বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সুন্দরগঞ্জে ১০ হাজার কম্বল দিলেন মহসিন  

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে প্রত্যেক বছরের ন্যায় এ বছরেও কম্বল বিতরণ শুরু করেছেন জাপা চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও জেলা জাতীয় পার্টির সহসভাপতি সদ্য বিদায়ী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মোস্তফা মহসিন সরদার টিপু।

ব্যাক্তিগত অর্থে গত কয়েকদিন ধরে পিকাপ ভ্যানে করে কম্বল নিয়ে ইউনিয়নে ইউনিয়নে গিয়ে অসহায় ও দুঃস্থদের খুঁজে খুঁজে বের করে কম্বল তুলে দেন তাঁদের হাতে।

কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়াই কম্বল পেয়ে খুশি অসহায় ও দুস্থরা। কম্বল পেয়ে খুশি ষাটোর্ধ অমিছা বেগম জানান, কম্বল নিবার জন্যে মোক কোনোঠাই যাওয়া নাগে নাই। বাড়িত বসি থাকি কম্বল পানু। ভালোই হইলো।

কথা হয় আরেক সুবিধাভোগী প্রতিবন্ধী মো. আফছার আলীর (৫৬) সাথে। তিনি বলেন, ইয়ার আগে একঠাই কম্বল বুলি গেইছনো। ভ্যান ভরায় গেইছে মোর ৭০ টেকা। আরও পকেট খরচ। মাটি হইছে মোর সারাদিনটা। সে জন্যে কেউ কম্বল দিবার চাইলে মুই আর যামনা। আজকে বাড়িত বসি থাকি কম্বল এখান পানু। টেকা আর সময় কিছুই নাগিলনে মোর। আল্লাহ ওমারগুলার ভালো করুক।

গতকাল শনিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ঠান্ডা আর হিমেল হাওয়া উপেক্ষা করে দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে কম্বল বিতরণ করছেন তিনি। কখনো পাড়ায় আবার কখনো ঢুকছেন কারও বাড়িতে। সঙ্গে আছে পিকাপ ভর্তি কম্বল। সাথে ব্যানার ও হ্যান্ড মাইক। পাড়া বা মহল্লার কোনো এক জায়গায় মাইকিং করে একত্রিত করেন অসহায় ও দুস্থদের। ব্যানার সাঁটিয়ে সেখানে দিচ্ছেন কম্বল। এছাড়াও চলার পথে কোথাও দুস্থ ও অসহায় পেলেই গায়ে জড়িয়ে দিচ্ছেন কম্বল।

এ বিষয়ে কথা হয় মহসিন সরদারের সাথে। তিনি বলেন, একটা কম্বল দিবো। সে কারণে ১০-১৫ মাইল দূর থেকে নিতে আসবে। এটা আমার কাছে অমানুবিক। সে কারণে আমি তাঁদের দোরগোড়ায় গিয়ে দিচ্ছি। মূলত প্রকৃত সুবিধাভোগীরাই যেন পায় সে কারণে এ পন্থা বেঁচে নিয়েছি আমি। পাশাপাশি তাঁদের সাথে দেখা এবং কথা বলতে আমার ভীষণ ভালো লাগে।

মহসিন সরদার আরও বলেন, গত দুইদিনে কাপাসিয়া, কঞ্চিবাড়ী, চন্ডিপুর ও শ্রীপুরসহ আট ইউনিয়নে কম্বল দিয়েছি। আগামী সোমবারের মধ্যে বিতরণ কার্যক্রম শেষ হবে আশা করছি। এবারে পৌরসভা ও ১৫ ইউনিয়নে ১০ হাজার কম্বল দিবেন বলেও জানান তিনি।
এছাড়াও বিভিন্ন প্রাকৃতিক দূর্যোগে বিভিন্ন সহায়তা, রোগীর চিকিৎসা খরচ, ফ্রী এম্বুলেন্স সার্ভিস, বিভিন্ন মসজিদ, মক্তব, মাদ্রাসা, মন্দিরে আর্থিক অনুদানসহ সমাজের বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কাজে নিজেকে যুক্ত রেখেছি গত ১৮ বছর ধরে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজির হোসেন বলেন, এ কাজগুলো নিসন্দেহে ভালো কাজ। সে কারণে তাঁকে ধন্যবাদ জানান। এ ধরনের কর্মকান্ডে সমাজের বিত্তবান লোকদের এগিয়ে আসার আহ্বানও জানান ইউএনও।

ইঞ্জিনিয়ার মোস্তফা মহসিন সরদারের প্রেস সচিব মো. হাসানুজ্জামান হাসান, উপজেলা যুব সংহতির সভাপতি মো. সাইদুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মো. হাফিজুর রহমান, শ্রীপুর ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য মো. বাদশা মিয়া, যুব সংঘতির কাপাসিয়া ইউনিয়ন সভাপতি মো. আবদুর রহিম মিয়াসহ জাতীয় পার্টি এবং সহযোগী সকল অঙ্গসংগঠনের নেতারা এ সময় উপস্থিত থেকে কম্বল বিতরণ কার্যক্রমে সহায়তা করেন।

