সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঘাঘটের ভাঙনে মানুষ বাস্তুহারা, নেই নদীশাসন ব্যবস্থা

সাদুল্লাপুরের ২৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ঘাঘটে নেই নদীশাসন ব্যবস্থা

তোফায়েল হোসেন জাকির: গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলা দিয়ে বয়ে গেছে ২৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ঘাঘট নদী। আঁকাবাঁকা নদীর বিভিন্ন স্থানে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। কিন্তু নেই নদীশাসন ব্যবস্থা। ফলে তীরবর্তী মানুষেরা দিনদিন হারাচ্ছে ঘরবাড়ি ফসলী জমি। আর ভাঙন আতঙ্কে অনেকের রাত কাটছে নির্ঘুমে। দীর্ঘ যুগে নদীশাসন ব্যবস্থা না থাকায় এমন ক্ষতি হচ্ছে বলে ভুক্তভোগিদের অভিযোগ।

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে উপজেলার বনগ্রাম, জামালপুর, দামোদরপুর নলডাঙ্গা ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে দেখা গেছে–  নদী ভাঙনের ভয়াবহ দৃশ্য। এসময় ক্ষতিগ্রস্ত ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের মুখে শোনা গেল ভাঙনরোধের নানা দাবিদাওয়ার কথা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আঁকাবাঁকাভাবে বয়ে চলা ঘাঘট নদীটি বনগ্রামের টুনিরচর থেকে শুরু হয়ে নলডাঙ্গার শ্রীরামপুর গিয়ে রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার সীমানায় ঠেকেছে। এখানে একশ্রেণির অসাধু ব্যক্তি অবাধে বালু উত্তোলন বানিজ্য করায় নদী ভাঙন আরও বেশি আকার ধারণ করছে। অথচ ভাঙনরোধে সরকারিভাবে নেওয়া হচ্ছে না পদক্ষেপ। কোন কোন স্থানে জিও ব্যাগ, ব্লক স্থাপন করা হলেও তা টিকসই হচ্ছে না। যার কারণে গত একযুগে সাদুল্লাপুরের ঘাঘট নদীর ভাঙনে সহস্রাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি আবাদী জমি বিলীন হয়েছে। এই নদীর অংশে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধেই আশ্রয় হয়েছে বাস্তুহারা কিছু সংখ্যক পরিবারের। একই সঙ্গে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান চলে গেছে নদীগর্ভে। বর্তমানে শত শত পরিবার নদী ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে।

বিদ্যমান পরিস্থিতে কয়েক যুগেও ঘাঘট নদীশাসন না করায় সিট জামুডাঙ্গা (মুন্সিপাড়া), উত্তর ভাঙ্গামোড় (কুটিপাড়া), জামুডাঙ্গা, টুনিরচরসহ আরও একাধিক স্থানে ভাঙন অব্যাহত। এছাড়া চাঁন্দেরবাজার, মহিষবান্দি, ছোট দাউদপুর, হামিন্দপুর শ্রীরামপুর গ্রামের নদীতীর পরিবারদের দিন কাটছে আতঙ্কে। প্রতি বছরের বন্যা আর নদী ভাঙনে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে অনেকে। কেউ কেউ মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে পথে বসেছে বলে স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে।  

উত্তর ভাঙ্গামোড় (কুটিপাড়া) নামক স্থানের বাসিন্দা ফুল মিয়া, ও বাকী মিয়াসহ আরও অনেকে বলেন, এই মৌজাস্থ ঘাঘটে বাঁক সৃষ্টি হয়েছে। ফলে পানিপ্রবাহ বাঁধাগ্রস্ত হয়ে বেশ কিছু ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি নদীতে বিলীন হচ্ছে। এ স্থানে লুপ কাটিংয়ে গতিপথ সোজা করা হলে নদী ভাঙন থেকে রক্ষাসহ চাষযোগ্য হবে জমি। এ নিয়ে ইউএনও বরাবর আবেদন করেছেন বলেও জানান তারা। 

