বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সুন্দরগঞ্জে ইউপি চেয়ারম্যানের অপসারণের দাবি

oplus_0

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে সোনারায় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. বদিরুল আহসান সেলিমের বিরুদ্ধে মানববন্ধন, পথসভা ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সরকারি মালামাল আত্মসাৎ ও টিসিবি কার্ডসহ বিভিন্ন সুবিধার বিনিময়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগে তাঁর অপসারণ ও বিচারের দাবিতে এ কর্মসূচিগুলো পালন করেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক।

গতকাল রোববার দুপুর আড়াইটার দিকে ইউনিয়নবাসীর আয়োজনে ওই ইউনিয়নের ছাইতানতলা বাজারে অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধন ও পথসভায় বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক এইচএম মতিয়ার পারভেজ, ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক দেওয়ান মঞ্জুরুল ইসলাম, জেলা যুবদলের পল্লী উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক মো. সামিউল ইসলাম সামু, যুবনেতা মো. মেহেদী হাসান, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম-আহ্বায়ক মো. ইমতিয়াজ আহমেদ, ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক মো. স্মরণ পারজেভ, সোনারায় ইউনিয়ন ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. মারুফ বিল্লাহ, শ্রমিক দলের যুগ্ম-আহ্বায়ক মো. মিজানুর রহমান, স্থানীয় মো. শফিকুল ইসলাম, মো. হেছাব উদ্দিন, মো. শরিফুল ইসলাম, মো. রাজু আহমেদ, মো. স্বাধীন মিয়া, মো. জয়নাল আবেদীন ও নিখিল চন্দ্র প্রমুখ। এ সময় একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

বক্তারা বলেন, ‘চেয়ারম্যান বদিরুল আহসান সেলিম দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়নের দরিদ্র মানুষের অধিকার হরণ করে আসছেন। তিনি সরকারি মালামাল বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছেন এবং বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে ইউনিয়নের সাধারণ মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলেছেন। বিশেষ করে, টিসিবি কার্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সুবিধা দেওয়ার সময় অর্থ আদায় করে তিনি দরিদ্র মানুষের কষ্টকে আরও বাড়িয়ে তুলেছেন। তার এই কর্মকাণ্ড শুধু অনৈতিকই নয়, এটি আইনবিরুদ্ধ এবং সাধারণ মানুষের প্রতি চরম অন্যায়।’

তারা আরও বলেন, আমরা তার দ্রুত অপসারণ এবং তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাই, যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ জনগণের সঙ্গে এভাবে প্রতারণা করার সাহস না পায়। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিই কেবল জনগণের অধিকার রক্ষায় সঠিক বার্তা দিতে পারে।’

উল্লেখ্য, এর আগে গত শনিবার দুপুরে সোনারায় ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে টিসিবি’র স্মার্ট কার্ড বিতরণের সময় জনপ্রতি ২০০ টাকা করে আদায় করা হয়। চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে পরিষদের সচিব মো. সফিকুল ইসলাম উপকারভোগীদের কাছ থেকে এই অর্থ সংগ্রহ করেন। এদিন সকাল থেকে ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে চেয়ার-টেবিল নিয়ে কার্ড বিতরণ শুরু হয়। এ সময় চেয়ারম্যানের লোকজন সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে টাকা নিতে শুরু করলে অনেকে প্রতিবাদ জানান। তারা অভিযোগ করেন, টিসিবি কার্ড বিনামূল্যে দেওয়ার কথা থাকলেও চেয়ারম্যানের নির্দেশে অর্থ আদায় করা হয়েছে, যা বেআইনি। এতে পরিষদ এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

এ বিষয়ে কথা হয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সৈয়দ বদিউল আহসান সেলিমের সাথে। তিনি বলেন, আনীত অভিযোগগুলোর সাথে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। আমাকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে তাঁরা এ সকল প্রপাগান্ডা ছড়াচ্ছেন। ট্যাক্স আদায় করা হয়েছে। টিসিবি কার্ডের নামে কোনো টাকা নেয়া হয়নি বলেও জানান চেয়ারম্যান।

