গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার বুকচিরে বয়ে গেছে ঘাঘট নদী। আঁকাবাঁকা এই নদীর বিভিন্ন স্থানে বসানো হচ্ছে শ্যালো মেশিন। এই মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছেন হাসান আলী নামের এক অসাধু ব্যক্তি। তার বিরুদ্ধে প্রশাসন কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় তুঙ্গে ওঠেছে কথিত এই হাসানের বালুবাণিজ্য। যার ফলে অব্যাহত রয়েছে নদী ভাঙন। এ কারণে নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতবাড়ি ও আবাদি জমি। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে অঝোড়ে কাঁদছে নদীপাড়ের মানুষেরা।
বালুদস্য হিসেবে পরিচিত এই হাসান আলী গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের হামিন্দপুর (কটকটিপাড়া) গ্রামের বাসিন্দা।
সম্প্রতি সাদুল্লাপুর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের চকলাশালাইপুর এলাকার কল্যাণপুর মেলার উত্তর পাশসহ আরও বিভিন্ন স্থানে ঘাঘট নদী থেকে বালুবাণিজ্য করতে দেখা গেছে- তথাকথিত এই হাসান আলীকে। কখনও দিনে আবার কখনও রাতের বেলায় এই বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। কতিপয় দায়িত্বশীলদের ম্যানেজ করে নির্বিকারে বালু উত্তোলন করে আসছে বলে ভুক্তভোগি মানুষদের অভিযোগ।
স্থানীয়রা বলছেন, দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে বালুখেকো হাসান আলী একশ্রেণির অসৎ দায়িত্বশীদের ছত্রছায়ায় মহাদাপটে বালুবাণিজ্য অব্যাহত রাখছেন। এ কারণে প্রশাসনকে জানিয়েও কোন প্রতিকার পাওয়া যায় না। তার এই বালুদস্যুতা কর্মকাণ্ড চলতে থাকায় বিভিন্ন স্থানে ভাঙছে নদী। বিলীন হচ্ছে বাপ-দাদার বসতভিটাসহ ফসলী জমি। ঝুঁকিতে রয়েছে শত শত পরিবার ও মসজিদসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। এছাড়া সহস্রাধিক হেক্টর কৃষি জমিও ঝুঁকিতে। সেইসঙ্গে বালু তোলা মেশিনের বিকট শব্দে অতিষ্ট নদীতীরের বাসিন্দারা। ঘাঘট নদীর একাধিক স্থানে বালু কারবারে আরও মেতেছেন সোনাতন মিয়াসহ আরও অনেকে।
ঘাঘট তীরের বাসিন্দা মোজাম্মেল হক বলেন- নদী থেকে হাসান আলীর বালুবাণিজ্যের কারণে নদী ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে ঘরবাড়ি বিলীনসহ এখন মসজিদও ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে। তার এই অপকর্ম অব্যাহত থাকায় আমরা ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছি। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে এই বালুবাণিজ্য বন্ধে জোর দাবি করছি।
এবিষয়ে অভিযুক্ত হাসান আলী বলেন- বিভিন্ন মানুষের চাহিদায় এই বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের জিও ব্যাগভর্তির কাজ করা হচ্ছে।
জামালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদ হাসান শুভ জানান, চকলাশালাইপুর এলাকার নদী থেকে বালু উত্তোলনের বিষয়টি জানা নেই। খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই কথা জানিয়েছেন ইউপি সদস্য আবুল কালাম আজাদ।
এ বিষয়ে সাদুল্লাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জসিম উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে অফিসে তাকে পাওয়া যায়নি। বালু নিলামে মাঠে গেছেন বলে জানালেন এক কর্মচারী।
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট 

















