শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সুন্দরগঞ্জে টুংটাং শব্দের কামার পট্টিতে নেই ক্রেতা 

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে টুংটাং শব্দে মুখরিত কামার পট্টিগুলো। বছরের বাকী কয়েক মাসের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এ সময় টার জন্য অপেক্ষা করলেও এ বছরে নেই তেমন ক্রেতা। ফলে চরম দুশ্চিন্তায় আছেন কামারেরা।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, কেউ কয়লার আগুনে বাতাস দিচ্ছেন ভাতি টেনে। কেউবা আবার ভারী হাতুড়ি দিয়ে পেটাচ্ছেন লাল দগদগে লোহা। আবার কেউবা শান দিচ্ছেন দা, বটি ও ছুরিতে। ঈদ উপলক্ষে বানানো দা, বটি ও ছুরিসহ নানা জিনিসপত্রগুলো বিক্রির জন্য পসরা সাজিয়ে রেখেছেন। কেউ নেই বসে বরং ব্যস্ত সময়ই পার করছেন সবাই। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো বিগত বছরগুলোর ন্যায় এ ঈদে তেমন বেচা বিক্রি নেই। ক্রেতা শুন্য কামার পট্টিগুলো। হাতেগোনা ৪/৫ জন ছাড়া ক্রেতা চোখে পড়েনি। তাঁরাও আবার দরদামে সীমাবদ্ধ। বেচা বিক্রির এ অবস্থা দেখে চরম উৎকন্ঠা আর দুশ্চিন্তায় আছেন কামারেরা। কারণ তাঁদের অনেকেই ধার-দেনা আবার কেউবা সুদের টাকা নিয়ে লোহা কিনে দা, বটি ও ছুরিগুলো তৈরি করেছেন। আর সেগুলো বিক্রি না হলে সময়মতো কিস্তি দিতে পারবেন না। এ নিয়ে চরম উৎকন্ঠা আর দুশ্চিন্তায় আছেন কামারেরা। সরকারের কোনো সহায়তায় জুটছে না তাদের কপালে।
এ বিষয়ে কথা হয় মীরগঞ্জ হাটের কামার শ্রী বুদা চন্দ্র কর্মকারের (৫৬) সাথে। তিনি পৌরসভার মীরগঞ্জ বালাপারা গ্রামের অন্য চন্দ্র কর্মকারের ছেলে।
বুদা চন্দ্র বলেন, বাপ-দাদাকে দেখেছি এ পেশায়। জন্ম থেকেই এ পেশায় যুক্ত আছি আমিও। এ ঈদের মতো খারাপ বিক্রি বিগত বছরগুলোতে কখনো দেখিনি। গত বছরের ঈদেও লাখ টাকার বেশি বিক্রি হয়েছে। কিন্তু এ বছরে এখন পর্যন্ত ১০ হাজার টাকা বিক্রি করতে পারিনি।’
কথা হয় আরেক কামার শ্রী তপন চন্দ্র বর্মনের (৪০) সাথে। তিনি পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডের নরেশ চন্দ্রের ছেলে।
তপন চন্দ্র বলেন, ‘কি বলবো দাদা দুঃখের কথা। এ ঈদে ব্যবসা এতোটা কারাপ হবে কখনো কল্পনাও করিনি। ঈদ উপলক্ষে ৫০ হাজার টাকার লোহা কিনে এনেছি। অর্ডার নেই তাই সবগুলো লোহাই বাড়িতে পড়ে আছে। লাভ তো দুরের কথা লোকসান গুনতে হবে এ ঈদে।
কথা হয় আরেক কামার শ্রী বাবলু চন্দ্র কর্মকারের (৪৫) সাথে। তিনি বলেন, ‘আগে বাপদাদারা এ ব্যবসা করেছিলেন। এখন আমি। পরিবারে মোট ৯ জন সদস্য। তারমধ্যে পড়াশোনা করেন ৪ জন। সব খরচ এখান থেকে আসে। সারাবছর টেনেটুনে চললেও অপেক্ষা করি এই ঈদের জন্য। সেটাও এবারে খারাপ। বিক্রি নেই বললেই চলে। এ অবস্থা চলতে থাকলে পথে বসতে হবে আমাদের।’ শ্রী বাবলু চন্দ্র কর্মকারের বাবার নাম মৃত অতুল চন্দ্র কর্মকার।
কথা হয় আরেক কামার শ্রী লিটন চন্দ্র (৪২) কর্মকারের সাথে। তিনি বলেন, প্রত্যেক কোরবানির ঈদে দুই থেকে আড়াইশো দা, বটি ও ছুরিসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র তৈরি করে বিক্রি করি। ঈদের বাকী আর মাত্র ৪-৫ দিন। আশা নিয়ে অনেক দা, ছুরি ও বটি তৈরি করা হয়েছে এবং এখনো করছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত ১৫ টি জিনিসপত্রই বিক্রি করতে পারিনি। আমার জীবনে এতো খারাপ বিক্রি আর কোনো ঈদে দেখিনি। কপালে দুঃখ আছে এ ঈদে।
সুন্দরগঞ্জ  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজ কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘কামারদের কোনোভাবে হেল্প করা যায় কি না বিষয়টি দেখছি।
জনপ্রিয়

মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি ও রিজভী ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হওয়ায় নন্দীগ্রামে আনন্দ মিছিল