সুন্দরগঞ্জে ১০ হাজার কম্বল দিলেন মহসিন  

প্রকাশের সময়: ০৭:৩০:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৫

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে প্রত্যেক বছরের ন্যায় এ বছরেও কম্বল বিতরণ শুরু করেছেন জাপা চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও জেলা জাতীয় পার্টির সহসভাপতি সদ্য বিদায়ী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মোস্তফা মহসিন সরদার টিপু।

ব্যাক্তিগত অর্থে গত কয়েকদিন ধরে পিকাপ ভ্যানে করে কম্বল নিয়ে ইউনিয়নে ইউনিয়নে গিয়ে অসহায় ও দুঃস্থদের খুঁজে খুঁজে বের করে কম্বল তুলে দেন তাঁদের হাতে।

কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়াই কম্বল পেয়ে খুশি অসহায় ও দুস্থরা। কম্বল পেয়ে খুশি ষাটোর্ধ অমিছা বেগম জানান, কম্বল নিবার জন্যে মোক কোনোঠাই যাওয়া নাগে নাই। বাড়িত বসি থাকি কম্বল পানু। ভালোই হইলো।

কথা হয় আরেক সুবিধাভোগী প্রতিবন্ধী মো. আফছার আলীর (৫৬) সাথে। তিনি বলেন, ইয়ার আগে একঠাই কম্বল বুলি গেইছনো। ভ্যান ভরায় গেইছে মোর ৭০ টেকা। আরও পকেট খরচ। মাটি হইছে মোর সারাদিনটা। সে জন্যে কেউ কম্বল দিবার চাইলে মুই আর যামনা। আজকে বাড়িত বসি থাকি কম্বল এখান পানু। টেকা আর সময় কিছুই নাগিলনে মোর। আল্লাহ ওমারগুলার ভালো করুক।

গতকাল শনিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ঠান্ডা আর হিমেল হাওয়া উপেক্ষা করে দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে কম্বল বিতরণ করছেন তিনি। কখনো পাড়ায় আবার কখনো ঢুকছেন কারও বাড়িতে। সঙ্গে আছে পিকাপ ভর্তি কম্বল। সাথে ব্যানার ও হ্যান্ড মাইক। পাড়া বা মহল্লার কোনো এক জায়গায় মাইকিং করে একত্রিত করেন অসহায় ও দুস্থদের। ব্যানার সাঁটিয়ে সেখানে দিচ্ছেন কম্বল। এছাড়াও চলার পথে কোথাও দুস্থ ও অসহায় পেলেই গায়ে জড়িয়ে দিচ্ছেন কম্বল।

এ বিষয়ে কথা হয় মহসিন সরদারের সাথে। তিনি বলেন, একটা কম্বল দিবো। সে কারণে ১০-১৫ মাইল দূর থেকে নিতে আসবে। এটা আমার কাছে অমানুবিক। সে কারণে আমি তাঁদের দোরগোড়ায় গিয়ে দিচ্ছি। মূলত প্রকৃত সুবিধাভোগীরাই যেন পায় সে কারণে এ পন্থা বেঁচে নিয়েছি আমি। পাশাপাশি তাঁদের সাথে দেখা এবং কথা বলতে আমার ভীষণ ভালো লাগে।

মহসিন সরদার আরও বলেন, গত দুইদিনে কাপাসিয়া, কঞ্চিবাড়ী, চন্ডিপুর ও শ্রীপুরসহ আট ইউনিয়নে কম্বল দিয়েছি। আগামী সোমবারের মধ্যে বিতরণ কার্যক্রম শেষ হবে আশা করছি। এবারে পৌরসভা ও ১৫ ইউনিয়নে ১০ হাজার কম্বল দিবেন বলেও জানান তিনি।
এছাড়াও বিভিন্ন প্রাকৃতিক দূর্যোগে বিভিন্ন সহায়তা, রোগীর চিকিৎসা খরচ, ফ্রী এম্বুলেন্স সার্ভিস, বিভিন্ন মসজিদ, মক্তব, মাদ্রাসা, মন্দিরে আর্থিক অনুদানসহ সমাজের বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কাজে নিজেকে যুক্ত রেখেছি গত ১৮ বছর ধরে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজির হোসেন বলেন, এ কাজগুলো নিসন্দেহে ভালো কাজ। সে কারণে তাঁকে ধন্যবাদ জানান। এ ধরনের কর্মকান্ডে সমাজের বিত্তবান লোকদের এগিয়ে আসার আহ্বানও জানান ইউএনও।

ইঞ্জিনিয়ার মোস্তফা মহসিন সরদারের প্রেস সচিব মো. হাসানুজ্জামান হাসান, উপজেলা যুব সংহতির সভাপতি মো. সাইদুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মো. হাফিজুর রহমান, শ্রীপুর ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য মো. বাদশা মিয়া, যুব সংঘতির কাপাসিয়া ইউনিয়ন সভাপতি মো. আবদুর রহিম মিয়াসহ জাতীয় পার্টি এবং সহযোগী সকল অঙ্গসংগঠনের নেতারা এ সময় উপস্থিত থেকে কম্বল বিতরণ কার্যক্রমে সহায়তা করেন।