খোরশেদ আলম: দেশের মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণের দাবিতে গাইবান্ধার বেশকিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (এমপিওভূক্ত) পাঠদান বন্ধ করেছে শিক্ষকেরা। এছাড়া কোন কোন বিদ্যালয়ের শ্রেণি কক্ষে ঝুলানো হয়েছে তালা। এভাবে কর্ম বিরতী পালন করছে আন্দোলনকারীরা।
বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির ডাকে মঙ্গলবার (১৮ জুলাই) সকাল ১১ টার দিকে গাইবান্ধা সদরের ঘাগোয়া এমবি উচ্চ বিদ্যালয়ে দেখা গেছে- পাঠদান বন্ধ রাখার চিত্র। এসময় প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকরা কর্মবিরতী করলে শিক্ষার্থীরা পাঠগ্রহণ করতে এসে ফিরে গেছে বাড়িতে। একই দৃশ্য দেখা যায় সাদুল্লাপুর বহুমুখী পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে। এখানে শ্রেণি কক্ষে তালা ঝুলিয়ে ওই কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষকেরা।
জানা যায়, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির ডাকে দেশের মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণের দাবিতে ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে বেশ কয়েকদিন ধরে অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে শিক্ষক-কর্মচারীরা। এরই অংশ হিসেবে গাইবান্ধা জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বেশ কিছু মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একই কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছে। এছাড়া ক্লাস বন্ধ রেখে অনেক শিক্ষক যোগ দিচ্ছেন ঢাকার কর্মসূচিতে। আন্দোলনকারী শিক্ষকেরা বলছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা এই কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।
দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সিয়াম মিয়া বলে, প্রতিদিনের মতো আজ স্কুলে এসে দেখি সকল স্যারের একত্রে হয়ে দাঁড়িয়ে ও বসে আছেন। ক্লাস রুমে তালা লাগনো হয়েছে। কোন পাঠদান না থাকায় বাড়ি ফিরতে হচ্ছে।
তুলশীঘাট কাশিনাথপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান বলেন, সরকারি বিদ্যালয়ের মতো আমাদের এমপিওভূক্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলো শিক্ষার মনোন্নয়নে এগিয়ে যাচ্ছে। তাই বেতন-ভাতা বৈষম্য কাম্য নয়। আমিও চাই দেশের সকল মাধ্যমিক বিদ্যালয় সরকারিকরণ হোক।
সাদুল্লাপুর উপজেলা প্রধান শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এনশাদ আলী বলেন, জাতীয়করণের দাবিতে এ উপজেলার কিছু সংখ্যাক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্লাস বন্ধ রেখেছে। আমার স্কুলেও পাঠদান বন্ধ করা হয়েছে।
গাইবান্ধা জেলা প্রধান শিক্ষক পরিষদের সভাপতি মাহাবুব আলম বলেন, সমগ্র দেশে এমপিওভূক্ত মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সরকারিকরণের দাবিতে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির ডাকে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। এটি আমাদের যৌক্তিক দাবি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এ কর্মসূচি চলমান থাকবে।
এ ব্যাপারে গাইবান্ধা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোছা. রোকসানা খাতুন বলেন, এ জেলায় মাধ্যমিক পর্যায়ে প্রায় ৬৭৪ টি বিদ্যালয় রয়েছে। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের দাবির বিষয়ে আমার কোন মন্তব্য নেই।
খোরশেদ আলম 