পাতিল্যাকুড়াচকদাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা খরিপ উদ্দিন জানান, কয়েক বছর আগে ভাঙনে বিলীন হয়েছে তার ঘরবাড়ি। একমাত্র বসতভিটা হারিয়ে তিনি এখন ঠাঁই নিয়েছেন ভাইয়ের বাড়িতে। 

ইতোমধ্যে নদীতে চলে গেছে আবাদী জমি। এখন হুমকির মুখে রয়েছে বসতভিটে। যে কোন মুহূর্তে ভাঙনে বিলীন হতে পারে ঘরবাড়ি। এমন চিন্তায় ঘুম আসে না বলে জানালেন  সিট জামুডাঙ্গা (মুন্সিপাড়া) গ্রামের বাসিন্দা লাল মিয়া, আজিজার নীল মিয়া।   

প্রফুল্য চন্দ্র নামের এক বাসিন্দা বলেন, পূর্বে নদীটি সোজা ছিল কিন্তু ইদেনিং নদী ঘন ঘন বাঁক নিয়েছে। আর মেশিন বসিয়ে আলু উত্তোলন করা ভাঙন আরও বেড়েছে। প্রতি বছরেই নদী ভেঙে ভেঙে আঁকাবাঁকা হয়ে বয়ে যাচ্ছে। আর নদীর পেটে বেশি পরিমাণ পলি ধারণ করেছে। তাই নদীটি শাসন করা জরুরি। 

বেশি বেশি বাঁক নিলে এবং পলি ধারণ করার কারণে নদীর পার ভাঙে। তাই নদীর গতিপথ সোজা করে পানিপ্রবাহ সচল করতে নদীশাসন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই ঘাঘট নদী ভাঙনরোধে উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন সভায় আলোচনা করেছেন বলে জানালেন দামোদরপুর ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম। 

ইতোমধ্যে ওই নদীর একাধিক পয়েন্টে ভাঙনরোধে কাজ করা হয়েছে। আবারও ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করা হবে জানিয়েছেন  গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজুল হক। 

ঘাঘটের ভাঙনে মানুষ বাস্তুহারা, নেই নদীশাসন ব্যবস্থা

প্রকাশের সময়: ০১:১৪:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মার্চ ২০২৪

সাদুল্লাপুরের ২৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ঘাঘটে নেই নদীশাসন ব্যবস্থা

তোফায়েল হোসেন জাকির: গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলা দিয়ে বয়ে গেছে ২৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ঘাঘট নদী। আঁকাবাঁকা নদীর বিভিন্ন স্থানে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। কিন্তু নেই নদীশাসন ব্যবস্থা। ফলে তীরবর্তী মানুষেরা দিনদিন হারাচ্ছে ঘরবাড়ি ফসলী জমি। আর ভাঙন আতঙ্কে অনেকের রাত কাটছে নির্ঘুমে। দীর্ঘ যুগে নদীশাসন ব্যবস্থা না থাকায় এমন ক্ষতি হচ্ছে বলে ভুক্তভোগিদের অভিযোগ।

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে উপজেলার বনগ্রাম, জামালপুর, দামোদরপুর নলডাঙ্গা ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে দেখা গেছে–  নদী ভাঙনের ভয়াবহ দৃশ্য। এসময় ক্ষতিগ্রস্ত ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের মুখে শোনা গেল ভাঙনরোধের নানা দাবিদাওয়ার কথা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আঁকাবাঁকাভাবে বয়ে চলা ঘাঘট নদীটি বনগ্রামের টুনিরচর থেকে শুরু হয়ে নলডাঙ্গার শ্রীরামপুর গিয়ে রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার সীমানায় ঠেকেছে। এখানে একশ্রেণির অসাধু ব্যক্তি অবাধে বালু উত্তোলন বানিজ্য করায় নদী ভাঙন আরও বেশি আকার ধারণ করছে। অথচ ভাঙনরোধে সরকারিভাবে নেওয়া হচ্ছে না পদক্ষেপ। কোন কোন স্থানে জিও ব্যাগ, ব্লক স্থাপন করা হলেও তা টিকসই হচ্ছে না। যার কারণে গত একযুগে সাদুল্লাপুরের ঘাঘট নদীর ভাঙনে সহস্রাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি আবাদী জমি বিলীন হয়েছে। এই নদীর অংশে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধেই আশ্রয় হয়েছে বাস্তুহারা কিছু সংখ্যক পরিবারের। একই সঙ্গে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান চলে গেছে নদীগর্ভে। বর্তমানে শত শত পরিবার নদী ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে।

