শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মায়ের শখ পূরণে হাতির পিঠে বর, দেখতে পথে পথে জনতার ভিড়

মায়ের শখ বলে কথা! সেই শখ পূরণ করতে প্রচলিত রীতি ভেঙে হাতির পিঠে চড়ে বিয়ে করতে গেলেন গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরের সাকিব মিয়া (২৫) ।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের তিলকপাড়া গ্রাম থেকে একই ইউনিয়নের হিংগারপাড়া গ্রামে কনের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন তিনি।

ব্যতিক্রমী এই বরযাত্রা দেখতে পথে পথে ভিড় করেন উৎসুক জনতা। কেউ দাঁড়িয়ে উপভোগ করেন বিরল এই দৃশ্য, আবার কেউ মুঠোফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে স্মৃতি ধরে রাখেন।

সাকিব মিয়া ধাপেরহাট ইউনিয়নের তিলকপাড়া গ্রামের ছায়েদ আলীর ছেলে। তাঁর সঙ্গে বিয়ে হচ্ছে একই ইউনিয়নের হিংগারপাড়া গ্রামের খোকন মিয়ার মেয়ে সুরাইয়া আক্তারের। বিয়ের এই বিশেষ দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে এবং মায়ের দীর্ঘদিনের শখ পূরণ করতেই হাতির পিঠে চড়ে বরযাত্রার আয়োজন করেন সাকিব।

স্খানীয়রা বলছেন- সাধারণত বিয়ের বরযাত্রায় ব্যক্তিগত গাড়ি, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল কিংবা ঘোড়ার গাড়ি দেখা যায়। কিন্তু সাকিবের বরযাত্রায় ছিল ব্যতিক্রমী আয়োজন—হাতি। আর সেই হাতির পিঠে চড়েই কনের বাড়ির পথে যাত্রা করেন বর। তাঁর এমন ব্যতিক্রমী যাত্রা স্থানীয় মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি করে।

শুক্রবার বরযাত্রা তিলকপাড়া থেকে হিংগারপাড়ার দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় সড়কের বিভিন্ন স্থানে মানুষের জটলা দেখা যায়। হাতির পিঠে বরকে দেখতে পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা দাঁড়িয়ে পড়েন। অনেকেই নিজেদের মুঠোফোনে সেই দৃশ্য ধারণ করেন। বরযাত্রার এই ভিন্নধর্মী আয়োজন ঘিরে পথজুড়েই তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।

স্থানীয়দের কাছে বিয়ের এমন আয়োজন যেমন ছিল ব্যতিক্রমী, তেমনি ছিল কৌতূহলোদ্দীপক। হাতির পিঠে চড়ে বরের যাত্রা দেখতে শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সী মানুষের আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রচলিত বরযাত্রার বাইরে এমন আয়োজন মুহূর্তেই আশপাশের মানুষের মনোযোগ কেড়ে নেয়। তবে এই আয়োজনের পেছনে রয়েছে মায়ের প্রতি ছেলের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার গল্প। বিয়েকে ঘিরে মায়ের শখ পূরণ করতে সাকিবের এই উদ্যোগ পারিবারিক আবেগের একটি বিশেষ প্রকাশ হয়ে উঠেছে। জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি দিনে মায়ের ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিয়ে তিনি বেছে নিয়েছেন ভিন্নধর্মী এই পথ।

বিয়ে শুধু দুটি মানুষের নতুন জীবনে প্রবেশ নয়, দুই পরিবারের আনন্দ ও আবেগেরও উপলক্ষ। সেই আনন্দকে আরও স্মরণীয় করে তুলতেই সাকিবের এই ব্যতিক্রমী বরযাত্রা। মায়ের শখ পূরণের উদ্দেশ্যে হাতির পিঠে চড়ে বিয়ে করতে যাওয়ার ঘটনা ধাপেরহাট এলাকায় তৈরি করেছে বাড়তি আলোচনা।

সব মিলিয়ে, শুক্রবার সাদুল্লাপুরের ধাপেরহাট ইউনিয়নে সাকিবের হাতির পিঠে চড়ে বরযাত্রা ছিল মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। মায়ের শখ পূরণে ছেলের এই আয়োজন যেমন বিয়ের দিনটিকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে, তেমনি পথে পথে উৎসুক মানুষের ভিড়ও ঘটনাটিকে করে তুলেছে স্মরণীয়।

