বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ক্যান্সারে আক্রান্ত মোমেনা বাঁচতে চায়

বাবা আমি আর পারছি না। রাতে শরীরের অনেক ব্যাথা হয়। টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছি না। আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন। সমাজের সামর্থ্যবান মানুষ যদি একটু সহযোগিতা করেন, তাহলে হয়তো আবার চিকিৎসা নিতে পারবো। কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার থালতা মাঝগ্রাম ইউনিয়নের তৈয়বপুর গ্রামের মৃত রমজান আলীর স্ত্রী মোমেনা খাতুন (৫৮)।
দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে অর্থের অভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারছেন না তিনি। প্রতিনিয়ত তীব্র শারীরিক যন্ত্রণায় দিন কাটছে তার। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের শুরুর দিকে মোমেনা খাতুনের শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেওয়ার পর ওই বছরের এপ্রিল মাসে তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ক্যান্সার শনাক্ত হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তাকে সাতটি কেমোথেরাপি দেওয়ার কথা বলা হয়। কিন্তু পরিবারের আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
চিকিৎসার জন্য পরিবারের যা কিছু ছিলো বিক্রি করেন তারা। ২০২৩ সালের জুন মাস থেকে মোমেনা খাতুনের কেমোথেরাপি শুরু হয়। কিন্তু কয়েকটি কেমোথেরাপি ও পরবর্তী চিকিৎসা নেওয়ার পর অর্থের অভাবে চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যায়। পরিবারের সদস্যদের দাবি, প্রতিটি কেমোথেরাপিতে প্রায় ৪৫ হাজার টাকা খরচ হয়। ব্যয়বহুল এই চিকিৎসার খরচ বহন করতে গিয়ে পরিবারটি এখন ঋণের বোঝায় জর্জরিত।
মোমেনা খাতুনের ছেলে আব্দুল মোমিন (৩৫) বলেন, আমার যা কিছু ছিলো এবং মায়ের যা কিছু ছিলো সবই বিক্রি করে চিকিৎসা করিয়েছি। তবুও মাকে সুস্থ করতে পারিনি। টাকার অভাবে চিকিৎসা বন্ধ আছে। মা খুব যন্ত্রণার মধ্যে আছেন, রাতে ঘুমাতে পারে না। চিকিৎসার জন্য অনেক ঋণ হয়ে গেছে। এখন আর্থিকভাবে খুব অসহায় হয়ে পড়েছি। তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মতিনের সহযোগিতায় উপজেলা সমাজসেবা অফিস থেকে ৫০ হাজার টাকা অনুদান পেয়েছিলরাম। সেই টাকা ঋণ পরিশোধে ব্যয় হয়েছে। আব্দুল মোমিন কৃষিকাজ করেন। তিনি জানান, সীমিত আয়ে সংসার চালিয়ে মায়ের ব্যয়বহুল চিকিৎসা করা তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।
শশীনগর গ্রামের বাসিন্দা ও মাঝগ্রাম এমএ ফাজিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক উজ্জল হোসেন বলেন, আমি মোমেনা খাতুনকে যতটুকু পেরেছি সহযোগিতা করেছি। সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান যারা আছেন, তারা মোমেনা খাতুনের চিকিৎসার জন্য এগিয়ে আসুন।
থালতা মাজগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন বলেন, মোমেনা খাতুনের অসুস্থতার বিষয়টি আমরা জানি। তার চিকিৎসায় সহযোগিতার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করা হবে। মোমেনা খাতুনের চিকিৎসায় সহযোগিতার জন্য সমাজের বিত্তবান ও দানশীল মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী। সহযোগিতা করতে যোগাযোগ করতে হবে তার ছেলে আব্দুল মোমিনের সাথে। তার ফোন ও নগদ নম্বর ০১৭৮৮-২৩৬৬২৬।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা বলেন, মোমেনা খাতুনের চিকিৎসার জন্য ২০২৪ সালে ৫০ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছিলো। বর্তমানে তার চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা ও আর্থিক অসচ্ছলতা বিবেচনা করে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সহযোগিতার সুযোগ থাকলে ব্যবস্থা করা হবে।
বিজ্ঞাপন
জনপ্রিয়

