সঞ্জয় সাহা, গাইবান্ধা : প্রতিবছরের মত এবারো গাইবান্ধা নতুন ব্রীজ সংলগ্ন ঘাঘট নদীতে গঙ্গা পূজা ও বারুনীর স্নান অনুষ্ঠিত হয়েছে। শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের ২১৫ তম জন্মতিথিতে মহবারুনীর স্নান উৎসব নদীর পাড়ে দিনব্যাপী মেলা অনুষ্ঠিত হয়। এটি সনাতন সম্প্রদায়ের সর্ববৃহৎ উৎসব। ২৭ মার্চ বৃহস্পতিবার সকাল ৬ টা ২১ মিনিট থেকে শুরু হওয়া স্নান চলে দুপুর ১ টা পর্যন্ত। পাপ থেকে মুক্তি ও পুণ্য লাভের আশায় ব্রীজরোড কালিবাড়ী পাড়া, ভিএইডরোড কালিবাড়ী পাড়া, পশ্চিম পাড়া, গিরিধারী পাড়া সহ বিভিন্ন এলাকার সনাতন সম্প্রদায়ের পুণ্যার্থীরা এই পুজা ও স্নানে অংশ নেন।
এ ছাড়া স্নান করে হরিচাঁদ গুরুচাঁদ মন্দিরে পূজা-অর্চনা করে পাপ থেকে মুক্তি, পুণ্য লাভ এবং দেশবাসীর মঙ্গল প্রার্থনা করেন। স্নান উপলক্ষে মহিলাদের পোশাক পরিবর্তনের জন্য রয়েছিল বিশেষ ব্যবস্থা৷ নিয়ম রয়েছে গঙ্গা স্নান করে নদীর তীরে বসে জলপান খেতে হয়, সে জন্য পূর্ণার্থীরা নদীর পাড়ে বসে চিরা, মুড়ি, দই সহ বিভিন্ন প্রকার খাবার খেতে দেখা গেছে।
এই সময় সনাতনী সম্প্রদায়ের শতশত পূর্ণার্থীগন ঘাঘট নদীতে গঙ্গা মায়ের চরনে ফুল, ফল, বেলপাতা ও নগদ টাকা দিয়ে ভক্তি নিবেদন করে পাপ মুক্তির আশায় নদীর স্বচ্ছ পানিতে নেমে বারুনী স্মানে অংশ নেয়। স্নানকে কেন্দ্র করে নদীর তীরে মেলায় খেলনা, নাক,মুচরী, কান মুচড়ী সহ বিভিন্ন প্রকার জিনিসপত্রের পসরা সাজান দূর দুরান্ত থেকে আসা দোকানিরা।
মুলত: হিমালয় কন্যা গঙ্গার অপরনাম বারুণী। বারুণী স্নান এখানে গঙ্গা স্নানেরই প্রতিরুপ।বাঙলা সনের প্রতি চৈত্র মাসের শতভিষা নক্ষত্রযুক্ত মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশীতে এই স্নান অনুষ্ঠিত হয়। শাস্ত্র মতে কোন বছর যদি ঐদিনটি শনিবার হয় তবে ঐ বারুণী স্নান অসাধারণত্ব লাভ করে মহা বারুণী স্নান রুপ লাভ করে। এই স্নান টি বস্তুত্ব হিন্দু ধর্মীয় একটি পূন্য স্নান উৎসব। জীব জগতের পঙ্কের মধ্যে পথ চলতে গিয়ে পাপাচারে পূর্ণ্,ক্লেদাক্ত মুনস্যকুল এই পূণ্য স্নানের মধ্যমে পাপ মুক্ত হয়। কত বছর যাবত এই নদীর তীরে বারুণী মেলার আয়োজন হয়ে আসছে তা হিসেব করা খুব কঠিন।
সঞ্জয় সাহা, জাগো২৪ 

















