শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সাদুল্লাপুরে দুর্বৃত্তদের আগুনে পুড়ল মন্দিরের ৬ প্রতিমা

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলা শহরের প্রাণকেন্দ্রর একটি মন্দিরের ৬টি প্রতিমায় আগুন দিয়ে পুড়ে ছাই করেছে দুর্বৃত্তরা।

সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতের কোন এক সময় উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের হামিন্দপুর (কর্মকারপাড়া) গ্রামের বারোয়ারী সার্বজনিন মন্দিরের পাশে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানায়, স্থানীয় মহেশ চন্দ্র কর্মকার নামের এক ব্যক্তি জমিদান করে ওই মন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত করেন। এরপর থেকে তাদের সমাজের লোকজন বিভিন্ন পূজাপালন করে আসছিলেন। এরই মধ্যে স্থানীয় কার্তিক কর্মকার ও কুন্তল কর্মকারের সঙ্গে অনুকুল কর্মকার এবং চন্দন কর্মকারদের মতবিরোধ সৃষ্টি হয়। এরই একপর্যায়ে কার্তিক কর্মকার গংরা ওই মন্দিরে দুইটি তালা ঝুলিয়ে দেন। এ অবস্থায় আসন্ন দুর্গাপুজা উপলক্ষ্যে মন্দিরের পাশে প্রতিমা তৈরি শুরু করেন অনুকুল কর্মকার গংরা। সম্প্রতি কাঠামোগত উপকরণে ছয়টি প্রতিমা তৈরি করেন তারা। এসব প্রতিমায় কেবল খর দিয়ে তৈরি করা হয় কিন্তু এখনো মাটির প্রলেপ দেওয়া হয়নি। এরই একপর্যায়ে সোমবার দিবাগত রাতে কে বা কারা ওই প্রতিমাগুলো আগুন দিয়ে পুড়ে ফেলে গেছে।

এ তথ্য নিশ্চিত করে মন্দিরটি দায়িত্বশীল ব্যক্তি অনুকুল কর্মকার বলেন, একটি পক্ষ মন্দির নিয়ে আমাদের সঙ্গে গ্রুপিং করে আসছে। এরপর রাতের আধারে কে বা কারা আমাদের তৈরি প্রতিমার ভূতিগুলো অগ্নিসংযোগ করে পুড়ে ফেলেছে। খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ।

এ ঘটনায় ওই মন্দিরের আরেক দায়িত্বশীল ব্যক্তি কার্ত্তিক কর্মকারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে সাদুল্লাপুর উপজেলা পূজা উৎযাপন পরিষদের সভাপতি প্রভাত চন্দ্র অধিকারী বলেন, প্রতিমা পুড়ে ফেলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাওয়া হয়। এ বিষয়ে মন্দিরের দুই পক্ষকে নিয়ে ইউএনও স্যারের কাছে বসা হবে।

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, সাদুল্লাপুর উপজেলায় ধীরে ধীরে আইনশৃঙ্খলার অবনিত হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি ও চাঁদাবাজীর ঘটনা হরহামেশাই ঘটছে। পুলিশের নিষ্ক্রিয় ভূমিকা বলে জানান তারা ।

এ বিষয়ে সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাজউদ্দিন খন্দকারের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হয় কিন্তু কলটি রিসিভ করতে পারেনি তিনি। ফলে বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

জনপ্রিয়

সাদুল্লাপুরে দুর্বৃত্তদের আগুনে পুড়ল মন্দিরের ৬ প্রতিমা

প্রকাশের সময়: ০৪:৫১:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৫

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলা শহরের প্রাণকেন্দ্রর একটি মন্দিরের ৬টি প্রতিমায় আগুন দিয়ে পুড়ে ছাই করেছে দুর্বৃত্তরা।

সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতের কোন এক সময় উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের হামিন্দপুর (কর্মকারপাড়া) গ্রামের বারোয়ারী সার্বজনিন মন্দিরের পাশে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানায়, স্থানীয় মহেশ চন্দ্র কর্মকার নামের এক ব্যক্তি জমিদান করে ওই মন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত করেন। এরপর থেকে তাদের সমাজের লোকজন বিভিন্ন পূজাপালন করে আসছিলেন। এরই মধ্যে স্থানীয় কার্তিক কর্মকার ও কুন্তল কর্মকারের সঙ্গে অনুকুল কর্মকার এবং চন্দন কর্মকারদের মতবিরোধ সৃষ্টি হয়। এরই একপর্যায়ে কার্তিক কর্মকার গংরা ওই মন্দিরে দুইটি তালা ঝুলিয়ে দেন। এ অবস্থায় আসন্ন দুর্গাপুজা উপলক্ষ্যে মন্দিরের পাশে প্রতিমা তৈরি শুরু করেন অনুকুল কর্মকার গংরা। সম্প্রতি কাঠামোগত উপকরণে ছয়টি প্রতিমা তৈরি করেন তারা। এসব প্রতিমায় কেবল খর দিয়ে তৈরি করা হয় কিন্তু এখনো মাটির প্রলেপ দেওয়া হয়নি। এরই একপর্যায়ে সোমবার দিবাগত রাতে কে বা কারা ওই প্রতিমাগুলো আগুন দিয়ে পুড়ে ফেলে গেছে।

এ তথ্য নিশ্চিত করে মন্দিরটি দায়িত্বশীল ব্যক্তি অনুকুল কর্মকার বলেন, একটি পক্ষ মন্দির নিয়ে আমাদের সঙ্গে গ্রুপিং করে আসছে। এরপর রাতের আধারে কে বা কারা আমাদের তৈরি প্রতিমার ভূতিগুলো অগ্নিসংযোগ করে পুড়ে ফেলেছে। খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ।

এ ঘটনায় ওই মন্দিরের আরেক দায়িত্বশীল ব্যক্তি কার্ত্তিক কর্মকারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে সাদুল্লাপুর উপজেলা পূজা উৎযাপন পরিষদের সভাপতি প্রভাত চন্দ্র অধিকারী বলেন, প্রতিমা পুড়ে ফেলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাওয়া হয়। এ বিষয়ে মন্দিরের দুই পক্ষকে নিয়ে ইউএনও স্যারের কাছে বসা হবে।

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, সাদুল্লাপুর উপজেলায় ধীরে ধীরে আইনশৃঙ্খলার অবনিত হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি ও চাঁদাবাজীর ঘটনা হরহামেশাই ঘটছে। পুলিশের নিষ্ক্রিয় ভূমিকা বলে জানান তারা ।

এ বিষয়ে সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাজউদ্দিন খন্দকারের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হয় কিন্তু কলটি রিসিভ করতে পারেনি তিনি। ফলে বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।