শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জবির সাজিদ ভবনের সিড়িঁর বেহাল দশায় ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শহীদ সাজিদ একাডেমিক ভবনের সিড়িঁর বেহাল দশায় ভোগান্তিতে পড়ছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ১৩ তলা এই ভবনের পর্যাপ্ত লিফট না থাকায় সিড়ি দিয়েই যাতায়াত করতে হয় শিক্ষার্থীদের। প্রতিদিন কয়েক হাজার শিক্ষার্থী সিড়ি ব্যবহার করলেও এর বেহাল দশার কারণে ভোগান্তিতে পড়ছেন তারা। তৈরি হয়েছে নিরাপত্তা ঝুঁকিও। ঝুঁকিপূর্ণ রেলিং আর সিড়িতে বের হয়ে থাকা রডের কারণে প্রায়ই আহত হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। এমনকি বড় ধরণের দূর্ঘটনারও আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

‎সরজমিনে দেখা গেছে, এই ভবনের তিনটি সিড়ি আছে। এর মধে একটি সিড়ি বন্ধ থাকায় ব্যবহৃত হয় মাত্র দুইটি। দুইটি সিড়িরই জরাজীর্ণ অবস্থা। সিড়ির মধ্য থেকে বের হয়ে থাকা অবশিষ্ট রড এবং সিড়িতে ব্যবহৃত লোহার পাত বের হয়ে আছে। এসব রডের আঘাতে প্রায়ই দূর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। বিশেষ করে এই ভবনের নিচতলা থেকে ৮ তলা পর্যন্ত সিড়িগুলো খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। কয়েলটি জায়গায় ভাঙা রেলিংয়ের কারণেও ঝুঁকিতে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। এতে যেকোনো মুহূর্তেই বড় কোনো দূর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, এই ভবনে ১৬ টির অধিক বিভাগ আছে। এসব সিড়ি ব্যবহার করে প্রতিদিন প্রায় কয়েক হাজার শিক্ষার্থী যাতায়াত করেন। পর্যাপ্ত লিফট না থাকায় সিড়ি দিয়েই যাতায়াত করেন অধিকাংশ শিক্ষার্থী। সিড়ির এমন বেহাল দশার কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনার কবলে পড়েন তারা। তারা বলছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে এগুলোর সংস্কার না হলে বড় ধরণের দূর্ঘটনা ঘটতে পারে।

‎এবিষয়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০ তম আবর্তনের শিক্ষার্থী আরাফাত হোসাইন বলে, শহীদ সাজিদ ভবনের নিচ তলা থেকে শুরু করে ১২তলা উঠার জন্য শিক্ষক-শিক্ষিকা-কর্মকর্তাদের লিফট এর পাশে যেই সিড়ি ব্যবহৃত হয় সেই সিড়ির প্রত্যেকটি ধাপ চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেছে। উঠার সময় সেখানে প্রায়ই হোচট খেয়ে থাকে শিক্ষার্থীরা। কেউ যদি সেটি খেয়াল না করে বা বই পড়তে পড়তে উপরে উঠে অথবা অন্যমনস্ক হয়ে উপরে উঠে তাহলে গুরুতর ভাবে আহত হবে। প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, তারা প্রশাসনিক ভবনে সামান্য দোতলার জন্য লিফট লাগাতে পারেন কিন্তু সিড়িতে এভাবে গুরুতর আহত হওয়ার শঙ্কা থাকার পরও তারা এর মেরামতের কোনো পদক্ষেপ নেন নি। তীব্রভাবে নিন্দা জানাচ্ছি এই বিষয়টি উপেক্ষা করার জন্য।

‎নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০ তম আবর্তনের সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষে সুদীপ পাল বলেন, সাজিদ ভবন এর সিঁড়ির অবস্থা বেহাল যেটা প্রশাসনের সরেজমিনে পরিদর্শন করে এর সংস্কার করা উচিত। ভবনের প্রায় প্রতিটি ফ্লোরের সিঁড়িতেই লোহা গুলো বের হয়ে গেছে যা চলাচলের জন্য খুবই বিপজ্জনক, যে কোন সময় দুর্ঘটনার সৃষ্টি হতে পারে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো প্রশাসন এই বিষয়ে কোনো প্রদক্ষেপ ই গ্ৰহণ করেনি। প্রশাসনের এমন গা-ছাড়া আচরণ সত্যিই হতাশজনক।

‎গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী সজীব বড়ুয়া বলেন, আমাদের শহীদ সাজিদ ভবনের সিঁড়িগুলো প্রথমত নোংরা এবং ভঙ্গুর। সময়ের সাথে সিঁড়ির বাঁধাই করা পাত খুলে ভেতরের ধারালো লৌহ খন্ড বের হয়ে আছে, যা যেকোনো সময়ে অনাকাঙ্খিত দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে। শুধু শিক্ষার্থী নয় বরং শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের নিরাপত্তা স্বার্থে কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়া উচিত। শত কোটির বাজেট থাকা সত্ত্বেও এমন সমস্যা প্রশাসন নাকের ডগায় উড়িয়ে দেয় কারণ তাঁরা ব্যবহার করেন লক্ষ টাকার নতুন লিফট।

