বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পৌর বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম আজাদকে ঘিরে মনোনয়ন আলোচনা

তোফায়েল হোসেন জাকির: আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী পৌরসভায় সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে পৌর বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম আজাদের নাম স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছে।

স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দলীয়ভাবে একক প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে আবুল কালাম আজাদকে বিবেচনায় রাখার পক্ষে রয়েছেন অনেকে। তিনি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়তা এবং তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগের কারণে দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ে তাঁর নাম গুরুত্ব পাচ্ছে।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি বিভিন্ন দলীয় কর্মসূচি, সভা-সমাবেশ ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন আবুল কালাম আজাদ। বর্তমানে তিনি পলাশবাড়ী পৌর বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

সমর্থকদের দাবি, দলীয় সিদ্ধান্তে তাঁকে প্রার্থী করা হলে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সমন্বয় তৈরি এবং দলীয় সাংগঠনিক শক্তি নির্বাচনী কার্যক্রমে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে নির্বাচনে প্রার্থিতা ও দলীয় মনোনয়নের বিষয়ে এখনো বিএনপির কেন্দ্রীয়ভাবে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যায়নি।

আবুল কালাম আজাদের সমর্থকেরা আরও বলছেন, তিনি মেয়র পদে নির্বাচনের সুযোগ পেলে পৌরবাসীর নাগরিক সেবা সহজীকরণ, রাস্তাঘাট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন, পরিচ্ছন্নতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাকে গুরুত্ব দিতে চান। নতুন ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি তরুণদের প্রত্যাশাকেও তাঁর সম্ভাব্য নির্বাচনী ভাবনায় গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে তাঁরা জানান।

তবে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আরও কারও নাম আলোচনায় থাকলে শেষ পর্যন্ত দলীয় সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। তৃণমূলের মতামত, সাংগঠনিক বাস্তবতা, প্রার্থীদের রাজনৈতিক অবস্থান এবং স্থানীয় নির্বাচনী পরিস্থিতি বিবেচনা করেই দলীয় মনোনয়ন নির্ধারণ করা হতে পারে।

পৌরবাসীর প্রত্যাশা, যিনিই প্রার্থী হন, তিনি যেন নাগরিক সমস্যা সমাধান, উন্নয়ন, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার বিষয়ে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা তুলে ধরেন। শেষ পর্যন্ত ভোটারদের কাছে প্রার্থীদের রাজনৈতিক অবস্থান, অতীত কর্মকাণ্ড ও পৌর উন্নয়ন পরিকল্পনাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

এ বিষয়ে আবুল কালাম আজাদ বলেন, দল আমাকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিলে আমি অবশ্যই নির্বাচন করতে প্রস্তুত। বিএনপি একটি বড় রাজনৈতিক দল। এখানে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মতামত ও দলের নীতিনির্ধারকদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।

তিনি বলেন, পলাশবাড়ী পৌরবাসীর দীর্ঘদিনের বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা রয়েছে। বিশেষ করে রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ ও জলাবদ্ধতা নিরসন, পরিচ্ছন্নতা এবং নাগরিক সেবা সহজীকরণে কাজ করার অনেক সুযোগ রয়েছে। দলীয় মনোনয়ন পেলে আমি মানুষের কাছে গিয়ে তাঁদের প্রত্যাশা ও সমস্যার কথা শুনতে চাই।

আবুল কালাম আজাদ আরও বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত আছি। দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। ভবিষ্যতেও মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চাই। নির্বাচনের সুযোগ পেলে কোনো বিভাজন নয়, দল-মত নির্বিশেষে পৌরবাসীর জন্য কাজ করাই হবে আমার মূল লক্ষ্য।

জনপ্রিয়

পৌর বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম আজাদকে ঘিরে মনোনয়ন আলোচনা

প্রকাশের সময়: ০৮:৩২:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

তোফায়েল হোসেন জাকির: আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী পৌরসভায় সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে পৌর বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম আজাদের নাম স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছে।

স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দলীয়ভাবে একক প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে আবুল কালাম আজাদকে বিবেচনায় রাখার পক্ষে রয়েছেন অনেকে। তিনি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়তা এবং তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগের কারণে দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ে তাঁর নাম গুরুত্ব পাচ্ছে।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি বিভিন্ন দলীয় কর্মসূচি, সভা-সমাবেশ ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন আবুল কালাম আজাদ। বর্তমানে তিনি পলাশবাড়ী পৌর বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

সমর্থকদের দাবি, দলীয় সিদ্ধান্তে তাঁকে প্রার্থী করা হলে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সমন্বয় তৈরি এবং দলীয় সাংগঠনিক শক্তি নির্বাচনী কার্যক্রমে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে নির্বাচনে প্রার্থিতা ও দলীয় মনোনয়নের বিষয়ে এখনো বিএনপির কেন্দ্রীয়ভাবে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যায়নি।

আবুল কালাম আজাদের সমর্থকেরা আরও বলছেন, তিনি মেয়র পদে নির্বাচনের সুযোগ পেলে পৌরবাসীর নাগরিক সেবা সহজীকরণ, রাস্তাঘাট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন, পরিচ্ছন্নতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাকে গুরুত্ব দিতে চান। নতুন ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি তরুণদের প্রত্যাশাকেও তাঁর সম্ভাব্য নির্বাচনী ভাবনায় গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে তাঁরা জানান।

তবে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আরও কারও নাম আলোচনায় থাকলে শেষ পর্যন্ত দলীয় সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। তৃণমূলের মতামত, সাংগঠনিক বাস্তবতা, প্রার্থীদের রাজনৈতিক অবস্থান এবং স্থানীয় নির্বাচনী পরিস্থিতি বিবেচনা করেই দলীয় মনোনয়ন নির্ধারণ করা হতে পারে।

পৌরবাসীর প্রত্যাশা, যিনিই প্রার্থী হন, তিনি যেন নাগরিক সমস্যা সমাধান, উন্নয়ন, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার বিষয়ে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা তুলে ধরেন। শেষ পর্যন্ত ভোটারদের কাছে প্রার্থীদের রাজনৈতিক অবস্থান, অতীত কর্মকাণ্ড ও পৌর উন্নয়ন পরিকল্পনাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

এ বিষয়ে আবুল কালাম আজাদ বলেন, দল আমাকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিলে আমি অবশ্যই নির্বাচন করতে প্রস্তুত। বিএনপি একটি বড় রাজনৈতিক দল। এখানে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মতামত ও দলের নীতিনির্ধারকদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।

তিনি বলেন, পলাশবাড়ী পৌরবাসীর দীর্ঘদিনের বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা রয়েছে। বিশেষ করে রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ ও জলাবদ্ধতা নিরসন, পরিচ্ছন্নতা এবং নাগরিক সেবা সহজীকরণে কাজ করার অনেক সুযোগ রয়েছে। দলীয় মনোনয়ন পেলে আমি মানুষের কাছে গিয়ে তাঁদের প্রত্যাশা ও সমস্যার কথা শুনতে চাই।

আবুল কালাম আজাদ আরও বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত আছি। দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। ভবিষ্যতেও মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চাই। নির্বাচনের সুযোগ পেলে কোনো বিভাজন নয়, দল-মত নির্বিশেষে পৌরবাসীর জন্য কাজ করাই হবে আমার মূল লক্ষ্য।