শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নৌকা আকৃতির মাঝিয়ালির চরে বর্ষায় নদী পারাপারের নেই নৌকা  

মো. রফিকুল ইসলাম: আত্রাই নদীর বুকজুড়ে ভেসে রয়েছে নৌকা আকৃতির ছোট একটি ভূখন্ড। যার নাম মাঝিয়ালির চর। এ চরটি দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার আলোকঝাড়ি ইউনিয়নের বাসুলী গ্রামে আত্রাই নদীতে অবস্থান। চারপাশে নদীর পানির ঢেউ আর সবুজ প্রকৃতির মাঝে অন্তত ২০ একরের এ চরে ১৩টি পরিবার বসবাস করেন।

গতকাল ১৫ আগস্ট শুক্রবার সকালে সরজমিন দেখা গেছে, শীত-গ্রীষ্মে এলাকার জীবন চলে চাষাবাদ, গরু-ছাগল ও হাঁস-মুরগি পালনের মাধ্যমে। কিন্তু বর্ষা মৌসুম আসলে পুরো পাল্টে যায় এ মাঝিয়ালির চরের দৃশ্যপট। টানা বৃষ্টিতে নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে জলবেষ্টিত হয়ে পড়ে পুরো চর। তখন অসুস্থ রোগী কিংবা জরুরি কাজে নদী পারাপারে নিদারুণ ভোগান্তিতে পড়তে হয় চরে বসবাসকারীদের। কারণ চরে বসবাসকারীদের নিজস্ব কোনো নৌকা নেই। ভাড়া করা নৌকা ব্যবহার করলেও তা অনিয়মিত ও সময় সাপেক্ষ।

স্থানীয় বৃদ্ধ আব্দুল লতিফ বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর থেকেই এখানে বসবাস শুরু হয়। বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে আমরা পুরোপুরি জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ি। অসুস্থ হলে কিংবা কোনো জরুরি কাজে বাইরে যেতে হলে অন্যের নৌকা ভাড়া করতে হয়। অনেক সময় নৌকা পাওয়া যায় না। তখন এ চরের বাসিন্দাদের ভোগান্তিতে থাকতে হয়।

মাঝিয়ালির চরের বাসিন্দা সোহেল ইসলাম বলেন, বর্ষা মৌসুমে বাজার করা থেকে শুরু করে স্কুলে যাওয়া সবকিছুতেই ভোগান্তিতে পড়তে হয়। বিশেষ করে কেউ অসুস্থ হলে চিন্তার শেষ থাকে না। তা আরও বেড়ে যায়। আমাদের এ চরের বাসিন্দাদের নিজস্ব নৌকা নেই। নিজেদের একটি নৌকা থাকলে এ কষ্ট অনেকটাই কমে যেত।

এ ব্যাপারে আলোকঝাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান বলেন, এর আগে মাঝিয়ালির চরের বাসিন্দাদের যাতায়াতের জন্য নৌকা দেয়া হয়েছিল। সেটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে গেছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মহোদয়ের নির্দেশে আবারও নৌকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। আশা করছি, শিগগিরই এ সমস্যার সমাধান হবে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. কামরুজ্জামান সরকার বলেন, মাঝিয়ালির চরের যাতায়াত সমস্যা সম্পর্কে জানার পর আমরা সরজমিন পরিদর্শন করেছি। জরুরি পরিস্থিতিতে যেন তাঁরা নৌকায় যাতায়াত করতে পারেন, সে বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

 

জনপ্রিয়

নৌকা আকৃতির মাঝিয়ালির চরে বর্ষায় নদী পারাপারের নেই নৌকা  

প্রকাশের সময়: ০৪:৩৭:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৫

মো. রফিকুল ইসলাম: আত্রাই নদীর বুকজুড়ে ভেসে রয়েছে নৌকা আকৃতির ছোট একটি ভূখন্ড। যার নাম মাঝিয়ালির চর। এ চরটি দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার আলোকঝাড়ি ইউনিয়নের বাসুলী গ্রামে আত্রাই নদীতে অবস্থান। চারপাশে নদীর পানির ঢেউ আর সবুজ প্রকৃতির মাঝে অন্তত ২০ একরের এ চরে ১৩টি পরিবার বসবাস করেন।

গতকাল ১৫ আগস্ট শুক্রবার সকালে সরজমিন দেখা গেছে, শীত-গ্রীষ্মে এলাকার জীবন চলে চাষাবাদ, গরু-ছাগল ও হাঁস-মুরগি পালনের মাধ্যমে। কিন্তু বর্ষা মৌসুম আসলে পুরো পাল্টে যায় এ মাঝিয়ালির চরের দৃশ্যপট। টানা বৃষ্টিতে নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে জলবেষ্টিত হয়ে পড়ে পুরো চর। তখন অসুস্থ রোগী কিংবা জরুরি কাজে নদী পারাপারে নিদারুণ ভোগান্তিতে পড়তে হয় চরে বসবাসকারীদের। কারণ চরে বসবাসকারীদের নিজস্ব কোনো নৌকা নেই। ভাড়া করা নৌকা ব্যবহার করলেও তা অনিয়মিত ও সময় সাপেক্ষ।

স্থানীয় বৃদ্ধ আব্দুল লতিফ বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর থেকেই এখানে বসবাস শুরু হয়। বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে আমরা পুরোপুরি জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ি। অসুস্থ হলে কিংবা কোনো জরুরি কাজে বাইরে যেতে হলে অন্যের নৌকা ভাড়া করতে হয়। অনেক সময় নৌকা পাওয়া যায় না। তখন এ চরের বাসিন্দাদের ভোগান্তিতে থাকতে হয়।

মাঝিয়ালির চরের বাসিন্দা সোহেল ইসলাম বলেন, বর্ষা মৌসুমে বাজার করা থেকে শুরু করে স্কুলে যাওয়া সবকিছুতেই ভোগান্তিতে পড়তে হয়। বিশেষ করে কেউ অসুস্থ হলে চিন্তার শেষ থাকে না। তা আরও বেড়ে যায়। আমাদের এ চরের বাসিন্দাদের নিজস্ব নৌকা নেই। নিজেদের একটি নৌকা থাকলে এ কষ্ট অনেকটাই কমে যেত।

এ ব্যাপারে আলোকঝাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান বলেন, এর আগে মাঝিয়ালির চরের বাসিন্দাদের যাতায়াতের জন্য নৌকা দেয়া হয়েছিল। সেটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে গেছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মহোদয়ের নির্দেশে আবারও নৌকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। আশা করছি, শিগগিরই এ সমস্যার সমাধান হবে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. কামরুজ্জামান সরকার বলেন, মাঝিয়ালির চরের যাতায়াত সমস্যা সম্পর্কে জানার পর আমরা সরজমিন পরিদর্শন করেছি। জরুরি পরিস্থিতিতে যেন তাঁরা নৌকায় যাতায়াত করতে পারেন, সে বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।