বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রঙিন ফুলকপি চাষে কৃষকের সফলতা

মো. রফিকুল ইসলাম: ক্ষেতের চারিপাশে যেন রঙের মেলা বসেছে। সবুজ পাতায় মোড়ানো লাল, হলুদ ও বেগুনি রঙের ফুলকপি চোখ জুড়াচ্ছে। এই চমৎকার রঙিন ফুলকপি দেখে স্থানীয় কৃষক ও উৎসুক দর্শক মুগ্ধ। কেউ এসব রঙিন কপি ক্রয় করছেন। আবার কেউ কেউ চাষ করার জন্য পরামর্শ নিচ্ছেন। নতুন জাতের এই রঙিন ফুলকপি চাষ করে সফলতা লাভ করেছেন দিনাজপুরের খানসামা উপজলার খামারপাড়া ইউনিয়নের নেউলা গ্রামের প্রান্তিক কৃষক মো. রফিকুল ইসলাম। তিনি তাঁর নিজ জমিতে রঙিন ফুলকপি চাষ করে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন।

সরজমিন জানা গেছে, বাজারে পাইকারি দরে বিক্রির জন্য ক্ষেত থেকে রঙিন ফুলকপি সংগ্রহ করছেন কৃষক মো. রফিকুল ইসলাম। গত কয়েক বছর ধরে তিনি সাদা ফুলকপি ও বাঁধাকপি চাষ করে আসছেন। তিনি কৃষি অফিসের সহযোগিতায় চলতি মৌসুমে ৩৩ শতক জমিতে হাইব্রিড রঙিন জাতের ফুলকপি চাষ করেছেন। এ ফুলকপি চাষের জন্য বিশেষ কোনো রাসায়নিক সার কিংবা কীটনাশক ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না। এ রঙিন ফুলকপি চাষে সব মিলিয়ে তাঁর ৮-১০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে এবং ৫০-৬০ হাজার টাকার কপি বিক্রির আশা করছেন। তিনি প্রতিটি ফুলকপি ২০-২৫ টাকা দরে ইতিমধ্যে ৩০-৩৫ হাজার টাকার কপি বিক্রি করেছেন। কৃষক রফিকুল ইসলাম আরও বলেন, কৃষি অফিসের সহযোগিতায় রঙিন ফুলকপি চাষ করে স্বল্প খরচে লাভবান হয়েছি। আগামীতে আরও বেশি পরিমাণ জমিতে রঙিন ফুলকপি চাষ করবো।

উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দিনাজপুর অঞ্চলে টেহসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় রঙিন ফুলকপি চাষ শুরু হয়েছে। ২০২৪-২০২৫ রবি মৌসুমে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে ওই কৃষককে চারা, জৈব সার, ফেরোমন ফাঁদ ও পরামর্শ প্রদান করা হয়। সাদা ফুলকপির তুলনায় রঙিন ফুলকপির আকর্ষণীয় রঙ ও স্বাদ ভালো হওয়ার কারণে বাজারদরও বেশি। ফলে কৃষকরা স্বল্প পুঁজিতে অধিক লাভবান হতে পারেন।

খামারপাড়া ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শ ম জাহিদুল ইসলাম বলেন, কৃষি অফিস থেকে সার্বক্ষণিক ওই কৃষককে সার, বীজ ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়া হয়েছে। রঙিন ফুলকপি চাষে তাঁর সফলতা দেখে অন্যান্য কৃষকও চাষাবাদের জন্য উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন আক্তার বলেন, রঙিন ফুলকপি চাষাবাদের শুরু থেকেই কৃষক রফিকুল ইসলামকে কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হয়েছে। ফুলকপির ফলনও ভালো হয়েছে। নতুন জাতের এ রঙিন ফুলকপি মানুষের পুষ্টির চাহিদা পূরণ করবে। সেই সঙ্গে অল্প পুঁজিতে কৃষকেরা অধিক লাভবান হতে পারবেন। এ জন্য উপজেলা কৃষি বিভাগ সার্বিকভাবে কৃষকদের সহযোগিতা করছে।