সুন্দরগঞ্জে টুংটাং শব্দের কামার পট্টিতে নেই ক্রেতা 

প্রকাশের সময়: ০৬:৪৮:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ জুন ২০২৫
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে টুংটাং শব্দে মুখরিত কামার পট্টিগুলো। বছরের বাকী কয়েক মাসের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এ সময় টার জন্য অপেক্ষা করলেও এ বছরে নেই তেমন ক্রেতা। ফলে চরম দুশ্চিন্তায় আছেন কামারেরা।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, কেউ কয়লার আগুনে বাতাস দিচ্ছেন ভাতি টেনে। কেউবা আবার ভারী হাতুড়ি দিয়ে পেটাচ্ছেন লাল দগদগে লোহা। আবার কেউবা শান দিচ্ছেন দা, বটি ও ছুরিতে। ঈদ উপলক্ষে বানানো দা, বটি ও ছুরিসহ নানা জিনিসপত্রগুলো বিক্রির জন্য পসরা সাজিয়ে রেখেছেন। কেউ নেই বসে বরং ব্যস্ত সময়ই পার করছেন সবাই। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো বিগত বছরগুলোর ন্যায় এ ঈদে তেমন বেচা বিক্রি নেই। ক্রেতা শুন্য কামার পট্টিগুলো। হাতেগোনা ৪/৫ জন ছাড়া ক্রেতা চোখে পড়েনি। তাঁরাও আবার দরদামে সীমাবদ্ধ। বেচা বিক্রির এ অবস্থা দেখে চরম উৎকন্ঠা আর দুশ্চিন্তায় আছেন কামারেরা। কারণ তাঁদের অনেকেই ধার-দেনা আবার কেউবা সুদের টাকা নিয়ে লোহা কিনে দা, বটি ও ছুরিগুলো তৈরি করেছেন। আর সেগুলো বিক্রি না হলে সময়মতো কিস্তি দিতে পারবেন না। এ নিয়ে চরম উৎকন্ঠা আর দুশ্চিন্তায় আছেন কামারেরা। সরকারের কোনো সহায়তায় জুটছে না তাদের কপালে।
এ বিষয়ে কথা হয় মীরগঞ্জ হাটের কামার শ্রী বুদা চন্দ্র কর্মকারের (৫৬) সাথে। তিনি পৌরসভার মীরগঞ্জ বালাপারা গ্রামের অন্য চন্দ্র কর্মকারের ছেলে।
বুদা চন্দ্র বলেন, বাপ-দাদাকে দেখেছি এ পেশায়। জন্ম থেকেই এ পেশায় যুক্ত আছি আমিও। এ ঈদের মতো খারাপ বিক্রি বিগত বছরগুলোতে কখনো দেখিনি। গত বছরের ঈদেও লাখ টাকার বেশি বিক্রি হয়েছে। কিন্তু এ বছরে এখন পর্যন্ত ১০ হাজার টাকা বিক্রি করতে পারিনি।’
কথা হয় আরেক কামার শ্রী তপন চন্দ্র বর্মনের (৪০) সাথে। তিনি পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডের নরেশ চন্দ্রের ছেলে।
তপন চন্দ্র বলেন, ‘কি বলবো দাদা দুঃখের কথা। এ ঈদে ব্যবসা এতোটা কারাপ হবে কখনো কল্পনাও করিনি। ঈদ উপলক্ষে ৫০ হাজার টাকার লোহা কিনে এনেছি। অর্ডার নেই তাই সবগুলো লোহাই বাড়িতে পড়ে আছে। লাভ তো দুরের কথা লোকসান গুনতে হবে এ ঈদে।
কথা হয় আরেক কামার শ্রী বাবলু চন্দ্র কর্মকারের (৪৫) সাথে। তিনি বলেন, ‘আগে বাপদাদারা এ ব্যবসা করেছিলেন। এখন আমি। পরিবারে মোট ৯ জন সদস্য। তারমধ্যে পড়াশোনা করেন ৪ জন। সব খরচ এখান থেকে আসে। সারাবছর টেনেটুনে চললেও অপেক্ষা করি এই ঈদের জন্য। সেটাও এবারে খারাপ। বিক্রি নেই বললেই চলে। এ অবস্থা চলতে থাকলে পথে বসতে হবে আমাদের।’ শ্রী বাবলু চন্দ্র কর্মকারের বাবার নাম মৃত অতুল চন্দ্র কর্মকার।
কথা হয় আরেক কামার শ্রী লিটন চন্দ্র (৪২) কর্মকারের সাথে। তিনি বলেন, প্রত্যেক কোরবানির ঈদে দুই থেকে আড়াইশো দা, বটি ও ছুরিসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র তৈরি করে বিক্রি করি। ঈদের বাকী আর মাত্র ৪-৫ দিন। আশা নিয়ে অনেক দা, ছুরি ও বটি তৈরি করা হয়েছে এবং এখনো করছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত ১৫ টি জিনিসপত্রই বিক্রি করতে পারিনি। আমার জীবনে এতো খারাপ বিক্রি আর কোনো ঈদে দেখিনি। কপালে দুঃখ আছে এ ঈদে।
সুন্দরগঞ্জ  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজ কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘কামারদের কোনোভাবে হেল্প করা যায় কি না বিষয়টি দেখছি।