শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সুন্দরগঞ্জে ইউপি চেয়ারম্যান ও সচিবের বিরুদ্ধে অভিযোগ

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার  শ্রীপুর  ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম  মুকুল ও সচিব মিজানুর রহমানের  বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্ণীতির অভিযোগ উঠেছে।

রোববার ( ১৬ এপ্রিল) গাইবান্ধা  জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগে লিখিত অভিযোগ দাখিল করে ওই পরিষদের ১০ জন সদস্য।

অভিযোগ পত্রে জানা যায়, সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ১৩নং শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আজহারুল ইসলাম মুকুল ও সচিব মোঃ মিজানুর রহমান দীর্ঘদিন থেকে যোগসাজশে অনিয়ম ও দুর্ণীতি করে আসছে।  এনজিও কর্তৃক শুধু চারটি ষ্টান্ডিং কমিটি গঠন ছাড়া এখন পর্যন্ত বাকি ৯ টি স্টান্ডিং কমিটি গঠন করেননি। যে কারনে জনগণের কাছ থেকে আদায়কৃত ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্স এর টাকা কোন হিসাব-নিকাশ না করে সচিব ও চেয়ারম্যান যোগসাজসে  আত্মসাৎ করেন। যা এখন পর্যন্ত কোন রেজুলেশনের মাধ্যমে সদস্যদের  অবগত করা হয়নি।

এছাড়াও ২০২২-২৩ অর্থ বছরের মাতৃকালীন ভাতা ইউপি সদস্যদের না জানিয়ে রেজুলেশন ছাড়া সচিব ও  চেয়ারম্যান নিজের ইচ্ছায় সংশ্লিষ্ট অফিসে জমা দিয়েছেন। একই অর্থ বছরের উন্নয়ন সহায়তা তহবিল ওয়ার্ড সভা এবং সদস্যদের রেজুলেশন ছাড়া প্রকল্প জমা দিয়েছেন।

দায়েরকৃত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ২০২০ সালেন ৯ মার্চ  ইউনিয়ন উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের বরাদ্দকৃত ৬ লাখ ২১ হাজার ২০০ টাকার বরাদ্দ কম্পিউটার থেকে ডাউনলোড করে সচিব মিজানুর রহমান  প্যানেল চেয়ারম্যানকে স্বাক্ষর করতে বলেন। প্যানেল চেয়ারম্যান মামুনুর রশিদ ইউপি সদস্যদের  সাথে আলোচনা না করে স্বাক্ষর  করতে অপারগতা প্রকাশ করলে সচিব ও চেয়ারম্যানের নিজস্ব ব্যক্তি অহেদুল ইসলাম (সাদা) এর কাছ থেকে চেয়ারম্যানের জাল  সাক্ষর নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসে জমা দেয়। ওই সময় চেয়ারম্যান  পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে দেশ ত্যাগ করেন, যা তার পার্সপোর্ট ও ভিসা দেখলে বিষয়টির সত্যতা পাওয়া যাবে।

এছাড়াও বিগত দিনের উদ্যোক্তাকে বাদ দিয়ে নতুন অযোগ্য অদক্ষ উদ্যোক্তা নিয়োগ দেন এবং চেয়ারম্যানের  নিজস্ব লোক আতিকুর রহমানকে উদ্যোক্তার অফিসে বসান। সে হরহামেশায় বিভিন্ন ব্যক্তির স্বাক্ষর জাল করে থাকেন। এছাড়াও সাধারণ জনগণ ও ইউপি সদস্যদের সাথে খারাপ আচরণ করাসহ সিমাহীন অনিয়ম-দুর্ণীতির অভিযোগ উঠেছে অত্র পরিষদের চেয়ারম্যান ও সচিবের বিরুদ্ধে।  করেন।  ইউনিয়ন পরিষদের বরাদ্দকৃত হাট-বাজারের ১%, ১০% বরাদ্দ ইউপি সদস্য/সদস্যাদের সাথে আলোচনা না করেই চেয়ারম্যান নিজে ইচ্ছামত বন্ঠন করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এসব তথ্য নিশ্চিত করে অভিযোগকারীদের মধ্যে শহিদুল ইসলাম নামের ইউপি সদস্য বলেন, চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম ও সচিব মিজানুর রহমান পরিষদের কোন বিষয় সিদ্ধান্ত নিতে সদস্যদের জানানো হয় না। যার কারণে পরিষদের বিভিন্ন ফান্ডের অর্থ আত্নসাত করাসহ নানাবিধ অনিয়ম-দুর্ণীতি করেছ তারা।

শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সচিব মিজানুর রহমান এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, পরিষদের নিময় অনুযায়ী সব কিছু ঠিকঠাক রয়েছে।

এ বিষয়ে শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম বলেন, আমার বিরুদ্ধে শুধু জেলা প্রশাসক নয়, সয়ং প্রধানমন্ত্রীকেও অভিযেগ দিলে সেটি তদন্তে সত্য-মিথ্যা প্রমাণিত হবে।

গাইবান্ধা স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ পরিচালক শরিফুল ইসলাম সংবাদকর্মীদের বলেন, এ ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।

