গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে বিদ্যুৎ ব্যবহার না করেও ১ লক্ষ ১৯ হাজার ৬৮৮ টাকা বিল হাতে ধরিয়ে দিয়েছেন পল্লী বিদ্যুৎ অফিস। এ বিষয়ে প্রতিকার চাওয়ায় বিভিন্ন ভাবে হয়রানি ও মিটার খুলে নিয়ে যাওয়াসহ নানা হুমকির মুখে রেখেছেন ভুক্তভোগী গ্রাহক মো. রেজাউল করিমকে(৩৮)। মো. রেজাউল করিম উপজেলা হাসপাতাল সড়কস্থ এ্যাপোলো ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক এন্ড কলসালটেশন সেন্টারের স্বত্বাধিকারী ও দহবন্দ ইউনিয়নের গোপাল চরন গ্রামের মৃত আবদুল জব্বার সরকারের ছেলে। তথ্যে জানা যায়, মিটারটি বাণিজ্যিক। নম্বর ৩১৬০০৮৩২৬। সংযোগ দেয়া হয় গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর। বিদ্যুৎ বিলের কপিতে বিল তৈরির তারিখ দেয়া আছে গত বছরের ৮ ডিসেম্বর। আর বিল পরিশোধের তারিখ ছিলো গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর। বিদ্যুৎ ব্যবহার দেখানো হয়েছে ৭ হাজার ৮৬৫ ইউনিট। টাকার পরিমাণ ১ লক্ষ ১৯ হাজার ৬৮৮ টাকা। বিদ্যুৎ বিলের কপি পাওয়ার পর থেকে অফিসে ঘুরছেন ভুক্তভোগী। কোনো প্রতিকার তো পায়নি উল্টো বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করাসহ বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন গ্রাহক মো. রেজাউল করিমকে। রেজাউল করিম বলেন, ‘মিটার সংযোগ পেয়ে প্রথমে এক্স-রে মেশিন চেক দেই। একবার চেক দিতে ২০ থেকে ৩০ সেকেন্ড সময় লাগে। এভাবে গত ৩ মাসে কয়েকদিনে কয়েকবারে সবমিলিয়ে সর্বোচ্চ ৩০ মিনিট ব্যাবহার হয়েছে আমার ধারণা। তাতেই বিল এসেছে ১ লক্ষ ১৯ হাজার ৬৮৮ টাকা। পল্লী বিদ্যুৎ এর এ ধরনের ভূতুর বিদ্যুৎ বিলে আমি রীতিমতো অবাক হই। পরে বিদ্যুৎ অফিসে বিষয়টি জানাই। তাঁরা ওভার লোডিং লিখে নিয়ে যায় এবং তদন্ত করে। এতে কোনো কিছুই পায়নি। পরে আবারও আমাকে ডেকে পুরো বিল দিতে বলেন। দিতে রাজি হয়নি আমি। পরে আমার কাছে লিখিত কাগজ চায়। তাতে উল্লেখ থাকবে, মিটার ঠিক থাকলে পুরো বিল দিতে হবে আমাকে আর মিটারের সমস্যা হলে বিষয়টি তাঁরা দেখবেন। আমি এতেও রাজি হয়নি। এখন তাঁরা বিভিন্ন ভাবে হয়রানি ও মিটার খুলে নিয়ে যাওয়াসহ বিভিন্ন হুমকি দিচ্ছে আমাকে। আমি এখন নিরুপায়।’ এ্যাপোলো ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক এন্ড কলসালটেশন সেন্টারের ল্যাব টেকনিশিয়ান মো. আতাউল গণি কবির বলেন, মিটার সংযোগ দেয়ার প্রায় ১০-১৫ দিন পরে ইন্জিনিয়ার আসে। চেক দিলে এক্স-রে মেশিনের ফ্লিম মেশিং নষ্ট। ফ্লিম মেশিন এখনো ক্রয় করা হয়নি। সে কারণে এখনো চালুও হয়নি। এ বিষয়ে কথা হয় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. আবদুল বারীর সাথে। তিনি বলেন, বিষয়টি দেখেছি। মিটারের সমস্যা না অন্যকোনো সমস্যা সেটি দেখতে হবে। যদিও এখনো প্রক্রিয়া শুরু করা হয়নি। দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়ে বলেন, গ্রাহককে কোনো ধরনের হয়রানি বা হুমকি দেয়া হয়নি।’ কথা হয় রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ শঠিবাড়ী এর জেনারেল ম্যানেজার মো. আশরাফ উদ্দিন খাঁনের সাথে। প্রথমে তিনি বিলের কপি তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ এ চান। পাঠানো হলে তিনি পরে ফোন দিয়ে এ প্রতিবেদককে বলেন, খোঁজ নিয়ে যতটুকু শুলাম তাতে ঐ সংযোগটি ৩৯ কিলো ওয়ার্ড লোডের সংযোগ। আগে অন্য একটি মিটার দিয়ে চলতো তাঁদের প্রতিষ্ঠান। এখানে কোনো অসংগতি আছে কি না সেটি দেখতে মিটারের পারফর্মেন্স চেক দিতে হবে। গ্রাহকদের উপস্থিতিতে সেটি চেক করা হবে বলেও জানান তিনি।
বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
সুন্দরগঞ্জে বিদ্যুৎ না পুড়িয়েও লক্ষাধিক টাকার বিল
-
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট - প্রকাশের সময়: ০৯:১৫:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৫
- ২২
জনপ্রিয়


















