শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাতের আধারে দুর্বৃত্তরা কেড়ে নিল মাছচাষির স্বপ্ন

নিভৃত গ্রামাঞ্চলের যুবক আফতার আলী খন্দকার আক্তার (৪০)। নিজস্ব পুকুরে মাছচাষ করে মৌলিক চাহিদা পূরণের চেষ্টা করেন। এরই ধারাবাহিকতায় মনোসেক্স জাতের তেলাপিয়ার পোনা অবমুক্ত করেন। এখান থেকে প্রায় দুই লাখের বেশি টাকা লাভের আশা করছিলেন তিনি। এরই মধ্যে কে বা কারা বিষপ্রয়োগ করে প্রায় ৪০ মণ মাছ মেরে ফেলেছে বলে অভিযোগ এই উদ্যোক্তার।

বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের বসনিয়াপাড়াস্থ পুকুরে দেখা গেছে- অসংখ্য মাছ মেরে ফেলার দৃশ্য। এসময় উদ্যোক্তা আফতার আলী খন্দকার আক্তার চরম আহাজারিতে ভুগছিলেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রসুলপুর ইউনিয়নের ফকিরপাড়া গ্রামের মৃত ইয়াকুব আলী খন্দকারের ছেলে আফতার আলী খন্দকার আক্তার তার ৪২ শতক পুকুরে দীর্ঘদিন ধরে মাছচাষ করে আসছেন। এ থেকে অনেকটা লাভের মুখ দেখেন তিনি। ফলশ্রুতি এ বছর ব্র্যাকের মনোসেক্স জাতের তেলাপিয়ার পোনা অবমুক্ত করা হয়। ইতোমধ্যে সেইসব পোনা বড় হয়ে মাছে পরিণত হচ্ছিল। এ অবস্থায় বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে কে বা কারা ওই পুকুরের বিষ দিয়ে প্রায় ১২ মণ মাছ মেরে ফেলেছে। শুধু তায় নয়, এর আগে গত রোববার রাতেও প্রায় ২৮ মণ মাছ নিধন করেছে দুর্বৃত্তরা।

এ তথ্য নিশ্চিত করে ক্ষতিগ্রস্থ আফতার আলী খন্দকার আক্তার বলেন, অধিক লাভের স্বপ্নে বিভিন্নভাবে ঋণ করে তেলাপিয়া মাছ পালন করছিলাম। এরই মধ্যে পুকুরে বিষপ্রয়োগ করে দুই দফায় প্রায় ৪০ মণ মাছ মেরে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। এতে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে। এখন আমি কীভাবে ঘুরে দাঁড়াব সেই চিন্তায় আছি। এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।

এ বিষয়ে সাদুল্লাপুর উপজেলা মৎস কর্মকর্তা সুমিতা খাতুন বলেন, মাছচাষি আফতার আলী খন্দকার আক্তার আমাদের একজন ঋণ গ্রহীতা। তার পুকুরের মাছ মেরে ফেলার ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। তিনি চাইলে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারেন। আমরা সেব্যাপারে সহযোগীতা করব।

জনপ্রিয়

রাতের আধারে দুর্বৃত্তরা কেড়ে নিল মাছচাষির স্বপ্ন

প্রকাশের সময়: ০৬:০৯:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫

নিভৃত গ্রামাঞ্চলের যুবক আফতার আলী খন্দকার আক্তার (৪০)। নিজস্ব পুকুরে মাছচাষ করে মৌলিক চাহিদা পূরণের চেষ্টা করেন। এরই ধারাবাহিকতায় মনোসেক্স জাতের তেলাপিয়ার পোনা অবমুক্ত করেন। এখান থেকে প্রায় দুই লাখের বেশি টাকা লাভের আশা করছিলেন তিনি। এরই মধ্যে কে বা কারা বিষপ্রয়োগ করে প্রায় ৪০ মণ মাছ মেরে ফেলেছে বলে অভিযোগ এই উদ্যোক্তার।

বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের বসনিয়াপাড়াস্থ পুকুরে দেখা গেছে- অসংখ্য মাছ মেরে ফেলার দৃশ্য। এসময় উদ্যোক্তা আফতার আলী খন্দকার আক্তার চরম আহাজারিতে ভুগছিলেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রসুলপুর ইউনিয়নের ফকিরপাড়া গ্রামের মৃত ইয়াকুব আলী খন্দকারের ছেলে আফতার আলী খন্দকার আক্তার তার ৪২ শতক পুকুরে দীর্ঘদিন ধরে মাছচাষ করে আসছেন। এ থেকে অনেকটা লাভের মুখ দেখেন তিনি। ফলশ্রুতি এ বছর ব্র্যাকের মনোসেক্স জাতের তেলাপিয়ার পোনা অবমুক্ত করা হয়। ইতোমধ্যে সেইসব পোনা বড় হয়ে মাছে পরিণত হচ্ছিল। এ অবস্থায় বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে কে বা কারা ওই পুকুরের বিষ দিয়ে প্রায় ১২ মণ মাছ মেরে ফেলেছে। শুধু তায় নয়, এর আগে গত রোববার রাতেও প্রায় ২৮ মণ মাছ নিধন করেছে দুর্বৃত্তরা।

এ তথ্য নিশ্চিত করে ক্ষতিগ্রস্থ আফতার আলী খন্দকার আক্তার বলেন, অধিক লাভের স্বপ্নে বিভিন্নভাবে ঋণ করে তেলাপিয়া মাছ পালন করছিলাম। এরই মধ্যে পুকুরে বিষপ্রয়োগ করে দুই দফায় প্রায় ৪০ মণ মাছ মেরে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। এতে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে। এখন আমি কীভাবে ঘুরে দাঁড়াব সেই চিন্তায় আছি। এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।

এ বিষয়ে সাদুল্লাপুর উপজেলা মৎস কর্মকর্তা সুমিতা খাতুন বলেন, মাছচাষি আফতার আলী খন্দকার আক্তার আমাদের একজন ঋণ গ্রহীতা। তার পুকুরের মাছ মেরে ফেলার ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। তিনি চাইলে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারেন। আমরা সেব্যাপারে সহযোগীতা করব।