মায়ের শখ পূরণে হাতির পিঠে বরের যাত্রা—এ যেন বিয়ের আনন্দের সঙ্গে মিশে থাকা ভালোবাসা, আবেগ আর পারিবারিক বন্ধনের এক ব্যতিক্রমী গল্প।

বর সাকিব মিয়া বলেন, বিয়ে জীবনের একটি বিশেষ দিন। এই দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখার পাশাপাশি মায়ের দীর্ঘদিনের শখ পূরণ করতে চেয়েছি। মা আমার জন্য অনেক কষ্ট করেছেন। তাঁর ছোট্ট একটি ইচ্ছা পূরণ করতে পেরে আমারও ভালো লাগছে। সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন, যেন নতুন জীবন সুখে-শান্তিতে কাটাতে পারি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মা বলেন, ছেলের বিয়েকে ঘিরে আমার অনেক দিনের শখ ছিল, সে যেন হাতির পিঠে চড়ে বিয়ে করতে যায়। আমার সেই ইচ্ছা পূরণ হবে, এটা ভেবে খুব ভালো লাগছে। মা হিসেবে সন্তানের বিয়েতে অনেক স্বপ্ন থাকে। সব স্বপ্ন হয়তো পূরণ করা সম্ভব হয় না, তবে ছেলের সহযোগিতায় আমার এই শখ পূরণ হতে যাচ্ছে। এতে আমি খুবই আনন্দিত। ছেলের নতুন জীবনের জন্য সবার কাছে দোয়া চাই।

ধাপেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম সিপন বলেন, মায়ের শখ পূরণ করতে হাতির পিঠে চড়ে সাকিবের বিয়ে করতে যাওয়ার বিষয়টি সত্যিই ব্যতিক্রমী। এমন প্রকাশ নিঃসন্দেহে সুন্দর একটি বিষয়। নবদম্পতির সুখী ও সুন্দর দাম্পত্য জীবন কামনা করছি।

জনপ্রিয়

মায়ের শখ পূরণে হাতির পিঠে বর, দেখতে পথে পথে জনতার ভিড়

প্রকাশের সময়: ০৭:৫৮:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

মায়ের শখ বলে কথা! সেই শখ পূরণ করতে প্রচলিত রীতি ভেঙে হাতির পিঠে চড়ে বিয়ে করতে গেলেন গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরের সাকিব মিয়া (২৫) ।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের তিলকপাড়া গ্রাম থেকে একই ইউনিয়নের হিংগারপাড়া গ্রামে কনের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন তিনি।

ব্যতিক্রমী এই বরযাত্রা দেখতে পথে পথে ভিড় করেন উৎসুক জনতা। কেউ দাঁড়িয়ে উপভোগ করেন বিরল এই দৃশ্য, আবার কেউ মুঠোফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে স্মৃতি ধরে রাখেন।

সাকিব মিয়া ধাপেরহাট ইউনিয়নের তিলকপাড়া গ্রামের ছায়েদ আলীর ছেলে। তাঁর সঙ্গে বিয়ে হচ্ছে একই ইউনিয়নের হিংগারপাড়া গ্রামের খোকন মিয়ার মেয়ে সুরাইয়া আক্তারের। বিয়ের এই বিশেষ দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে এবং মায়ের দীর্ঘদিনের শখ পূরণ করতেই হাতির পিঠে চড়ে বরযাত্রার আয়োজন করেন সাকিব।

স্খানীয়রা বলছেন- সাধারণত বিয়ের বরযাত্রায় ব্যক্তিগত গাড়ি, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল কিংবা ঘোড়ার গাড়ি দেখা যায়। কিন্তু সাকিবের বরযাত্রায় ছিল ব্যতিক্রমী আয়োজন—হাতি। আর সেই হাতির পিঠে চড়েই কনের বাড়ির পথে যাত্রা করেন বর। তাঁর এমন ব্যতিক্রমী যাত্রা স্থানীয় মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি করে।