রঙিন ফুলকপি চাষে কৃষকের সফলতা

প্রকাশের সময়: ০৭:৪৮:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

মো. রফিকুল ইসলাম: ক্ষেতের চারিপাশে যেন রঙের মেলা বসেছে। সবুজ পাতায় মোড়ানো লাল, হলুদ ও বেগুনি রঙের ফুলকপি চোখ জুড়াচ্ছে। এই চমৎকার রঙিন ফুলকপি দেখে স্থানীয় কৃষক ও উৎসুক দর্শক মুগ্ধ। কেউ এসব রঙিন কপি ক্রয় করছেন। আবার কেউ কেউ চাষ করার জন্য পরামর্শ নিচ্ছেন। নতুন জাতের এই রঙিন ফুলকপি চাষ করে সফলতা লাভ করেছেন দিনাজপুরের খানসামা উপজলার খামারপাড়া ইউনিয়নের নেউলা গ্রামের প্রান্তিক কৃষক মো. রফিকুল ইসলাম। তিনি তাঁর নিজ জমিতে রঙিন ফুলকপি চাষ করে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন।

সরজমিন জানা গেছে, বাজারে পাইকারি দরে বিক্রির জন্য ক্ষেত থেকে রঙিন ফুলকপি সংগ্রহ করছেন কৃষক মো. রফিকুল ইসলাম। গত কয়েক বছর ধরে তিনি সাদা ফুলকপি ও বাঁধাকপি চাষ করে আসছেন। তিনি কৃষি অফিসের সহযোগিতায় চলতি মৌসুমে ৩৩ শতক জমিতে হাইব্রিড রঙিন জাতের ফুলকপি চাষ করেছেন। এ ফুলকপি চাষের জন্য বিশেষ কোনো রাসায়নিক সার কিংবা কীটনাশক ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না। এ রঙিন ফুলকপি চাষে সব মিলিয়ে তাঁর ৮-১০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে এবং ৫০-৬০ হাজার টাকার কপি বিক্রির আশা করছেন। তিনি প্রতিটি ফুলকপি ২০-২৫ টাকা দরে ইতিমধ্যে ৩০-৩৫ হাজার টাকার কপি বিক্রি করেছেন। কৃষক রফিকুল ইসলাম আরও বলেন, কৃষি অফিসের সহযোগিতায় রঙিন ফুলকপি চাষ করে স্বল্প খরচে লাভবান হয়েছি। আগামীতে আরও বেশি পরিমাণ জমিতে রঙিন ফুলকপি চাষ করবো।

উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দিনাজপুর অঞ্চলে টেহসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় রঙিন ফুলকপি চাষ শুরু হয়েছে। ২০২৪-২০২৫ রবি মৌসুমে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে ওই কৃষককে চারা, জৈব সার, ফেরোমন ফাঁদ ও পরামর্শ প্রদান করা হয়। সাদা ফুলকপির তুলনায় রঙিন ফুলকপির আকর্ষণীয় রঙ ও স্বাদ ভালো হওয়ার কারণে বাজারদরও বেশি। ফলে কৃষকরা স্বল্প পুঁজিতে অধিক লাভবান হতে পারেন।

খামারপাড়া ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শ ম জাহিদুল ইসলাম বলেন, কৃষি অফিস থেকে সার্বক্ষণিক ওই কৃষককে সার, বীজ ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়া হয়েছে। রঙিন ফুলকপি চাষে তাঁর সফলতা দেখে অন্যান্য কৃষকও চাষাবাদের জন্য উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন আক্তার বলেন, রঙিন ফুলকপি চাষাবাদের শুরু থেকেই কৃষক রফিকুল ইসলামকে কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হয়েছে। ফুলকপির ফলনও ভালো হয়েছে। নতুন জাতের এ রঙিন ফুলকপি মানুষের পুষ্টির চাহিদা পূরণ করবে। সেই সঙ্গে অল্প পুঁজিতে কৃষকেরা অধিক লাভবান হতে পারবেন। এ জন্য উপজেলা কৃষি বিভাগ সার্বিকভাবে কৃষকদের সহযোগিতা করছে।