সুন্দরগঞ্জে ইউপি চেয়ারম্যানের অপসারণের দাবি

প্রকাশের সময়: ০৯:৪২:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৫

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে সোনারায় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. বদিরুল আহসান সেলিমের বিরুদ্ধে মানববন্ধন, পথসভা ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সরকারি মালামাল আত্মসাৎ ও টিসিবি কার্ডসহ বিভিন্ন সুবিধার বিনিময়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগে তাঁর অপসারণ ও বিচারের দাবিতে এ কর্মসূচিগুলো পালন করেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক।

গতকাল রোববার দুপুর আড়াইটার দিকে ইউনিয়নবাসীর আয়োজনে ওই ইউনিয়নের ছাইতানতলা বাজারে অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধন ও পথসভায় বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক এইচএম মতিয়ার পারভেজ, ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক দেওয়ান মঞ্জুরুল ইসলাম, জেলা যুবদলের পল্লী উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক মো. সামিউল ইসলাম সামু, যুবনেতা মো. মেহেদী হাসান, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম-আহ্বায়ক মো. ইমতিয়াজ আহমেদ, ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক মো. স্মরণ পারজেভ, সোনারায় ইউনিয়ন ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. মারুফ বিল্লাহ, শ্রমিক দলের যুগ্ম-আহ্বায়ক মো. মিজানুর রহমান, স্থানীয় মো. শফিকুল ইসলাম, মো. হেছাব উদ্দিন, মো. শরিফুল ইসলাম, মো. রাজু আহমেদ, মো. স্বাধীন মিয়া, মো. জয়নাল আবেদীন ও নিখিল চন্দ্র প্রমুখ। এ সময় একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

বক্তারা বলেন, ‘চেয়ারম্যান বদিরুল আহসান সেলিম দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়নের দরিদ্র মানুষের অধিকার হরণ করে আসছেন। তিনি সরকারি মালামাল বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছেন এবং বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে ইউনিয়নের সাধারণ মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলেছেন। বিশেষ করে, টিসিবি কার্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সুবিধা দেওয়ার সময় অর্থ আদায় করে তিনি দরিদ্র মানুষের কষ্টকে আরও বাড়িয়ে তুলেছেন। তার এই কর্মকাণ্ড শুধু অনৈতিকই নয়, এটি আইনবিরুদ্ধ এবং সাধারণ মানুষের প্রতি চরম অন্যায়।’

তারা আরও বলেন, আমরা তার দ্রুত অপসারণ এবং তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাই, যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ জনগণের সঙ্গে এভাবে প্রতারণা করার সাহস না পায়। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিই কেবল জনগণের অধিকার রক্ষায় সঠিক বার্তা দিতে পারে।’

উল্লেখ্য, এর আগে গত শনিবার দুপুরে সোনারায় ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে টিসিবি’র স্মার্ট কার্ড বিতরণের সময় জনপ্রতি ২০০ টাকা করে আদায় করা হয়। চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে পরিষদের সচিব মো. সফিকুল ইসলাম উপকারভোগীদের কাছ থেকে এই অর্থ সংগ্রহ করেন। এদিন সকাল থেকে ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে চেয়ার-টেবিল নিয়ে কার্ড বিতরণ শুরু হয়। এ সময় চেয়ারম্যানের লোকজন সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে টাকা নিতে শুরু করলে অনেকে প্রতিবাদ জানান। তারা অভিযোগ করেন, টিসিবি কার্ড বিনামূল্যে দেওয়ার কথা থাকলেও চেয়ারম্যানের নির্দেশে অর্থ আদায় করা হয়েছে, যা বেআইনি। এতে পরিষদ এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

এ বিষয়ে কথা হয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সৈয়দ বদিউল আহসান সেলিমের সাথে। তিনি বলেন, আনীত অভিযোগগুলোর সাথে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। আমাকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে তাঁরা এ সকল প্রপাগান্ডা ছড়াচ্ছেন। ট্যাক্স আদায় করা হয়েছে। টিসিবি কার্ডের নামে কোনো টাকা নেয়া হয়নি বলেও জানান চেয়ারম্যান।