রাজনীতির মাঠে সুসময় যেমন এসেছে, তেমনি গেছে দুঃসময়ও। হামলা-মামলা, কারাবরণ ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও দলীয় রাজনীতি ছাড়েননি গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ২ নম্বর নলডাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপির নির্বাচিত সভাপতি মো. রেজাউন্নবী সরকার লেবু। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় দলের দুঃসময়ে মাঠে থাকার দাবি করা এই নেতা এখন আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে এলাকায় গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে- বিগত সরকারের সময়ে প্রায় ১৭ বছর নানা রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে রেজাউন্নবী লেবুকে। একাধিকবার কারাবরণসহ মামলা ও হয়রানির মুখোমুখির পাশাপাশি তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলায় ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তিনি দলীয় কর্মকাণ্ড থেকে সরে যাননি। বরং দলের কঠিন সময়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে মাঠে থাকার চেষ্টা করেছেন।
বর্তমানে ২ নম্বর নলডাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন রেজাউন্নবী সরকার লেবু। দলীয় কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে তিনি ইউনিয়নের বিভিন্ন সামাজিক ও জনসম্পৃক্ত কর্মসূচিতেও যুক্ত রয়েছেন বলে স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান।
চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নকে সামনে রেখে সম্প্রতি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম, হাট-বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় তাঁর গণসংযোগ বেড়েছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সাধারণ মানুষের সঙ্গে দেখা করা, কুশল বিনিময় এবং স্থানীয় বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে কথা বলছেন তিনি। গণসংযোগকালে রাস্তাঘাট, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, মাদক ও সামাজিক নিরাপত্তাসহ নানা বিষয়ে মানুষের কথা শুনছেন বলে তাঁর ঘনিষ্ঠরা জানান।
রেজাউন্নবী সরকার লেবু বলেন, আমি ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করি না, মানুষের সেবা করার জন্য রাজনীতি করি। দলের দুঃসময়ে অনেক প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। জেল-জুলুম সহ্য করেছি, কিন্তু আদর্শ থেকে সরে যাইনি। কর্মীরাই আমার শক্তি। তাঁদের নিয়েই আমি আগামীর স্বপ্ন দেখি।
চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হলে তাঁর পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “দল আমাকে মনোনয়ন দিলে এবং জনগণ আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করলে নলডাঙ্গা ইউনিয়নকে মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত করার জন্য কাজ করব। শিক্ষা ও রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, কৃষি ও স্থানীয় অর্থনীতির বিকাশ এবং গরিব-দুঃখী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্ব দেব। ইউনিয়নের উন্নয়নে দল-মত নির্বিশেষে সবার সহযোগিতা নিয়ে কাজ করতে চাই।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন রাজনীতি করেছি মানুষের পাশে থেকে। এখন সুযোগ পেলে জনপ্রতিনিধি হিসেবে মানুষের সেবা করতে চাই। ইউনিয়নের প্রতিটি এলাকার সমস্যা চিহ্নিত করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে সাদুল্লাপুর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুস ছালাম মিয়া বলেন, নলডাঙ্গা ইউনিয়নে এখনও প্রার্থী চূড়ান্ত ঘোষণা করা হয়নি। তবে প্রাথমিকভাবে সম্ভাব্য পাঁচজন প্রার্থীর মধ্যে জনমত জরিপ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ইউনিয়নের ভোটারদের কাছে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা কতটা, তা নির্ভর করবে নির্বাচনী মাঠে তাঁর কার্যক্রম, দলীয় সিদ্ধান্ত এবং শেষ পর্যন্ত ভোটারদের মতামতের ওপর। ফলে নলডাঙ্গা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতার মধ্যে রেজাউন্নবী সরকার লেবুর গণসংযোগও স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট 















