স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা জাতীয়করণের দাবিতে গাইবান্ধায় মানববন্ধন পালিত ও স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।
রোববার (২৩ মে) দুপুরে বাংলাদেশ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা শিক্ষক সমিতি গাইবান্ধা জেলা শাখার আয়োজনে এ কর্মসূচিটি অনুষ্ঠিত হয়।
গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের কার্যলয়ের সামনে সংগঠনটির সভাপতি মোঃ মাহি উদ্দিন মাহি সভাপতিত্বে মানবন্ধনে বক্তব্য রাখেন সিনিয়ার সহ সভাপতি সোহেল রানা, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক শোয়েব আকতার ও তবিবুর রহমান, জহুরুল ইসলাম, মাহাবুবর রহমান, আনিছুর রহমান, আজিজুর রহমান, কামাল (পাশা), মিন্টু মিয়া, ছামছুল ইসলাম, তৌহিদুল ইসলাম, আব্দুল মালেক প্রমূখ।
বক্তারা বলেন, ১৯৭৮ অডিনেন্স ১৭ (২) ধারা মোতোবেক মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডও শর্ত পূরণ সাপেক্ষে রেজিষ্ট্রার প্রাপ্ত হয়। রেজিষ্ট্রেশন হওয়ার পর থেকে শিক্ষা মন্ত্রণলায়ের বিধি মোতাবেক কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। ১৯৯৪ ইং সনে একই পরিপত্রে রেজিষ্ট্রার বেসরকারী প্রাইমারী ও স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা শিক্ষকদের বেতন ৫০০ টাকা নির্ধারন করা হয়। পরবর্তীতে বিগত সরকারের সময়ে ধাপে ধাপে বেতন বৃদ্ধিতে ২০১৩ সালে ৯ জানুয়ারি বর্তমান মহাজোট সরকার ২৬ হাজার ১৯৩ টি বেসরকানি প্রাইমারী স্কুল জাতীয়করণ করে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ন্যায় সকাল ৯ থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত সরকারি একই সিলেবাসে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা হয়। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ন্যায় স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী ৫ম শ্রেণি শিক্ষার্থী সমাপনী পরীক্ষায় অংশগ্রহন করে এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ন্যায় সরকারের সকল কাজে অংশগ্রহন করে। অথচ মাস শেষে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকগন ২২-৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতন পায়। কিন্তু স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসার শিক্ষকরা তেমন কোন বেতন ভাতা পায় না। তবুও তারা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ন্যায় শিক্ষকতা চালিয়ে যাচ্ছে।
তারা আরও বলেন -২০১৮ সালে ১ জানুয়ারি থেকে ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত শিক্ষক সমিতি অবস্থান ধর্মঘাট ও অনশন চলাকালনি সময় সরকারের নির্দেশে সচিব মহোদয় আন্দোলন স্থলে এসে শিক্ষকদেও মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেন। কিন্তু আজও তা বাস্তবায়ন হয়নি। ১ হাজার ৫১৯টি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসার কিছু শিক্ষকরা সর্বসাকুল্যে প্রধান শিক্ষক ২ হাজার ৫০০ টাকা সহকারী শিক্ষক ২ হাজার ৩০০ টাকা ভাতা পায়। বাকি রেজিষ্ট্রেশন প্রাপ্ত মাদরাসাগুলোর শিক্ষকরা ৩৭ বছর যাবৎ বেতন ভাতা হতে বঞ্চিত। যা এই দ্রব্য মূল্যেও বাজারে অমানবিক, শিক্ষকদের অবমাননা ছাড়া কিছু না। চলমান বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাস (কোভিট-১৯) এর প্রভাবে সারাদেশে বেতন থেকে বঞ্চিত, কর্মরত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা শিক্ষকরা মানবতার জীবন যাপন করছে।
মো. রিফাতুন্নবী রিফাত, করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট, গাইবান্ধা 

















