মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কাজ শেষ হওয়ার আগেই দেবে গেল সেতুর পিলার

গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তিস্তা নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতুর কাজ শেষ হওয়ার আগেই দেবে গেছে ৪টি সিসি পিলার। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেছে এলাকাবাসী।

স্থানীয়রা জানায়, দীর্ঘদিন ধরে  সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বেলা ইউনিয়নের খেয়াহাটে নৌকা যোগে নদী পারাপার হতেন। দুই পাশের একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যমের ভরসা ছিল একমাত্র নৌকা। স্থানীয় লোকজনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ঘাটটিতে একটি কাঠের সেতু নির্মাণ করে এলজিইডি। উপজেলা বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) অর্থায়নে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় বাস্তবায়ন করেন।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের অগাষ্ট মাসের শেষের দিকে সেতুটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। কাজটি ২০২৩ সালের মে মাসে শেষ হওয়ার কথা ছিল। ২০০ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ৬ মিটার প্রস্থের সেতুটি নির্মাণ কাজে ব্যয় ধরা হয় ৩০ লাখ টাকা। যার ২০২২-২৩ অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) থেকে এই টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কাজের দায়িত্ব পান গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান- ছানা এন্টারপ্রাইজ।

ওই ইউনিয়নের আবদুর রাজ্জাক মিয়া বলেন, এ পথ দিয়েই যাতায়াত আমার। সে কারণে কাজটা কি ধরনের হয়েছে বিষয়গুলো আমার জানা আছে। ঠিকাদার ও তার লোকজন পিলারের গোড়া মাটির খুব একটা গভীরে দেয়নি। সে কারণে পিলার দেবে গেছে।

সাবেক ইউপি সদস্য আবদুল মান্নান মিয়া বলেন, পিলারের গোড়া বেশি গভীরে দেয়নি। এ বিষয়ে বার-বার তাদের বলাও হয়েছে। কিন্তু তারা কাজ করেছেন মনগড়া। সে কারণে আজ এ অবস্থা।

বেলকা ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান ইব্রাহিম খলিলুল্যাহ বলেন, এখানে সেতু নির্মাণের দাবিটা ছিল দীর্ঘদিনের। নির্মাণ কাজ দেখে খুশিও হয়েছিলো নদীর দুইপাশের লোকজন। কিন্তু হঠাৎ সেতুটি পিলার দেবে যাওয়ায় দুর্ভোগ আরও বেড়ে গেলো।

এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান- ছানা এন্টারপ্রাইজের সত্ত্বাধিকারী ছানা মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আবদুল মান্নাফ বলেন, সিসি পিলার দেবে যাওয়ার বিষয়টি শুনেছি। আমি যোগদান করার আগেই সেতুটি কাজ প্রায় শেষ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এজন্য এ বিষয়ে আমি তেমন কিছু জানি না। সরেজমিনে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।

সুন্দরগঞ্জউপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম  বলেন, বিষয়টি অনাকাঙ্ক্ষিত। খোঁজ নিয়ে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।

কাজ শেষ হওয়ার আগেই দেবে গেল সেতুর পিলার

প্রকাশের সময়: ১০:০৮:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ জুন ২০২৪

গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তিস্তা নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতুর কাজ শেষ হওয়ার আগেই দেবে গেছে ৪টি সিসি পিলার। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেছে এলাকাবাসী।

স্থানীয়রা জানায়, দীর্ঘদিন ধরে  সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বেলা ইউনিয়নের খেয়াহাটে নৌকা যোগে নদী পারাপার হতেন। দুই পাশের একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যমের ভরসা ছিল একমাত্র নৌকা। স্থানীয় লোকজনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ঘাটটিতে একটি কাঠের সেতু নির্মাণ করে এলজিইডি। উপজেলা বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) অর্থায়নে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় বাস্তবায়ন করেন।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের অগাষ্ট মাসের শেষের দিকে সেতুটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। কাজটি ২০২৩ সালের মে মাসে শেষ হওয়ার কথা ছিল। ২০০ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ৬ মিটার প্রস্থের সেতুটি নির্মাণ কাজে ব্যয় ধরা হয় ৩০ লাখ টাকা। যার ২০২২-২৩ অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) থেকে এই টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কাজের দায়িত্ব পান গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান- ছানা এন্টারপ্রাইজ।

ওই ইউনিয়নের আবদুর রাজ্জাক মিয়া বলেন, এ পথ দিয়েই যাতায়াত আমার। সে কারণে কাজটা কি ধরনের হয়েছে বিষয়গুলো আমার জানা আছে। ঠিকাদার ও তার লোকজন পিলারের গোড়া মাটির খুব একটা গভীরে দেয়নি। সে কারণে পিলার দেবে গেছে।

সাবেক ইউপি সদস্য আবদুল মান্নান মিয়া বলেন, পিলারের গোড়া বেশি গভীরে দেয়নি। এ বিষয়ে বার-বার তাদের বলাও হয়েছে। কিন্তু তারা কাজ করেছেন মনগড়া। সে কারণে আজ এ অবস্থা।

বেলকা ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান ইব্রাহিম খলিলুল্যাহ বলেন, এখানে সেতু নির্মাণের দাবিটা ছিল দীর্ঘদিনের। নির্মাণ কাজ দেখে খুশিও হয়েছিলো নদীর দুইপাশের লোকজন। কিন্তু হঠাৎ সেতুটি পিলার দেবে যাওয়ায় দুর্ভোগ আরও বেড়ে গেলো।

এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান- ছানা এন্টারপ্রাইজের সত্ত্বাধিকারী ছানা মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আবদুল মান্নাফ বলেন, সিসি পিলার দেবে যাওয়ার বিষয়টি শুনেছি। আমি যোগদান করার আগেই সেতুটি কাজ প্রায় শেষ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এজন্য এ বিষয়ে আমি তেমন কিছু জানি না। সরেজমিনে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।

সুন্দরগঞ্জউপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম  বলেন, বিষয়টি অনাকাঙ্ক্ষিত। খোঁজ নিয়ে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।