আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দা ও ওই মসজিদের মুসল্লী হাসান আলী বলেন, আশ্রয়ণের ঘরে ওঠার পর থেকেই আমরা নামাজ আদায়ে ভোগান্তির মধ্যে রয়েছি। মসজিদ নির্মাণের জন্য কোনো জায়গা-জমি ছিল না। আশ্রয়ণ থেকে অন্তত তিন কিলোমিটার দূরে একটি মসজিদ রয়েছে। সেখানে নামাজ আদায়ের জন্য আমাদের যেতে হতো। বছরখানেক আগে আশ্রয়ণের পাশেই শাহাজাহান আলী নামে স্কুলশিক্ষক মসজিদের জন্য জমি দান করেছেন। এরপর নিজেরাই অর্থ সহায়তা দিয়ে একটি টিনশেডের মসজিদ তৈরি করা হয়েছে। আমরা সবাই দিনমজুরি করে সংসার চালাই। মসজিদের জন্য মাইক-ফ্যান ও প্রয়োজনীয় সংস্কার করার জন্য টিন ক্রয়ের সামর্থও আমাদের নেই।
মোকসেদ আলী নামে আরেক মুসল্লী বলেন, মসজিদটি তৈরি করা হলেও মাইক ও ফ্যান না থাকায় গরমে খুব কষ্ট করে তারাবির নামাজসহ সকল নামাজ আদায় করতে হচ্ছে। ঘড়ি দেখে আজান ও সালাত আদায় করতে হয় মুসল্লীদের।
মসজিদের ঈমাম মাওলানা মো. জিয়াউর রহমান বলেন, মসজিদে একটা মাইক জরুরি প্রয়োজন। কারণ লোকেরা মাইকের আজান শুনে নামাজ আদায় করতে আসেন। কিন্তু এ মসজিদে একটা মাইকও নেই। অনেক মানুষ জামাতের সাথে নামাজ  আদায় করতে আসেন। মসজিদে ফ্যান না থাকায় তারাবি ও জুম্মার নামাজ খুব কষ্টে পড়তে হয়।
মসজিদের সভাপতি শাহাজাহান আলী বলেন, সকলের সহযোগিতায় টিন দিয়ে আপাতত মসজিদটি তৈরি করা হয়েছে। আশ্রয়ণের মানুষ তো দিন আনে দিন খায়। মসজিদের মাইক ও ফ্যানের টাকা তাদের কাছে চাইতেই বিবেকে বাঁধা দেয়।
উপজেলার ঈসবপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবু হায়দার লিটন বলেন, বালাডাঙ্গা আশ্রয়ণসহ আশপাশে মসজিদ না থাকায় সেখানকার মুসল্লীদের নামাজ আদায়ে দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তি হত। পরে এক স্কুলশিক্ষক মসজিদের জন্য জায়গা দিলে স্থানীয় সংসদ সদস্যের বরাদ্দ থেকে ৭০ হাজার টাকা দেয়া হয়েছে। তিনি মসজিদের জন্য মাইক ও কয়েকটি ফ্যান ক্রয়ের জন্য স্থানীয় মুসল্লী ও প্রশাসনসহ বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহবান জানান।