গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে সরোবর পার্ক এন্ড রিসোর্টে পিঠা উৎসবের শেষদিনে দর্শকদের উপচে পড়া ভীর লক্ষ্য করা গেছে। গ্রামীণ নারীদের তৈরি বাহারী স্বাদের এসব পিঠা খেতে ও দেখতেই মূলত তাঁদের আগমন। এছাড়াও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে স্থানীয় ও অতিথি শিল্পীদের সংগীত পরিবেশনায় আনন্দের মাত্রাটা আরও কয়েকগুন বাড়িয়ে তুলছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, উৎসবটি শুধু পিঠাপ্রেমীদের জন্য নয়, বরং একটি সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা। সন্ধ্যায় গ্রামীণ সঙ্গীত, নাচ, এবং বিভিন্ন শিল্পকলা পরিবেশনা করবে স্থানীয় ও বহিরাগত শিল্পীরা।
আলোকসজ্জা, সঙ্গীতের মূর্ছনা এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশ—সব মিলিয়ে উৎসবস্থল এক উজ্জ্বল, প্রাণবন্ত দৃষ্টিতে পরিণত হয়েছে। পিঠা, সংস্কৃতি, আর হাসিমুখে দর্শকরা—এখানে এক অনন্য মিলনমেলা সৃষ্টি হয়েছে।
এ উৎসবে এসেছেন শিক্ষক শিরিন (৩০)। এ বিষয়ে কথা হয় তাঁর সাথে। তিনি বলেন, পৌষ-মাঘ মাস মানেই পিঠার মাস। প্রত্যেক বাড়িতে চলতো পিঠা বানানোর ধুম। সারারাত জেগে পিঠা বানাতো মা-দাদিরা। সকালে ঘুম থেকে উঠেই সে-সকল পিঠা দিয়ে সকালের নাস্তা হতো। এখন আর এমনটা দেখা যায় না। সে কারণে বাচ্চাদেরসহ এ পিঠা উৎসবে এসেছি। বিভিন্ন পিঠার সঙ্গে তাঁদের পরিচয় করিয়ে দিলাম। সঙ্গে বিভিন্ন শিল্পীদের গানও শুনলাম। বেশ ভালোই মজা হলো।
কথা হয় এ উৎসবে আসা আরেক ব্যাক্তি মো. জসিম উদ্দিনের (২৮) সাথে। তাঁর বাড়ি উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের হাসানগঞ্জে। পেশায় তিনি কাপড় ব্যাবসায়ী। এ বিষয়ে কথা হলে তিনি বলেন, পত্রিকায় দেখে বন্ধুসহ এখানে এসেছি। পাটিসাপটা ও বিস্কুট পিঠা খেলাম আমরা। ভালোই লাগলো। সে কারণে আয়োজককে ধন্যবাদও জানান জসিম।
কথা হয় স্বদেশ পিঠা ঘরের স্বত্বাধিকারী নাসরিন আক্তারের সাথে। তিনি বলেন, সকাল থেকে এ পর্যন্ত হাজার দশেক টাকা বিক্রি করেছি। খারাপ হয়নি। সময়ও কাটছে আনন্দে। কিছু না কিছু লাভও হবে ইন্শ আল্লাহ।
সরোবর পার্কের স্বত্বাধিকারী আরেফিন আজিজ সরদার সিন্টু বলেন, আমাদের প্রজন্মকে গ্রামীণ সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে আমার এ আয়োজন। আশা করি এ অনুষ্ঠান থেকে তাঁরা উৎসাহিতও হবে। সেইসাথে ঐতিহ্যের প্রতি তাঁদের গভীর ভালোবাসাও জন্মাবে।
জাহিদ, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট 
