জনপ্রিয়

সুন্দরগঞ্জে ইউপি চেয়ারম্যান ও সচিবের বিরুদ্ধে অভিযোগ

প্রকাশের সময়: ০৮:৪১:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৩

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার  শ্রীপুর  ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম  মুকুল ও সচিব মিজানুর রহমানের  বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্ণীতির অভিযোগ উঠেছে।

রোববার ( ১৬ এপ্রিল) গাইবান্ধা  জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগে লিখিত অভিযোগ দাখিল করে ওই পরিষদের ১০ জন সদস্য।

অভিযোগ পত্রে জানা যায়, সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ১৩নং শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আজহারুল ইসলাম মুকুল ও সচিব মোঃ মিজানুর রহমান দীর্ঘদিন থেকে যোগসাজশে অনিয়ম ও দুর্ণীতি করে আসছে।  এনজিও কর্তৃক শুধু চারটি ষ্টান্ডিং কমিটি গঠন ছাড়া এখন পর্যন্ত বাকি ৯ টি স্টান্ডিং কমিটি গঠন করেননি। যে কারনে জনগণের কাছ থেকে আদায়কৃত ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্স এর টাকা কোন হিসাব-নিকাশ না করে সচিব ও চেয়ারম্যান যোগসাজসে  আত্মসাৎ করেন। যা এখন পর্যন্ত কোন রেজুলেশনের মাধ্যমে সদস্যদের  অবগত করা হয়নি।

এছাড়াও ২০২২-২৩ অর্থ বছরের মাতৃকালীন ভাতা ইউপি সদস্যদের না জানিয়ে রেজুলেশন ছাড়া সচিব ও  চেয়ারম্যান নিজের ইচ্ছায় সংশ্লিষ্ট অফিসে জমা দিয়েছেন। একই অর্থ বছরের উন্নয়ন সহায়তা তহবিল ওয়ার্ড সভা এবং সদস্যদের রেজুলেশন ছাড়া প্রকল্প জমা দিয়েছেন।

দায়েরকৃত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ২০২০ সালেন ৯ মার্চ  ইউনিয়ন উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের বরাদ্দকৃত ৬ লাখ ২১ হাজার ২০০ টাকার বরাদ্দ কম্পিউটার থেকে ডাউনলোড করে সচিব মিজানুর রহমান  প্যানেল চেয়ারম্যানকে স্বাক্ষর করতে বলেন। প্যানেল চেয়ারম্যান মামুনুর রশিদ ইউপি সদস্যদের  সাথে আলোচনা না করে স্বাক্ষর  করতে অপারগতা প্রকাশ করলে সচিব ও চেয়ারম্যানের নিজস্ব ব্যক্তি অহেদুল ইসলাম (সাদা) এর কাছ থেকে চেয়ারম্যানের জাল  সাক্ষর নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসে জমা দেয়। ওই সময় চেয়ারম্যান  পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে দেশ ত্যাগ করেন, যা তার পার্সপোর্ট ও ভিসা দেখলে বিষয়টির সত্যতা পাওয়া যাবে।

এছাড়াও বিগত দিনের উদ্যোক্তাকে বাদ দিয়ে নতুন অযোগ্য অদক্ষ উদ্যোক্তা নিয়োগ দেন এবং চেয়ারম্যানের  নিজস্ব লোক আতিকুর রহমানকে উদ্যোক্তার অফিসে বসান। সে হরহামেশায় বিভিন্ন ব্যক্তির স্বাক্ষর জাল করে থাকেন। এছাড়াও সাধারণ জনগণ ও ইউপি সদস্যদের সাথে খারাপ আচরণ করাসহ সিমাহীন অনিয়ম-দুর্ণীতির অভিযোগ উঠেছে অত্র পরিষদের চেয়ারম্যান ও সচিবের বিরুদ্ধে।  করেন।  ইউনিয়ন পরিষদের বরাদ্দকৃত হাট-বাজারের ১%, ১০% বরাদ্দ ইউপি সদস্য/সদস্যাদের সাথে আলোচনা না করেই চেয়ারম্যান নিজে ইচ্ছামত বন্ঠন করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এসব তথ্য নিশ্চিত করে অভিযোগকারীদের মধ্যে শহিদুল ইসলাম নামের ইউপি সদস্য বলেন, চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম ও সচিব মিজানুর রহমান পরিষদের কোন বিষয় সিদ্ধান্ত নিতে সদস্যদের জানানো হয় না। যার কারণে পরিষদের বিভিন্ন ফান্ডের অর্থ আত্নসাত করাসহ নানাবিধ অনিয়ম-দুর্ণীতি করেছ তারা।

শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সচিব মিজানুর রহমান এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, পরিষদের নিময় অনুযায়ী সব কিছু ঠিকঠাক রয়েছে।

এ বিষয়ে শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম বলেন, আমার বিরুদ্ধে শুধু জেলা প্রশাসক নয়, সয়ং প্রধানমন্ত্রীকেও অভিযেগ দিলে সেটি তদন্তে সত্য-মিথ্যা প্রমাণিত হবে।

গাইবান্ধা স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ পরিচালক শরিফুল ইসলাম সংবাদকর্মীদের বলেন, এ ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।