মায়ের চোখের কোণে আনন্দাশ্রু, আর বাবার বুকে গর্বের হাহাকার—বিরামপুরের শালবাগান এলাকার আকাশ-বাতাস যেন আজ এক অপার্থিব প্রশান্তিতে ছেয়ে গিয়েছিল। দীর্ঘ দিনের প্রচেষ্টা আর তিল তিল করে পবিত্র কুরআনের ৩০টি পারা হৃদয়ে গেঁথে নেওয়া সেই ছয়জন কিশোরের মাথায় যখন সাদা পাগড়ী তুলে দেওয়া হলো, তখন উপস্থিত শত শত মানুষের কণ্ঠ থেকে বেরিয়ে এলো মহান রবের শুকরিয়া।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) জুমা’র নামাজের পর বিরামপুর পৌরশহরের ছালেহিয়া দারুস সুন্নাহ এতিমখানা ও লিল্লাহ বোডিং হাফেজিয়া মাদ্রাসায় আয়োজিত এই ‘দস্তারবন্দি’ অনুষ্ঠানটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা ছিল না, এটি ছিল কুরআনের পাখিদের এক রাজকীয় বিদায় সংবর্ধনা।
যাঁদের অবশ্রান্ত পরিশ্রমে আজ তাঁদের মা-বাবা সমাজে সম্মানিত হলেন, তাঁরা হলেন—হাফেজ মো. আবু বকর সিদ্দিক, হাফেজ মো. মারুফ হাসান, হাফেজ মো. আল-আমিন, হাফেজ মো. আব্দুল নূর হাসান, হাফেজ মো. মাহিদ হাসান এবং হাফেজ মো. আশিকুর রহমান।
মাওলানা মো. তৈয়ব আলী যখন অত্যন্ত মমতায় এক এক করে এই কৃতি হাফেজদের মাথায় পাগড়ী পরিয়ে দিচ্ছিলেন, তখন পুরো প্যান্ডেলে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অনেক অভিভাবককে দেখা যায় তাঁদের প্রিয় সন্তানদের কপালে চুমু খেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়তে। অভাব-অনটনের মাঝেও সন্তানদের হাফেজ বানানোর যে স্বপ্ন তাঁরা দেখেছিলেন, আজ তা পূর্ণতা পেল।
অনুষ্ঠানে কোমলমতি এই হাফেজদের দোয়া দিতে উপস্থিত ছিলেন মাদ্রাসার সভাপতি ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মো. তোছাদ্দেক হোসেন তোছা, সাধারণ সম্পাদক রইচ উদ্দিন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুর এলাহী চৌধুরী রুবেল এবং পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রেজুসহ স্থানীয় বরেণ্য ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠান শেষে মোনাজাতে যখন এই হাফেজদের মা-বাবার মাগফেরাত এবং দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ কামনায় হাত তোলা হয়, তখন বিরামপুরের শালবাগান এলাকা এক জান্নাতি আবহে ভরে ওঠে। এলাকার মানুষ বলছেন, এই ছয়টি কিশোর কেবল কুরআনের হাফেজ নয়, তাঁরা একেকটি ঘরের অন্ধকার দূর করার প্রদীপ।
এবিএম মুছা, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট, বিরামপুর (দিনাজপুর) 














