গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে সড়ক ঘেঁষে আবাদি জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে পুকুর খননের অভিযোগ উঠেছে। খনন করা মাটি কাঁকড়া দিয়ে বিভিন্ন এলাকায় পরিবহন করায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে গ্রামীণ পাকা ও কাঁচা সড়ক। সেইসাথে দিন-রাত কাঁকড়ার শব্দ আর ধুলোয় অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। ঘটনাটি উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের তালুক ফলগাছা গ্রামের মন্ডলপাড়ায়।
সরেজমিনে ওই গ্রামের তালুক ফলগাছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুর্বপাশে পাঁচশো গজ দুরত্বে গিয়ে দেখা গেছে, যাতায়াতের সড়ক ঘেঁষে আবাদি জমির মাটি খনন করা হচ্ছে অবৈধ যন্ত্র এক্সকাভেটর দিয়ে। আর খনন করা মাটিগুলো বিক্রি করা হয়েছে। সে কারণে অবৈধ যান কাঁকড়া যোগে পরিবহন করা হচ্ছে মাটি গুলো বিক্রত বিভিন্ন স্থানে। এতে করে কাকড়া চলাচলে পাকা ও কাঁচা সড়কগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মাটি পরিবহনে ব্যবহিত কাঁকড়া গাড়ির ধুলো বাতাসে উড়ে মানুষের বসত বাড়িতে ঢুকছে। এতে করে ঘরের আসবাবপত্রগুলো ধুলোয় ঢেকে যাচ্ছে। খোলা রাখতে পারছেন না ভাত ও তরকারিসহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী। পুকুর খননকারী এলাকার প্রভাবশালী হওয়ায় মুখ খুলতেও সাহস পাচ্ছেন না কেউ। তবে তারা পরিত্রাণ চাচ্ছেন এ অবস্থা থেকে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক স্কুল শিক্ষক বলেন, “কি বলি ভাই, এ সড়কটি পাকা হওয়ার এখনো এক বছর পূর্ণ হয়নি। মাটি বহনকারী কাঁকড়ার বেপরোয়া গতিতে এখনেই সড়কের কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। এভাবে কাঁকড়া চললে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে যাবে খুব অল্প সময়ে। তাছাড়া ভয়ও হয় কখন যে কোন দূর্ঘটনা ঘটে।
কাঁকড়া চলাচলের সড়ক ঘেঁষে বসত বাড়ির এক মালিকের সাথে কথা হয়। তিনিও নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “ওজা মাস। তাছাড়া কাম-কাজ করা শরীল হামার। যেই একনা আরাম নিবার জন্যে শুতি তেই কাকড়ার শব্দ। মনে হয় মাতার উপর দিয়া গেলো। ঘুমতো দূরের কথা মাথার বিষ শুরু হয়।
ওই বাড়ির গৃহিণী জানান, সড়ক দিয়ে যখন কাকড়া যায় তখন ধুলোয় বাড়ি অন্ধকার হয়ে যায়। সেই ধুলোগুলো পরে ঘরের ভিতরে ঢুকে যায়। এতে শোয়ার ঘর ও রান্না করা ঘরসহ সবগুলো ঘরে থাকা জিনিসপত্র ধুলোয় ভর্তি হয়ে যায়। খাবার কোনো জিনিস খোলা রাখা তো দূরের কথা ঢেকে রেখেও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে সেগুলো। বলার কিছু নাই, নিরূপায় আমরা।
এ বিষয়ে কথা হয় সড়ক ঘেঁষে পুকুর খনন কাজে অভিযুক্ত কাওছার আহমেদ রোমানের সাথে। তিনি বলেন, “আমরা তো অন্যায় কাজ করতে পারি না। সে কারণে নিজস্ব জমিতে পুকুর খনন করতেছি মাছ চাষ করার জন্য। তাছাড়া সড়ক ঘেঁষে নয়, দূরত্ব বজায় রেখে পুকুর খনন করা হচ্ছে যাতে করে সড়কের কোনো ক্ষতি না হয়। তবে জমির শ্রেণি পরিবর্তনে প্রশাসনের অনুমতি লাগে বিষয়টি আমার জানা নেই।
এ বিষয়ে কথা হয় বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা মো. আতোয়ার রহমান খন্দকারের সাথে। তিনি বলেন, “শুধু তালুক ফলগাছায় নয়। আমার জানামতে এ ইউনিয়নের ৩টি স্থানে এ ভাবে মাটি খনন করা হচ্ছে। আমি সে জায়গাগুলোতে গিয়েছিলাম। বন্ধ করে দিয়ে এসেছি। এরপরে তারা আবারও মাটি খনন করছেন কি না জানি না। তবে বিষয়গুলো আমি আমার উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।
এ বিষয় কথা হয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলির সাথে। তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমরা মাঠে কাজ করছি। কোথাও কোনো অভিযোগ পেলেই ঘটনাস্থলে যাচ্ছি এবং ব্যবস্থা নিচ্ছি। আপনি ছবিসহ তথ্য হোয়াটসঅ্যাপ করেন আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে ইউএনও জানান, “জমির শ্রেণি পরিবর্তনে জেলা প্রশাসকের অনুমতি লাগে। সড়ক ঘেঁষে পুকুর খনন করাটাও ঠিক না।
জাহিদ, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট 















