কৃষিভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলা। এখানে অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি অত্যান্ত লাভজনক রোপা আমন ধান। এ ধান ঘরে তুলে অধিকাংশ কৃষক তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণের চেষ্টা করেন। এবারও সেই স্বপ্নে কাদাপানিতে রোপণ করতে শুরু করেছে ধানচারা। ইতোমধ্যে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন প্রান্তিক কৃষকরা।
সরেজমিনে বুধবার বিকেলে সাদুল্লাপুর উপজেলার বিস্তৃর্ণ মাঠজুড়ে দেখা গেছে কৃষকদের রোপা আমন চারা রোপণের ব্যস্ততা। যেনো দম ফেলানোর ফুসরত নেই তাদের।
স্থানীয় কৃষকরা জানায়, জীবন জীবিকার জন্য সাদুল্লাপুরের অধিকাংশ মানুষ কৃষির ওপর নির্ভশীল। এ জেলার শতকরা প্রায় ৭০ ভাগ জনসাধারণ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষি ফসল ঘরে তুলে তাদের মৌলিক চাহিদা পুরণে চেষ্টা করে। সবচেয়ে লাভজনক ফসল হচ্ছে রোপা আমন ধান। তবে আমন চারা রোপণের সময় প্রত্যেক বছরে বন্যা দেখা দিলেও এ বছরে এখনো বন্যার প্রভাব পড়েনি। তাই সম্প্রতি উঁচু এলাকার কৃষকরা আমন ধান চারা রোপণ কাজ পুরোদমে শুরু করেছে। আর কিছুদিন পরই নিচু এলাকার কৃষকরাও রোপণ করবেন আমন চারা। গেল বোরো আবাদে বাড়তি খরচ করে ধান উৎপাদন করেছেন তারা। সেই খরচ পুষিয়ে নিতে প্রস্তুতি নিয়েছেন রোপা আমন ধান আবাদের। কিন্তু চারা সংকট আর অধিক দামের কারণে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জামালপুরের কৃষক আলমগীর হোসেন জানান, চলতি আমন মৌসুমে এক একর জমিতে ধান চারা রোপনের পরিকল্পনা নিয়েছিলেন। কিন্তু চারা সংকটে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হচ্ছে না তার।
সাদুল্লাপুর কৃষি ভিাগের উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা আব্দুর রব সরকার বলেন, গত বছর ১৫ হাজার ৩১৫ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধানের আবাদ হয়েছিল। চলতি মৌসুমে ১৬ হাজার ৩৩০ হেক্টর লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এ পর্যন্ত ১৫ হাজার ২৩৫ হেক্টর অর্জন হয়েছে। আশা করি লক্ষ্যমাত্রা ছেড়ে যেতে পারে। তিনি আরও বলেন, কৃষকদের লাভবান করতে ইতোমধ্যে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মাঠপর্যায়ে পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট 

