‎লোকপ্রশাসন বিভাগের প্রতীক মন্ডল বলেন, শহিদ সাজিদ ভবনের সিঁড়িগুলো দীর্ঘদিন ধরে ক্ষয়প্রাপ্ত এবং অপরিষ্কার অবস্থায় রয়েছে। সিঁড়ির ভাঙা অংশ ও বেরিয়ে থাকা লোহা চলাচলের সময় শিক্ষার্থীদের আঘাতের ঝুঁকি তৈরি করছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ চলাচলের জন্য আমরা আশা করি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত এই সিঁড়িগুলো মেরামত করবে।

‎পরিসংখ্যান বিভাগের ২০ তম আবর্তনের শিক্ষার্থীদের পক্ষে পাভেল আনম বলেন, সাজিদ ভবনের লিফটের পাশের সিঁড়িগুলোর জরাজীর্ণ অবস্থা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটা স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালের জন্য মোটেই গর্বের নয়।৩ টা লিফট হওয়ার শর্তেও অনেক সময় শিক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট টাইমে ক্লাসে উপস্থিতি ও ক্লাস শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসগুলো ধরার জন্য লিফটের অপেক্ষা না করে সিঁড়ি দিয়ে উঠা-নামা করে। অতি দ্রুত ও অন্যমনস্ক হয়ে উঠা-নামা করার সময় গুরুতর দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এছাড়া সিঁড়ির পাশের রেলিং এ প্রচণ্ড ধুলাবালি থাকে, ৬-১২ তলায় উঠার জন্য রেলিং এর সাপোর্ট নেওয়া ও অস্বাস্থ্যকর।তাই এই অবস্থায় সিঁড়ি গুলো মেরামত করা একান্ত বাঞ্ছনীয়।অবিলম্বে সিঁড়ি মেরামতের কাজ শুরু করার জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করছি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ‎বিশ্ববদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী মো: হেলাল উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, আমি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত। এই ভবনটি আমি দায়িত্ব গ্রহণের পূর্বে নির্মাণ করা হয়েছে। সংস্কারের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

জনপ্রিয়

জবির সাজিদ ভবনের সিড়িঁর বেহাল দশায় ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

প্রকাশের সময়: ০৭:৪১:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৫

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শহীদ সাজিদ একাডেমিক ভবনের সিড়িঁর বেহাল দশায় ভোগান্তিতে পড়ছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ১৩ তলা এই ভবনের পর্যাপ্ত লিফট না থাকায় সিড়ি দিয়েই যাতায়াত করতে হয় শিক্ষার্থীদের। প্রতিদিন কয়েক হাজার শিক্ষার্থী সিড়ি ব্যবহার করলেও এর বেহাল দশার কারণে ভোগান্তিতে পড়ছেন তারা। তৈরি হয়েছে নিরাপত্তা ঝুঁকিও। ঝুঁকিপূর্ণ রেলিং আর সিড়িতে বের হয়ে থাকা রডের কারণে প্রায়ই আহত হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। এমনকি বড় ধরণের দূর্ঘটনারও আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

‎সরজমিনে দেখা গেছে, এই ভবনের তিনটি সিড়ি আছে। এর মধে একটি সিড়ি বন্ধ থাকায় ব্যবহৃত হয় মাত্র দুইটি। দুইটি সিড়িরই জরাজীর্ণ অবস্থা। সিড়ির মধ্য থেকে বের হয়ে থাকা অবশিষ্ট রড এবং সিড়িতে ব্যবহৃত লোহার পাত বের হয়ে আছে। এসব রডের আঘাতে প্রায়ই দূর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। বিশেষ করে এই ভবনের নিচতলা থেকে ৮ তলা পর্যন্ত সিড়িগুলো খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। কয়েলটি জায়গায় ভাঙা রেলিংয়ের কারণেও ঝুঁকিতে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। এতে যেকোনো মুহূর্তেই বড় কোনো দূর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, এই ভবনে ১৬ টির অধিক বিভাগ আছে। এসব সিড়ি ব্যবহার করে প্রতিদিন প্রায় কয়েক হাজার শিক্ষার্থী যাতায়াত করেন। পর্যাপ্ত লিফট না থাকায় সিড়ি দিয়েই যাতায়াত করেন অধিকাংশ শিক্ষার্থী। সিড়ির এমন বেহাল দশার কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনার কবলে পড়েন তারা। তারা বলছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে এগুলোর সংস্কার না হলে বড় ধরণের দূর্ঘটনা ঘটতে পারে।

