গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে করোনার টিকা নিতে মানুষের আগ্রহ বেড়েই চলছে। টিকাদান কেন্দ্রে এখন মানুষের উপচে পড়া ভীড়। বুধবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর পর্যন্ত উপজেলায় ২ হাজার ৫’শ ৭৪ জন টিকা নিয়েছেন। টিকা নেয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন ৪হাজার ১৬৪ জন।
সরেজমিনে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, টিকা কেন্দ্রের বুথে গত কয়েক দিনের তুলনায় মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। টিকা নিতে কেউ চেয়ারে বসে আবার কেউবা দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন। স্বেচ্ছাসেবীরা টিকা কার্ড যাচাই করে একে একে নির্ধারিত বুথে পাঠাচ্ছেন। বুথে টিকা নেওয়া শেষে তারা আধা ঘণ্টার জন্য বিশ্রাম নিচ্ছেন।
জানা যায়, উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ প্রতিদিন টিকা নেয়ার জন্য মানুষকে আগ্রহ সৃষ্টি করতে ব্যাপক প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছে। পাশাপাশি উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভার ডিজিটাল সেন্টারে বিনামূল্যে নিবন্ধন করে সাথে সাথেই টিকা কার্ড সরবারহ প্রদান করা হচ্ছে।
টিকা নেওয়ার পর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট জমশেদ আলী বলেন, “সরকার অত্যন্ত চমৎকার ব্যবস্থাপনায় টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আমি ছোটবেলা থেকে অনেক টিকা নিয়েছি। তখন তো টিকা নেওয়া অনেক কষ্টকর ছিল- ঘা হয়ে যেত, ইনফেকশন হয়ে যেত। আজকে ভ্যাকসিন নেওয়ার পর কোনো প্রতিক্রিয়া অনুভূত হল না। মাত্র ৩-৮ সেকেন্ড লাগে। ভয় পাওয়ার কোনা কারণই দেখছি না।”
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টিকা নেয়ার পর চপলা রাণী বলেন, “আমি টিকা নেয়ার জন্য অনেক আগেই নিবন্ধন করেছি, কিন্তু আমার পরিবারের কেউ টিকা নিতে দেয়না। আমি আজ সবার অজান্তে চুপ করে এসে টিকা নিয়েছি। কোনো ব্যাথাও পাইনি।”
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মাইদুল ইসলাম বলেন, “টিকা নিতে আসা লোকজনদের সাথে আন্তরিকতা নিয়ে টিকা প্রদান করছি। প্রথম দিকের তুলনায় এখন টিকা নিতে মানুষের ভিড় বাড়ছে।”
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার আশরাফুজ্জামান সরকার বলেন, “টিকা প্রদান চালু রাখার নির্দেশনা রয়েছে। চল্লিশ বছর থেকে উর্ধ্ব বয়সের সকল নাগরিক টিকা নিতে পারবেন। তবে সবাইকে জাতীয় পরিচয় নম্বর দিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা এ্যাপসের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। আগের তুলনায় টিকা নিতে মানুষের আগ্রহ বেড়েছে।আতংকিত না হয়ে সবাই সচেতনভাবে টিকা নেয়ার আহ্বান জানান তিনি।
করেসপন্ডেন্ট জাগো২৪.নেট, সুন্দরগঞ্জ, (গাইবান্ধা) 

















