বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঘ্রাণ ছড়াচ্ছে আমের মুকুল

মো. রফিকুল ইসলাম: কবির ভাষায়-‘ফাল্গুনে বিকশিত কাঞ্চন ফুল, ডালে ডালে পুঞ্জিত আম্র মুকুল। চঞ্চল মৌমাছি, গুঞ্জরি গায়, বেনুবনে মর্মরে, দক্ষিণ বায়।’ প্রকৃতিতে এখন মাঘ মাস পেরিয়ে ফাল্গুণ সমাগত। গাছে গাছে দেখা মিলেছে আমের সোনালী মুকুলের সমারোহ। প্রকৃতি সেজেছে এক অপরুপ সাজে। সবুজ পাতার ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে আমের সোনালী মুকুল। শহর-গ্রামের সব বাড়িতেই আম চাষ হয়। এছাড়াও উপজেলার অফিস-আদালতসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গাছগুলোতেও দোল খাচ্ছে আমের সোনালী মুকুল। ইদানিং অনেকেই বাণিজ্যিকভাবে আম চাষ করছেন। দিনাজপুরের চিরিরবন্দরেরর বাগানসহ পুরো উপজেলা জুড়েই ছড়িয়ে পড়েছে আমের মুকুলের সুশোভিত দৃশ্য ও সুবাসিত মন পাগল করা মৌ মৌ গন্ধ। ম-ম গন্ধে মানুষের মনপ্রাণকে করছে পুলকিত। সেই সঙ্গে মুকুলের সংস্পর্শে প্রজাপতি ও মৌমাছির আনাগোনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ যেন হলুদ আর সবুজের মিলনমেলা।কোনো কোনো গাছে আমের গুটি লক্ষ্য করা গেছে। মুকুল রক্ষা করতে এবং আমের ফলন বৃদ্ধিতে গাছ মালিকরা পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছেন। বৈরি আবহাওয়া না হলে আশানুরুপ আম উৎপাদন হবে বলে অনেকেই আশা করছেন।

সরজমিন দেখা গেছে, উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে আমের গাছে ব্যাপক মুকুল ধরেছে। মুকুল সৌরভ ছড়াচ্ছে আকাশে-বাতাসে। পর্যাপ্ত তাপমাত্রা ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আম গাছগুলোতে ব্যাপক হারে মুকুল দেখা দিয়েছে। পরিচর্যার কারণে আমের ফলন বেশি হবে বলে মনে করেন অনেকে। উপজেলায় হিমসাগর, গোপালভোগ, মিশরীভোগ, ল্যাংড়া, ফজলী, গৌরমতি, রুপালী, হাঁড়িভাঙ্গা, বারি-৪, থাই কার্ডিমন, ব্যানানা, আম্রপালী, সূর্যপুরি, নাগফজলীসহ বিভিন্ন জাতের আম চাষ হচ্ছে।

উপজেলার পুনট্টি ইউনিয়নের হরনন্দপুর গ্রামের আফছার আলীসহ কয়েকজন চাষি জানান, গাছে মুকুল আসার পূর্বে গাছের পরিচর্যা করতে হয়। নিয়মিত স্প্রে ও সেচ দেয়া শুরু হয়েছে। চলতি মৌসুমে কিছুটা আগেই আমের গাছে মুকুল এসেছে। আম গাছে মুকুল আসতেই ঢাকা, চট্টগ্রাম, বগুড়া, রংপুরসহ বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা আসছেন এবং বাগানে গিয়ে খোঁজ-খবর নিচ্ছেন। আবার অনেকেই আগাম আম বাগান ক্রয় করে নিচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ জোহরা সুলতানা বলেন, চলতি মৌসুমে জেলায় ৫ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে আম চাষ হচ্ছে। চাষিদের আমের ফলন যাতে ভালো হয় সেজন্য প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। আশা করছি, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চাষিরা আমের ভালো ফলন ও দাম পাবেন।

 

