তোফায়েল হোসেন জাকির: কৃষি ফসল নির্ভশীল জেলা গাইবান্ধা। এখানকার অধিকাংশ কৃষক বোরো ফসল ঘরে তুলে পরিবারের মৌলিক চাহিদা পূরণ করেন। এরই ধারাবহিকতায় চলতি মৌসুমে অধিক জমিতে আবাদ করা হয়েছে বোরো ধান। ইতোমধ্যে সার-কিটনাশক প্রয়োগসহ শুরু হয়েছে পরিচর্যার কাজ। এ কাজে পুরুষের চেয়ে নারী শ্রমিকের চাহিদা বেশি। কারণ একটাই একজন পুরুষের মজুরি দিতে হয় ৫০০ টাকা। আর নারী শ্র্রমিকের মজুরি মাত্র ৩০০ টাকা। পুরুষের তুলনায় নারী শ্রমিকরা পরিচর্যা কাজে পারদর্শি বেশি বলেও জানা গেছে।
সম্প্রতি গাইবান্ধা জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে দেখা যায়, কৃষকদের কাঙ্খিত বোরো আবাদের চিত্র। এখন চারদিকে নজর কাড়ছে সবুজের সমাহার। স্বপ্নের এ খেতে আপন খেয়ালে কাজ করছেন কৃষক-শ্রমিকরা। তবে বোরো আবাদে অতিরিক্ত খরচে দুশ্চিন্তায় আছেন প্রান্তিক কৃষক।
গাইবান্ধা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সুত্রে জানা গেছে, এ বছর মোট ১ লাখ ২৯ হাজার ১৫ হেক্টর জমি বোরো আবাদের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় প্রায় ২১ হাজার ২৮০ হেক্টর, সাদুল্লাপুরে ১৫ হাজার ৬৩০, পলাশবাড়ীতে ১২ হাজার ৫৫৯, গোবিন্দগঞ্জে ৩০ হাজার ৯৫৬, সুন্দরগঞ্জে ২৬ হাজার ৭৯০, ফুলছড়ি উপজেলায় ৭ হাজার ৩০০ হেক্টর ও সাঘাটা উপজেলায় ১৪ হাজার ৫০০ হেক্টর। এই পরিমাণ অর্জিত হলে জেলায় প্রায় ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১৬১ মেট্রিক টন ধান উৎপাদন হবে।
এদিকে, ওইসব কৃষকের জমিতে সেচ দিতে গভীর নলকূপ ৪৫৬টি, অগভীর ৩ হাজার ৪৫০টি, ডিজেল চালিত অগভীর ৩ হাজার ২৩২ টি, এলএলপি বিদ্যুৎ ৮৪ ও সোলার সেচযন্ত্র রয়েছে ৫৫ টি। এসব যন্ত্র দিয়ে বোরো চাষিদের সেচের চাহিদা মেটানো হবে।
মোন্নাফ আলী নামের এক শ্রমিক বলেন, এ বছরে বোরো চাষাবাদে ৫০০ টাকা মজুরি পাচ্ছি। এ দিয়ে ভালোই চলছে। তবে নারী শ্রমিক মমিনা বেগম ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, বোরো খেত পরিচর্যায় পুরুষের চেয়ে বেশি কাজ করা হয়। সেখানে মজুরি পাচ্ছি মাত্র ৩০০ টাকা। এই বৈষম্য থেকে পরিত্রাণ চাই।
কৃষক সৈয়দার রহমান জানান, গত বোরোতে আড়াই হেক্টর জমিতে ধান আবাদ করছিলেন। এবার করেছেন ৩ হেক্টর। তবে বাড়তি খরচে দুশ্চিন্তায় পড়ছেন তিনি। তবে খরচ সাশ্রয় করতে নারী শ্রমিকদের কাজে লাগাচ্ছেন বেশি।
কৃষি বিভাগের উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রুহুল আমিন মন্ডল বলেন, কৃষকদের ফলন বাড়াতে এবং খরচ কমাতে সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে।
গাইবান্ধা জেলা কৃষি বিভাগের উপপরিচালক খোরশেদ আলম জানান, বোরো আবাদে কৃষকদের লাভবান করতে ইতোমধ্যে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কিছু কিছু জায়গায় সমলয় পদ্ধিতে চাষাবাদ শুরু করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকুল থাকলে কৃষকরা বোরো ধান ঘরে তুলে অনেকটাই লাভবান হবেন।
তোফায়েল হোসেন জাকির, জাগো২৪.নেট 

