শুক্রবার বরযাত্রা তিলকপাড়া থেকে হিংগারপাড়ার দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় সড়কের বিভিন্ন স্থানে মানুষের জটলা দেখা যায়। হাতির পিঠে বরকে দেখতে পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা দাঁড়িয়ে পড়েন। অনেকেই নিজেদের মুঠোফোনে সেই দৃশ্য ধারণ করেন। বরযাত্রার এই ভিন্নধর্মী আয়োজন ঘিরে পথজুড়েই তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।

স্থানীয়দের কাছে বিয়ের এমন আয়োজন যেমন ছিল ব্যতিক্রমী, তেমনি ছিল কৌতূহলোদ্দীপক। হাতির পিঠে চড়ে বরের যাত্রা দেখতে শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সী মানুষের আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রচলিত বরযাত্রার বাইরে এমন আয়োজন মুহূর্তেই আশপাশের মানুষের মনোযোগ কেড়ে নেয়। তবে এই আয়োজনের পেছনে রয়েছে মায়ের প্রতি ছেলের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার গল্প। বিয়েকে ঘিরে মায়ের শখ পূরণ করতে সাকিবের এই উদ্যোগ পারিবারিক আবেগের একটি বিশেষ প্রকাশ হয়ে উঠেছে। জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি দিনে মায়ের ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিয়ে তিনি বেছে নিয়েছেন ভিন্নধর্মী এই পথ।

বিয়ে শুধু দুটি মানুষের নতুন জীবনে প্রবেশ নয়, দুই পরিবারের আনন্দ ও আবেগেরও উপলক্ষ। সেই আনন্দকে আরও স্মরণীয় করে তুলতেই সাকিবের এই ব্যতিক্রমী বরযাত্রা। মায়ের শখ পূরণের উদ্দেশ্যে হাতির পিঠে চড়ে বিয়ে করতে যাওয়ার ঘটনা ধাপেরহাট এলাকায় তৈরি করেছে বাড়তি আলোচনা।

সব মিলিয়ে, শুক্রবার সাদুল্লাপুরের ধাপেরহাট ইউনিয়নে সাকিবের হাতির পিঠে চড়ে বরযাত্রা ছিল মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। মায়ের শখ পূরণে ছেলের এই আয়োজন যেমন বিয়ের দিনটিকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে, তেমনি পথে পথে উৎসুক মানুষের ভিড়ও ঘটনাটিকে করে তুলেছে স্মরণীয়।

মায়ের শখ পূরণে হাতির পিঠে বরের যাত্রা—এ যেন বিয়ের আনন্দের সঙ্গে মিশে থাকা ভালোবাসা, আবেগ আর পারিবারিক বন্ধনের এক ব্যতিক্রমী গল্প।

বর সাকিব মিয়া বলেন, বিয়ে জীবনের একটি বিশেষ দিন। এই দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখার পাশাপাশি মায়ের দীর্ঘদিনের শখ পূরণ করতে চেয়েছি। মা আমার জন্য অনেক কষ্ট করেছেন। তাঁর ছোট্ট একটি ইচ্ছা পূরণ করতে পেরে আমারও ভালো লাগছে। সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন, যেন নতুন জীবন সুখে-শান্তিতে কাটাতে পারি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মা বলেন, ছেলের বিয়েকে ঘিরে আমার অনেক দিনের শখ ছিল, সে যেন হাতির পিঠে চড়ে বিয়ে করতে যায়। আমার সেই ইচ্ছা পূরণ হবে, এটা ভেবে খুব ভালো লাগছে। মা হিসেবে সন্তানের বিয়েতে অনেক স্বপ্ন থাকে। সব স্বপ্ন হয়তো পূরণ করা সম্ভব হয় না, তবে ছেলের সহযোগিতায় আমার এই শখ পূরণ হতে যাচ্ছে। এতে আমি খুবই আনন্দিত। ছেলের নতুন জীবনের জন্য সবার কাছে দোয়া চাই।

ধাপেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম সিপন বলেন, মায়ের শখ পূরণ করতে হাতির পিঠে চড়ে সাকিবের বিয়ে করতে যাওয়ার বিষয়টি সত্যিই ব্যতিক্রমী। এমন প্রকাশ নিঃসন্দেহে সুন্দর একটি বিষয়। নবদম্পতির সুখী ও সুন্দর দাম্পত্য জীবন কামনা করছি।