‎এবিষয়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০ তম আবর্তনের শিক্ষার্থী আরাফাত হোসাইন বলে, শহীদ সাজিদ ভবনের নিচ তলা থেকে শুরু করে ১২তলা উঠার জন্য শিক্ষক-শিক্ষিকা-কর্মকর্তাদের লিফট এর পাশে যেই সিড়ি ব্যবহৃত হয় সেই সিড়ির প্রত্যেকটি ধাপ চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেছে। উঠার সময় সেখানে প্রায়ই হোচট খেয়ে থাকে শিক্ষার্থীরা। কেউ যদি সেটি খেয়াল না করে বা বই পড়তে পড়তে উপরে উঠে অথবা অন্যমনস্ক হয়ে উপরে উঠে তাহলে গুরুতর ভাবে আহত হবে। প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, তারা প্রশাসনিক ভবনে সামান্য দোতলার জন্য লিফট লাগাতে পারেন কিন্তু সিড়িতে এভাবে গুরুতর আহত হওয়ার শঙ্কা থাকার পরও তারা এর মেরামতের কোনো পদক্ষেপ নেন নি। তীব্রভাবে নিন্দা জানাচ্ছি এই বিষয়টি উপেক্ষা করার জন্য।

‎নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০ তম আবর্তনের সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষে সুদীপ পাল বলেন, সাজিদ ভবন এর সিঁড়ির অবস্থা বেহাল যেটা প্রশাসনের সরেজমিনে পরিদর্শন করে এর সংস্কার করা উচিত। ভবনের প্রায় প্রতিটি ফ্লোরের সিঁড়িতেই লোহা গুলো বের হয়ে গেছে যা চলাচলের জন্য খুবই বিপজ্জনক, যে কোন সময় দুর্ঘটনার সৃষ্টি হতে পারে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো প্রশাসন এই বিষয়ে কোনো প্রদক্ষেপ ই গ্ৰহণ করেনি। প্রশাসনের এমন গা-ছাড়া আচরণ সত্যিই হতাশজনক।

‎গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী সজীব বড়ুয়া বলেন, আমাদের শহীদ সাজিদ ভবনের সিঁড়িগুলো প্রথমত নোংরা এবং ভঙ্গুর। সময়ের সাথে সিঁড়ির বাঁধাই করা পাত খুলে ভেতরের ধারালো লৌহ খন্ড বের হয়ে আছে, যা যেকোনো সময়ে অনাকাঙ্খিত দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে। শুধু শিক্ষার্থী নয় বরং শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের নিরাপত্তা স্বার্থে কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়া উচিত। শত কোটির বাজেট থাকা সত্ত্বেও এমন সমস্যা প্রশাসন নাকের ডগায় উড়িয়ে দেয় কারণ তাঁরা ব্যবহার করেন লক্ষ টাকার নতুন লিফট।

‎লোকপ্রশাসন বিভাগের প্রতীক মন্ডল বলেন, শহিদ সাজিদ ভবনের সিঁড়িগুলো দীর্ঘদিন ধরে ক্ষয়প্রাপ্ত এবং অপরিষ্কার অবস্থায় রয়েছে। সিঁড়ির ভাঙা অংশ ও বেরিয়ে থাকা লোহা চলাচলের সময় শিক্ষার্থীদের আঘাতের ঝুঁকি তৈরি করছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ চলাচলের জন্য আমরা আশা করি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত এই সিঁড়িগুলো মেরামত করবে।

‎পরিসংখ্যান বিভাগের ২০ তম আবর্তনের শিক্ষার্থীদের পক্ষে পাভেল আনম বলেন, সাজিদ ভবনের লিফটের পাশের সিঁড়িগুলোর জরাজীর্ণ অবস্থা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটা স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালের জন্য মোটেই গর্বের নয়।৩ টা লিফট হওয়ার শর্তেও অনেক সময় শিক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট টাইমে ক্লাসে উপস্থিতি ও ক্লাস শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসগুলো ধরার জন্য লিফটের অপেক্ষা না করে সিঁড়ি দিয়ে উঠা-নামা করে। অতি দ্রুত ও অন্যমনস্ক হয়ে উঠা-নামা করার সময় গুরুতর দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এছাড়া সিঁড়ির পাশের রেলিং এ প্রচণ্ড ধুলাবালি থাকে, ৬-১২ তলায় উঠার জন্য রেলিং এর সাপোর্ট নেওয়া ও অস্বাস্থ্যকর।তাই এই অবস্থায় সিঁড়ি গুলো মেরামত করা একান্ত বাঞ্ছনীয়।অবিলম্বে সিঁড়ি মেরামতের কাজ শুরু করার জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করছি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ‎বিশ্ববদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী মো: হেলাল উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, আমি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত। এই ভবনটি আমি দায়িত্ব গ্রহণের পূর্বে নির্মাণ করা হয়েছে। সংস্কারের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।