গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে বসতবাড়ি ও ফসলি জমি ঘেঁষে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আর অবৈধভাবে এ বালু উত্তোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন মো. শাকোয়াত আলী () নামের এক বালু ব্যাবসায়ী।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. সিদ্দিকুর রহমান ফুল মিয়া (৪৭) পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র ও ইউএনও’র কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। এতে কোনো প্রতিকার পাননি তিনি। উল্টো বসতবাড়ি ও জমির সাথে এখন হুমকিতে আছেন তিনি নিজে ও তার পরিবারের লোকজন।
বালু ব্যাবসায়ী মো. শাকোয়াত আলী উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের চর চরিতা বাড়ি গ্রামের মৃত ইব্রাহীম আলীর ছেলে ও ভুক্তভোগী মো. সিদ্দিকুর রহমান ফুল মিয়া উপজেলার কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়নের ধুবনি বাজার এলাকার মৃত ওমেদ আলীর ছেলে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, হরিপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের (চর চরিতা বাড়ি) গুচ্ছ গ্রাম হতে আনুমানিক এক হাজার পাঁচশো গজ পশ্চিমে তিস্তার শাখা নদীতে বসানো হয়েছে বালু উত্তোলনের ড্রেজার মেশিন। গণমাধ্যম কর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে মেশিন বন্ধ করে গোপনে যান তারা। মেশিন তখনো গরম ছিলো। বালু উত্তোলনের জায়গার চারপাশ ভেঙ্গে যাচ্ছে। আশপাশ বসতবাড়ি এবং ভুট্টা ও বাদামসহ বিভিন্ন ফসলি জমি দেখা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, মাসব্যাপী সেখান থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। সেগুলো বিভিন্নভাবে বিভিন্নস্থানে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। বালু উত্তোলনের কারণে ফসলি জমি ভেঙ্গে যাচ্ছে নদীতে। হুমকির মুখে পড়েছে বসতবাড়ি এবং ভুট্টা ও বাদামসহ বিভিন্ন ফসলি জমি। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সিদ্দিকুর রহমান লিখিত অভিযোগ দিলেও স্থানীয়রা কেউ ক্যামেরায় কথা বলতে রাজি হননি প্রভাবশালী বালু ব্যাবসায়ীদের ভয়ে।
ভুক্তভোগী মো. সিদ্দিকুর রহমান ফুল মিয়া লিখিত অভিযোগে জানান, নদী ভাঙ্গার কারণে ধুপনি বাজারে পাশে বাড়ি করে আছি। সেই সাথে জীবিকার তাগিদে লালমনিরহাট এলাকায় চাকরি করি। বাড়িতে থাকার মতো তেমন কেউ নেই। আর এ সুযোগে স্থানীয় বালু ব্যাবসায়ীরা ড্রেজার মেশিন বসিয়ে আমার জমি থেকে বালু উত্তোলন করছেন। বিষয়টি জানতে পাই এবং এসে দেখি ঘটনা সত্য। পরে আমি বালু উত্তোলন করতে নিষেধ করি। এতে বালু উত্তোলন কারীরা আমাকে হুমকি দেন। নিরুপায় হয়ে গত ফেব্রুয়ারী মাসে ২ তারিখে ধুপনী তদন্ত পুলিশ কেন্দ্রে অভিযোগ দেই। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে নিষেধ করে চলে যান। তবুও বন্ধ করা হয়নি বালু উত্তোলন। বরং পুলিশ দেখে যাওয়ার পর থেকে বালু উত্তোলন কারীরা আরও বেপরোয়া গতিতে বালু উত্তোলন করছেন। সে কারণে আবারও এ মাসের গত ৫ তারিখে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট লিখিত অভিযোগ করি।
সিদ্দিকুর রহমান আরও বলেন, অভিযোগগুলো দিয়েছি। এখন পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখিনি কাউকে। উল্টো অভিযোগগুলো করার কারণে বালু ব্যাবসায়ীরা আমাকে হুমকি দিচ্ছেন। তারা বলছেন, জমি তো দূরের কথা, ঈদে বাড়ি আসলে আমার অবস্থা নাকি খারাপ করে দিবেন। এছাড়াও নানা ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন বালু ব্যাবসায়ীরা। এখন দেখছি বসতবাড়ি ও ফসলি জমির পাশাপাশি আমার জীবনটাও হুমকির মুখে। আছেন আমার পরিবারও। এমতাবস্থায় নিরুপায় মো. সিদ্দিকুর রহমান ফুল মিয়া প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন।
বিষয়টি জানার জন্য ধুপনী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মো. সেলিম রেজার সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে কথা হয় থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. তাজুল ইসলামের সাথে। তিনি বলেন, “বিষয়টি এমপি মহোদয় আমাকে জানিয়েছিলেন। এ নিয়ে ইউএনও স্যারের সাথে কথাও হয়েছে। এতোদিনে ব্যাবস্থা নেয়ার কথা। আচ্ছা আপনি আমাকে অভিযোগের কপিটা দেন। বিষয়টি আমরা দেখছি।
পুলিশ স্পট থেকে আসার পরে বন্ধ না-হয়ে বালু উত্তোলনের গতি আরও বেড়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি এড়িয়ে যান।
এ বিষয়ে কথা হয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলির সাথে। তিনি বলেন, “পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার পরে বালু উত্তোলন বন্ধ হওয়ার কথা। সেখানে আরও বেড়েছে, এটা হওয়ার কথা নয়।
ইউএনও বলেন, অভিযোগের কপিটি আমাকে দেন। আমি বিষয়টি দেখতেছি।
বালু উত্তোলন বন্ধে অভিযোগ করায় বাদীকে হুমকি দিচ্ছেন বালু ব্যাবসায়ীরা এ বিষয়ে প্রতিকার চাইলে ইউএনও বলেন, “বাদীকে থানায় অভিযোগ দিতে বলেন। আমি ওসিকে বলে দিচ্ছি।
জাহিদ, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট 


















