দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে ধানক্ষেতে ইঁদুরের উপদ্রব দিনদিন বেড়েই চলেছে। ইঁদুর ধানক্ষেত কেটে নষ্ট করায় কৃষকদেরও চিন্তার অন্ত নেই। ইঁদুরের উপপাত থেকে ক্ষেতকে রক্ষা করতে বিষটোপ, পলিথিনের নিশানা আর কলাগাছ পুঁতে দিচ্ছেন কৃষকেরা। এসব পদ্ধতি অনুসরণ করেও আশানুরুপ কোনো ফলাফল পাচ্ছেন না কৃষক।
কালো ইঁদুরের দৌরাত্নে ফসল নষ্ট করায় কৃষকেরা পড়েছেন চরম দুশ্চিন্তায়। এমতাবস্থায় উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ জোহরা সুলতানা ও উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা মিনহাজুল হক নবাবের পরামর্শক্রমে স্থানীয় প্রযুক্তি ‘বাঁশের চোঙা ফাঁদ’ ব্যবহার করে কিভাবে ইঁদুর নিধন করা যায় সে বিষয়ে কৃষকদের সঙ্গে আলোচনা করেন। ‘বাঁশের চোঙা’ দিয়ে কিভাবে ফাঁদ তৈরি করা যায় সে বিষয়ে কৃষকদের পরামর্শ প্রদান করেন। এখন স্থানীয় প্রযুক্তি ‘বাঁশের চোঙা ফাঁদ’ দিয়ে ইঁদুর নিধন শুরু করেছেন কৃষকরা। এ ‘বাঁশের চোঙা ফাঁদ’ পদ্ধতি অনুসরণ করে সুফল পাচ্ছেন কৃষকেরা। স্থানীয় কয়েকজন কৃষক জানান, ধানক্ষেতে ইঁদুর দমনে এরকম সামাজিক উদ্যোগ নেয়া হলে ফসল রক্ষা করা সম্ভব হবে। তারা আরও জানান, শিয়ালের কারণেও ক্ষেতে ইঁদুরের উপদ্রব কম। এখন জমিতে পানি জমে থাকায় শিয়াল ক্ষেতের মধ্যে নামতে পারছে না। আগামী অল্প কিছু দিনের মধ্যে জমির পানি শুকিয়ে গেলে ক্ষেতের মধ্যে শিয়ালের পদচারণা বৃদ্ধি পাবে। তখন শিয়ালও অনেক ইঁদুর ভক্ষণ করবে। তাই আমরা এখন কাউকে শিয়াল হত্যা করতে দেই না। এতে নিরাপদ থাকবে পরিবেশও।
উপজেলার সাঁইতাড়া ইউনিয়নের খোচনা গ্রামের কৃষক আসাদুজ্জামান জানান, আমি গত রাতে ধানক্ষেতে ৪৪টি ‘বাঁশের চোঙা ফাঁদ’ বসাই। পরেরদিন সকালে গিয়ে দেখি, এসব ফাঁদে ৩৫টি ইঁদুর আটকা পড়েছে। এভাবে গত ৬ মাসে আমি অন্তত তিন হাজার ইঁদুর নিধন করেছি। এ ‘বাঁশের চোঙা ফাঁদ’ পদ্ধতি খুবই কার্যকর। গত বছর ইঁদুরের উৎপাত থেকে ফসল রক্ষা এবং ইঁদুর নিধনে বিশেষ অবদান রাখায় উপজেলা কৃষি অফিস তাকে পুরস্কৃত করেন বলে জানান।
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মিনহাজুল হক নবাব জানান, রাসায়নিক বিষ ব্যবহার করলে পরিবেশ দূষণসহ অন্যান্য প্রাণি ক্ষতির সম্মুখিন হয়। কিন্তু বাঁশের ফাঁদ নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও ব্যবহারে সহজতর। কৃষকেরা নিয়মিত এটি ব্যবহার করলে ইঁদুরের উপদ্রব বহুলাংশে হ্রাস পাবে।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ জোহরা সুলতানা জানান, প্রতি বছর আমাদের ফসলের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ইঁদুর দ্বারা ক্ষতি হয়। বিশেষ করে আমন মৌসুমে ইঁদুরের প্রকোপ বেশি হয়। কৃষি অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে প্রতিবছরের মতো এবছরও ইঁদুর নিধন অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। যাতে ইঁদুরের অনিষ্ট থেকে ফসল রক্ষা করা সম্ভব হয়। ফসলি জমিতে ইঁদুর নিধনে স্থানীয়ভাবে উদ্ভাবিত বাঁশের ফাঁদ পরিবেশবান্ধব ও কার্যকর।
তিনি আরও বলেন, এ ফাঁদের সাহায্যে সহজেই ইঁদুর ধরা সম্ভব হওয়ায় কৃষকেরাও আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। এ পদ্ধতি ব্যবহার করলে ধানসহ অন্যান্য ফসল সুরক্ষিত থাকবে। এ ফাঁদ ব্যবহারে আমরা কৃষকদের উৎসাহিত করছি। যে কৃষক বেশি ইঁদুর নিধন করতে পারবে তাকে অফিসের পক্ষ থেকে পুরস্কৃত করা হবে। তাই আসুন-‘পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি সম্প্রসারণ করি, নিরাপদে বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলি’।
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট, চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) 

