ক্যান্সারে আক্রান্ত মোমেনা বাঁচতে চায়

প্রকাশের সময়: ০৮:৫৪:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বাবা আমি আর পারছি না। রাতে শরীরের অনেক ব্যাথা হয়। টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছি না। আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন। সমাজের সামর্থ্যবান মানুষ যদি একটু সহযোগিতা করেন, তাহলে হয়তো আবার চিকিৎসা নিতে পারবো। কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার থালতা মাঝগ্রাম ইউনিয়নের তৈয়বপুর গ্রামের মৃত রমজান আলীর স্ত্রী মোমেনা খাতুন (৫৮)।
দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে অর্থের অভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারছেন না তিনি। প্রতিনিয়ত তীব্র শারীরিক যন্ত্রণায় দিন কাটছে তার। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের শুরুর দিকে মোমেনা খাতুনের শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেওয়ার পর ওই বছরের এপ্রিল মাসে তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ক্যান্সার শনাক্ত হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তাকে সাতটি কেমোথেরাপি দেওয়ার কথা বলা হয়। কিন্তু পরিবারের আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
চিকিৎসার জন্য পরিবারের যা কিছু ছিলো বিক্রি করেন তারা। ২০২৩ সালের জুন মাস থেকে মোমেনা খাতুনের কেমোথেরাপি শুরু হয়। কিন্তু কয়েকটি কেমোথেরাপি ও পরবর্তী চিকিৎসা নেওয়ার পর অর্থের অভাবে চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যায়। পরিবারের সদস্যদের দাবি, প্রতিটি কেমোথেরাপিতে প্রায় ৪৫ হাজার টাকা খরচ হয়। ব্যয়বহুল এই চিকিৎসার খরচ বহন করতে গিয়ে পরিবারটি এখন ঋণের বোঝায় জর্জরিত।
মোমেনা খাতুনের ছেলে আব্দুল মোমিন (৩৫) বলেন, আমার যা কিছু ছিলো এবং মায়ের যা কিছু ছিলো সবই বিক্রি করে চিকিৎসা করিয়েছি। তবুও মাকে সুস্থ করতে পারিনি। টাকার অভাবে চিকিৎসা বন্ধ আছে। মা খুব যন্ত্রণার মধ্যে আছেন, রাতে ঘুমাতে পারে না। চিকিৎসার জন্য অনেক ঋণ হয়ে গেছে। এখন আর্থিকভাবে খুব অসহায় হয়ে পড়েছি। তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মতিনের সহযোগিতায় উপজেলা সমাজসেবা অফিস থেকে ৫০ হাজার টাকা অনুদান পেয়েছিলরাম। সেই টাকা ঋণ পরিশোধে ব্যয় হয়েছে। আব্দুল মোমিন কৃষিকাজ করেন। তিনি জানান, সীমিত আয়ে সংসার চালিয়ে মায়ের ব্যয়বহুল চিকিৎসা করা তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।
শশীনগর গ্রামের বাসিন্দা ও মাঝগ্রাম এমএ ফাজিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক উজ্জল হোসেন বলেন, আমি মোমেনা খাতুনকে যতটুকু পেরেছি সহযোগিতা করেছি। সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান যারা আছেন, তারা মোমেনা খাতুনের চিকিৎসার জন্য এগিয়ে আসুন।
থালতা মাজগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন বলেন, মোমেনা খাতুনের অসুস্থতার বিষয়টি আমরা জানি। তার চিকিৎসায় সহযোগিতার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করা হবে। মোমেনা খাতুনের চিকিৎসায় সহযোগিতার জন্য সমাজের বিত্তবান ও দানশীল মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী। সহযোগিতা করতে যোগাযোগ করতে হবে তার ছেলে আব্দুল মোমিনের সাথে। তার ফোন ও নগদ নম্বর ০১৭৮৮-২৩৬৬২৬।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা বলেন, মোমেনা খাতুনের চিকিৎসার জন্য ২০২৪ সালে ৫০ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছিলো। বর্তমানে তার চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা ও আর্থিক অসচ্ছলতা বিবেচনা করে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সহযোগিতার সুযোগ থাকলে ব্যবস্থা করা হবে।
বিজ্ঞাপন