গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা রেলস্টেশনে আটকে থাকা দুই এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রী ও স্টাফদের খিচুড়ি রান্না করে খাওয়ালেন বিএনপি নেতা মো, সাগির খান।
তাঁর এ মানবিক সহায়তার প্রসংশা করেছেন যাত্রী, রেলস্টাফ ও স্থানীয়রা। ছাগির খান সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য সচিব।
দোলনচাঁপা এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রী মো, আজাহার আলী (৪৩) বলেন, তাড়াহুড়া করে এসে ট্রেন ধরেছি। বাসায় খেতে পারিনি। সকাল ১১ টার দিকে এ স্টেশনে ট্রেনটি থেমেছে। এখন সময় রাত ৮ টা। কখন ছাড়বে কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না। মাথায় ভিষণ টেনশন আর পেটে প্রচন্ড ক্ষিদে। যিনি খাওয়ার ব্যবস্থা করেছেন আল্লাহ তার ভালো করুক।
পরিবার নিয়ে সান্তাহার যাচ্ছিলেন মোছাঃ রওশনারা বেগম (৫৫)। এ সময় কথা হয় তার সাথে। তিনি বলেন, মেয়ে এবং ৩ নাতি-নাতনিসহ ট্রেনে বাড়ি ফিরছিলাম। দীর্ঘসময় ধরে এ স্টেশনে আকটা পড়ে আছি। ট্রেনের খাবার শেষ। স্টেশনের আশ-পাশের হোটেলগুলোতেও খাবার পাইনি। ছোটো ছোটো বাচ্চারা ক্ষুধায় ছটপট করছিলো। এ খিচুড়ি এবং পানি পেয়ে আনন্দিত হয়েছি আমরা।
করতোয়া এক্সপ্রেস ট্রেনের স্টাফ মো, রবিউল ইসলাম বলেন, বহুদিন ধরে এ পেশায় আছি। সে কারণে মাঝেমধ্যেই এ ধরনের সমস্যায় পড়তে হয় আমাদের। কিন্তু কখনো এ ধরনের দৃশ্য দেখিনি। লাইনের পাশে চুলা বানিয়ে খিচুড়ি রান্না করে খাওয়ানো। মহান এ উদ্যোগকারীর ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, এ ধরনের লোক এখন বিরল।
এ বিষয়ে কথা বিএনপি নেতা মো, ছাগির খানের সাথে। তিমি বলেন, সন্ধার দিকে স্টেশনে আসি। শুনলাম সকাল ১১ টা থেকে ট্রেন দুটি আটকে আছে। কখন ছাড়বে তাও নিশ্চিত করে বলতে পারেছেন না স্টেশন মাস্টার। যাত্রী এবং স্টাফদের দেখে খুব ক্ষুধার্ত মনে হচ্ছিলো। তাই এ উদ্যোগ নিয়েছিলাম। তিনশো লোকের খাবার রেডি করা হয়। প্রত্যেককে ডিম, পানি ও খিচুড়ি দেয়া হয়। লোকগুলোকে খাওয়াতে পেরে আমার ভিষণ ভালো লেগেছে।
ছাগির খান আরও বলেন, আমরা রাত ১ টার দিকে বাসায় যাই। তখনোও ট্রেন স্টেশনে ছিলো। পরেরদিনই জানলাম রাত ২ টার দিকে নাকি ট্রেন ২টি ছেড়েছে।
বামনডাঙ্গা স্টেশন মাস্টার মো, হাইউল মিয়া বলেন, রংপুর জেলার পীরগাছা রেলস্টেশনে পদ্মরাগ মেইল ট্রেনের ৪ টি বগি লাইনচ্যুত হয়। এ কারণে বামনডাঙ্গা রেলস্টেশনে আটকা পড়ে থাকে করতোয়া ও দোলনচাপা এক্সপ্রেস ট্রেন। এ সময় চরম দুর্ভোগে পড়েন দুই ট্রেনের যাত্রী ও স্টাফরা। ক্ষুধার্ত যাত্রী এবং স্টাফদে খাওয়াতে লাইনের পাশে চুলা বানিয়ে খিচুড়ি রান্না করেন মো, ছাগির খান। তাঁর এ মানবিক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন এ স্টেশন মাস্টার। ২ ট্রেনে যাত্রী ও স্টাফ সবমিলিয়ে আড়াই শতাধিক লোক ছিলো বলেও জানান তিনি।
জাহিদ, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট 

















