খরাকালে সীমান্তঘেঁষা এ দিঘিটাকে একটা মজাপুকুর বলে মনে হবে। দেশ বিভাগের বহুকাল পূর্ব হতে দিঘিটি সংস্কার না হওয়ায় এটি আগাছা আর জঙ্গলে ভরাট হওয়ার পথে। ফলে ২৫০/৩০০ বছরের বেশি পুরনো দিঘিটি ডোবায় পরিণত হয়েছে। তবে বর্ষাকালে এর বিপরীত চিত্র পরিলক্ষিত হয়। কানায় কানায় পানিতে পূর্ণ হয়। দিঘির কালোজলে প্রস্ফুটিত লালপদ্ম বাংলাদেশী প্রকৃতিপ্রেমীদেরকে সহজে আকৃষ্ট করে।
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বাউরা ইউনিয়নের হোসনাবাদ গ্রামের শেষপ্রান্তে ভারত-বাংলাদেশ সীমানা চিহ্নিতকারী ৮৮৫নং মেইন পিলার ঘেঁষে ভারতের জমিতে দিঘিটির অবস্থান। দিঘিটির অবস্থান ভারতের জমিতে হলেও এটি কাঁটাতারের বেড়ার বাইরে থাকায় কোনো ভারতীয় বাঙালী দিঘিটির বর্ষাকালীন সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্যে এখানে বেড়াতে আসেন না। তবে ভৌগলিক অবস্থানগত সুবিধা থাকার কারণে বর্ষাকালে কেবল বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রকৃতিপ্রেমীরা এখানে ছুটে আসেন দিঘির বুকে প্রস্ফুটিত লালপদ্ম অবলোকন করার জন্যে। নিজ দেশের ভূখন্ডে দাঁড়িয়ে দিঘিটির দৃশ্য উপভোগ করার সুযোগ থাকায় বাংলাদেশীরা এখানে আসতে সহজে অনুপ্রাণিত হয়ে থাকেন। তবে স্থানীয় মানুষের কাছে সীমান্ত মানে অনেকটা ডালভাতের মত, শস্যাদি শুকানো হতে শুরু করে গরু চড়ানো পর্যন্ত কার্যাদির জন্যে তাঁরা ভিনদেশের এ দিঘিটির পাড় ব্যবহার করে থাকেন। উল্লেখিত বাউরা ইউনিয়নের বাউরা বাজার থেকে পূর্বদিকে শফিরহাট হয়ে পদ্মদিঘির দূরত্ব মাত্র চার কিলোমিটার।
দিঘিটি নিয়ে দুটো জনশ্রুতি আছে, প্রথমটি- বহুকাল আগে দেবতারা মাত্র একরাতেই এ অঞ্চলে তিনটি বড় বড় দিঘি খনন করে। পদ্মদিঘি হলো সেই তিনটি দিঘির একটি। দ্বিতীয় জনশ্রুতি- কুচবিহারের রাজা মানিক চন্দ্রের তৃতীয় স্ত্রীর গর্ভ থেকে একটি কন্যা সন্তান জন্মগ্রহন করে। শিশুটির মাথায় পদ্মফুলের অনুরুপ ছাপ ছিল (মতান্তরে মাথায় পদ্মফুল যুক্ত ছিল)। জন্মের ৫ দিন পরে শিশুটি মারা গেলে হিন্দু শাস্ত্রীয় বিধান মোতাবেক মরদেহটিকে এখানে চাপামাটি দেয়া হয়। ঐ রাতে কয়েকজন তান্ত্রিক বৈদ্য যাদু-টোনা করার উপকরণ হিসেবে মৃত শিশুটির মাথা সংগ্রহ করার জন্যে ঐ স্থানটি খনন করা শুরু করলে মাটির নীচ থেকে পানির ফোঁয়ারা সৃষ্টি হয় এবং তান্ত্রিক বৈদ্যরা ঐ পানিতে ডুবে মারা যায়। ঐ পানির ফোঁয়ারাই একসময়ে দিঘিতে পরিণত হয়, শিশুটির মাথার পদ্মফুলই দিঘির পদ্মফুল বলে মনে করা হয়। সেই থেকে দিঘিটাকে পদ্মদিঘি বলা হয়। ক্ষিতিশ চন্দ্র রায় নামে জনৈক অবসরপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষক জানান সীমান্তের ওপারে কাঁটাতারের বেড়ার সন্নিকটে রাজার বংশধরেরা এখনও বংশ পরম্পরায় বসবাস করছেন।
এ দিঘির চারপাশে রয়েছে বিশাল চওড়া পাড়। মাঝে মাঝে বিজিবি-বিএসএফ এর ফ্লাগ মিটিং সহ উচ্চপর্যায়ের বৈঠক এখানে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। পাশাপাশি অবস্থিত দুই বাংলার ভৌগলিক ও যোগাযোগ ব্যবস্থার সুবিধাকে বিবেচনায় এনে এখানে একটি বর্ডারহাট স্থাপন করা যেতে পারে। শুধু চাই দু’দেশের সদিচ্ছা।
তথ্যঃ শাহজাহান হোসাইন লিপু
স্টাফ রিপোর্টার,জাগো২৪.নেটঃ 

