বিদ্যমান পরিস্থিতে কয়েক যুগেও ঘাঘট নদীশাসন না করায় সিট জামুডাঙ্গা (মুন্সিপাড়া), উত্তর ভাঙ্গামোড় (কুটিপাড়া), জামুডাঙ্গা, টুনিরচরসহ আরও একাধিক স্থানে ভাঙন অব্যাহত। এছাড়া চাঁন্দেরবাজার, মহিষবান্দি, ছোট দাউদপুর, হামিন্দপুর শ্রীরামপুর গ্রামের নদীতীর পরিবারদের দিন কাটছে আতঙ্কে। প্রতি বছরের বন্যা আর নদী ভাঙনে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে অনেকে। কেউ কেউ মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে পথে বসেছে বলে স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে।  

উত্তর ভাঙ্গামোড় (কুটিপাড়া) নামক স্থানের বাসিন্দা ফুল মিয়া, ও বাকী মিয়াসহ আরও অনেকে বলেন, এই মৌজাস্থ ঘাঘটে বাঁক সৃষ্টি হয়েছে। ফলে পানিপ্রবাহ বাঁধাগ্রস্ত হয়ে বেশ কিছু ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি নদীতে বিলীন হচ্ছে। এ স্থানে লুপ কাটিংয়ে গতিপথ সোজা করা হলে নদী ভাঙন থেকে রক্ষাসহ চাষযোগ্য হবে জমি। এ নিয়ে ইউএনও বরাবর আবেদন করেছেন বলেও জানান তারা। 

পাতিল্যাকুড়াচকদাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা খরিপ উদ্দিন জানান, কয়েক বছর আগে ভাঙনে বিলীন হয়েছে তার ঘরবাড়ি। একমাত্র বসতভিটা হারিয়ে তিনি এখন ঠাঁই নিয়েছেন ভাইয়ের বাড়িতে। 

ইতোমধ্যে নদীতে চলে গেছে আবাদী জমি। এখন হুমকির মুখে রয়েছে বসতভিটে। যে কোন মুহূর্তে ভাঙনে বিলীন হতে পারে ঘরবাড়ি। এমন চিন্তায় ঘুম আসে না বলে জানালেন  সিট জামুডাঙ্গা (মুন্সিপাড়া) গ্রামের বাসিন্দা লাল মিয়া, আজিজার নীল মিয়া।   

প্রফুল্য চন্দ্র নামের এক বাসিন্দা বলেন, পূর্বে নদীটি সোজা ছিল কিন্তু ইদেনিং নদী ঘন ঘন বাঁক নিয়েছে। আর মেশিন বসিয়ে আলু উত্তোলন করা ভাঙন আরও বেড়েছে। প্রতি বছরেই নদী ভেঙে ভেঙে আঁকাবাঁকা হয়ে বয়ে যাচ্ছে। আর নদীর পেটে বেশি পরিমাণ পলি ধারণ করেছে। তাই নদীটি শাসন করা জরুরি। 

বেশি বেশি বাঁক নিলে এবং পলি ধারণ করার কারণে নদীর পার ভাঙে। তাই নদীর গতিপথ সোজা করে পানিপ্রবাহ সচল করতে নদীশাসন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই ঘাঘট নদী ভাঙনরোধে উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন সভায় আলোচনা করেছেন বলে জানালেন দামোদরপুর ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম। 

ইতোমধ্যে ওই নদীর একাধিক পয়েন্টে ভাঙনরোধে কাজ করা হয়েছে। আবারও ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করা হবে জানিয়েছেন  গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজুল হক।