ঘ্রাণ ছড়াচ্ছে আমের মুকুল

প্রকাশের সময়: ০৬:০৯:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ মার্চ ২০২৫

মো. রফিকুল ইসলাম: কবির ভাষায়-‘ফাল্গুনে বিকশিত কাঞ্চন ফুল, ডালে ডালে পুঞ্জিত আম্র মুকুল। চঞ্চল মৌমাছি, গুঞ্জরি গায়, বেনুবনে মর্মরে, দক্ষিণ বায়।’ প্রকৃতিতে এখন মাঘ মাস পেরিয়ে ফাল্গুণ সমাগত। গাছে গাছে দেখা মিলেছে আমের সোনালী মুকুলের সমারোহ। প্রকৃতি সেজেছে এক অপরুপ সাজে। সবুজ পাতার ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে আমের সোনালী মুকুল। শহর-গ্রামের সব বাড়িতেই আম চাষ হয়। এছাড়াও উপজেলার অফিস-আদালতসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গাছগুলোতেও দোল খাচ্ছে আমের সোনালী মুকুল। ইদানিং অনেকেই বাণিজ্যিকভাবে আম চাষ করছেন। দিনাজপুরের চিরিরবন্দরেরর বাগানসহ পুরো উপজেলা জুড়েই ছড়িয়ে পড়েছে আমের মুকুলের সুশোভিত দৃশ্য ও সুবাসিত মন পাগল করা মৌ মৌ গন্ধ। ম-ম গন্ধে মানুষের মনপ্রাণকে করছে পুলকিত। সেই সঙ্গে মুকুলের সংস্পর্শে প্রজাপতি ও মৌমাছির আনাগোনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ যেন হলুদ আর সবুজের মিলনমেলা।কোনো কোনো গাছে আমের গুটি লক্ষ্য করা গেছে। মুকুল রক্ষা করতে এবং আমের ফলন বৃদ্ধিতে গাছ মালিকরা পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছেন। বৈরি আবহাওয়া না হলে আশানুরুপ আম উৎপাদন হবে বলে অনেকেই আশা করছেন।

সরজমিন দেখা গেছে, উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে আমের গাছে ব্যাপক মুকুল ধরেছে। মুকুল সৌরভ ছড়াচ্ছে আকাশে-বাতাসে। পর্যাপ্ত তাপমাত্রা ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আম গাছগুলোতে ব্যাপক হারে মুকুল দেখা দিয়েছে। পরিচর্যার কারণে আমের ফলন বেশি হবে বলে মনে করেন অনেকে। উপজেলায় হিমসাগর, গোপালভোগ, মিশরীভোগ, ল্যাংড়া, ফজলী, গৌরমতি, রুপালী, হাঁড়িভাঙ্গা, বারি-৪, থাই কার্ডিমন, ব্যানানা, আম্রপালী, সূর্যপুরি, নাগফজলীসহ বিভিন্ন জাতের আম চাষ হচ্ছে।

উপজেলার পুনট্টি ইউনিয়নের হরনন্দপুর গ্রামের আফছার আলীসহ কয়েকজন চাষি জানান, গাছে মুকুল আসার পূর্বে গাছের পরিচর্যা করতে হয়। নিয়মিত স্প্রে ও সেচ দেয়া শুরু হয়েছে। চলতি মৌসুমে কিছুটা আগেই আমের গাছে মুকুল এসেছে। আম গাছে মুকুল আসতেই ঢাকা, চট্টগ্রাম, বগুড়া, রংপুরসহ বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা আসছেন এবং বাগানে গিয়ে খোঁজ-খবর নিচ্ছেন। আবার অনেকেই আগাম আম বাগান ক্রয় করে নিচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ জোহরা সুলতানা বলেন, চলতি মৌসুমে জেলায় ৫ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে আম চাষ হচ্ছে। চাষিদের আমের ফলন যাতে ভালো হয় সেজন্য প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। আশা করছি, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চাষিরা আমের ভালো ফলন ও দাম পাবেন।