গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলার আসামিরা জেলে। আর এ সুযোগে তাদের পরিবারের নারীসহ বাকি সদস্যদের হত্যার হুমকি দিচ্ছে বাদীপক্ষ ও তাঁর লোকজন। যখন যেভাবে পারছে কেটে নিয়ে যাচ্ছে ঝাঁড়ের বাঁঁশ, পুকুর থেকে মাছ, গাছ ও পলের গাদা থেকে খড়। এমন পরিস্থিতিতে চরম অনিরাত্তায় দিন পার করছেন ভুক্তভোগী পরিবারের নারী-শিশু সদস্যরা।
সোমবার বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, ওই পরিবারগুলোর নারী ও শিশু সদস্যরা আতঙ্কগ্রস্থ। নিরাপত্তার অভাবে বাড়ির বাইরে বের হন না তারা।স্বজনদের কেউ প্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য দিতে আসলেও গোপনে, লুকিয়ে আসছেন। ওই পরিবারের নারী সদস্যরা বলেন, আজ সকালে তাদের ঝাড় থেকে বাঁশ কেটে নিয়ে গেছেন বাদীপক্ষের লোকজন। দুপুরের দিকে জাল ফেলে পুকুরের মাছ তুলে গেছে, এবং গাদা থেকে খড় খুলে নিয়ে গেছে। এ সময় আবারও হুমকি দিয়ে গেছেন তারা। এমন পরিস্থিতিতে চরম অনিরাত্তায় দিন পার করছেন তিন পরিবারের নারী-শিশু সদস্যরা। টানা ৫ দিন পুলিশ পাহাড়ায় নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব হলেও, গত দুদিন ধরে এসবের সম্মুখিন হচ্ছে পরিবারগুলোকে। পরিবারের সদস্যদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে দাবি করে নারী সদস্যরা বলেন, ঘটনার দিন ঝগড়াঝাটি হয়েছে, মারধরের কোনো বিষয় ছিল না। সেগুলো তদন্তে প্রমাণ পাওয়া যাবে। কিন্তু তাদের জান-মালের চরম অনিরাত্তায় দিন পার করছেন তারা। পরিবারগুলো নিরাপত্তার পাশাপাশি মামলার সুষ্ঠু তদন্তের দাবিও জানিয়েছেন।
সাবেক চেয়ারম্যান ও মামলায় আটক মো. আবদুল মজিদ মিয়ার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী মোছাঃ নাজমুন্নাহার বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী ও ছেলেকে আসামি করা হয়েছে। তারাও আটক আছেন। বাড়িতে কোনো পুরুষ নাই। এ সুযোগে মামলার বাদী ও তার লোকজন সবসময় আমাদের হুককি দিচ্ছেন। বাড়ি থেকে বের হলেই তারা আমাদের মেরে ফেলবেন। দরজা জানালা বন্ধ করে আছি। তারা বাড়ির সামনে এসে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করছেন এবং দরজা-জানালায় লাঠিসোটা দিয়ে আঘাত করছেন।
তিমি আরও বলেন, নিহত বৃদ্ধা দীর্ঘদিন থেকেই উচ্চ রক্তচাপ ও শ্বাসকষ্টের রোগী। ঘটনার দিন তিনি চিৎকার চেচামেচি করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। কিন্তু হত্যার মিথ্যা মামলা দিয়ে, যারা উপস্থিত ছিলেন না, তাদেরও ফাঁসানো হয়েছে।’
মামলার ৭ নম্বর আসামি সাবেক স্কুলশিক্ষক হযরত আলীর কলেজপড়ুয়া নাতনি মিথিলা বলেন, মিথ্যা মামলায় আমাদের ফাসানো হয়েছে। সে কারণে আমাদের লোকজন আটক আছেন। সঠিক বিচার আমরাও দাবি করছি। কিন্তু তাঁর আগেই বাদীপক্ষ ও তাদের স্বজনরা আমাদের সাথে খুবই খারাপ আচরণ করছেন। ঘটনার দিন থেকেই নিজ বাড়িতে তালাবদ্ধ আমরা। আমাদের কোনো আত্নীয় স্বজন খাবার দিতে আসলে তাদেরকেও হুমকি দিচ্ছেন তাঁরা। যখন তখন তাঁরা আমাদের পুকুরের মাছ, ঝাড় থেকে বাঁশ ও গাদা থেকে খড়সহ নানা জিনিসপত্র নিয়ে যাচ্ছেন। বাড়ি থেকে বেরোলেই হাত-পা কেটে নেওয়া হবে বলে হুমকি দিচ্ছে, আচমকাই বাড়িতে চালানো হচ্ছে ভাংচুর। এমন পরিস্থিতিতে চরম অনিরাত্তায় দিন পার করছি আমরা।
মামলার বাদী মো. রফিকুল ইসলামের সাথে দেখা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হননি।
থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুল হাকিম আজাদ বলেন, ‘ঘটনাস্থলে নতুন করে বিশৃঙ্খলা এড়াতে আমরা তৎপর আছি। ঘটনার দিন থেকে পুলিশ তাঁদের ৬ দিন পাহারা দিয়েছেন। এরপরে যদি কোনো ছোটখাটো ঘটনা ঘটে তাহলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানাতে বলেন ওসি।’
উল্লেখ্য, মো. আকালু শেখের ছেলে মো. রফিকুল ইসলাম ও প্রতিবেশী মৃত আবদুল হামিদ মিয়ার ছেলে মো. আবদুল মজিদ মিয়া। দীর্ঘদিন ধরে উভয় পরিবারের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। তাঁদের বাড়ি উপজেলার শান্তিরাম ইউনিয়নের পাঁচগাছি শান্তিরাম গ্রামে। গত ১৭ তারিখে মারামারি হলে রফিকুল ইসলামের মা এতে মারা যান মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে মো. আবদুল মজিদ মিয়াকে প্রধান করে ১৭ জনের নামসহ অঙ্গাত আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে এ হত্যা মামলায়।
জাহিদ. স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট 

















