বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ফলোআপ: ১৪৪ ধারা জারিতে যেমন ছিল সাদুল্লাপুরের পরিস্থিতি

বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলা শাখার কার্যনির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠানের জন্য একই দিন ও সময়ে দুই গ্রুপে সভা আহ্বান করে। এ নিয়ে অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কায় রোববার (৩০ মে) সকাল ৬ টা থেকে সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা আইন জারি করছিলেন উপজেলা প্রশাসন। এমন পরিস্থিতি সাদুল্লাপুর শহরের দোকানপাট বন্ধসহ নানা আতঙ্কে লোকসমাগম ছিল অনেকটাই কম।

দলীয় সুত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ সাদুল্লাপুর উপজেলার শাখার  সভা অনুষ্ঠানের জন্য রোববার সকাল ১০ টায় দলীয় কার্যালয়ে শাখাটির সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) জাকারিয়া খন্দকার সভা ডাকেন। অপরদিকে একই দিন ও সময় সাধারণ সম্পাদক সাহারিয়া খান বিপ্লব স্থানীয় পাবলিক লাইব্রেরী এণ্ড ক্লাবে একই সভা আহ্বান করে।

এদিকে সৃষ্ট দলীয় গ্রুপিংয়ের পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলার অবনতিসহ শান্তিশৃঙ্খলা ভঙ্গের আশঙ্কায় উভয় স্থানে ১৪৪ ধারা আইন জারি করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নবীনেওয়াজ।

এ ধারা মোতাবেক রোববার (৩০ মে) সকাল ৬ টা থেকে সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত উভয় স্থানের ৩০০ গজের মধ্যে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। যার ফলে রোববার দিনব্যাপী অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা ছিল। এসময় সাদুল্লাপুর শহরের অধিকাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও দোকানপাট বন্ধ রাখে ব্যবসায়ীরা। সেই সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানেও কাজকর্ম ঢিলেঢালাভাবে চলছিল। যে কোনো সময় অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কায় লোকসমাগম ছিল আগের তুলনায় অনেক কম। দলীয় সৃষ্ট দ্বন্দ্বের কারণে সাদুল্লাপুরে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় মানুষের মাঝে বেশ আতঙ্ক বিরাজ করছিল।

এছাড়া ১৪৪ ধারার বিধিনিষিদ্ধ এলাকার বাহিরে সাদুল্লাপুর পশ্চিমপাড়ার তালতলায় আওয়ামীলীগ সাদুল্লাপুর উপজেলার শাখার সাধারণ সম্পাদক সাহারিয়া খান বিপ্লবরে ডাকে কার্যনির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ কমিটির ৪৮ জন সদস্যের উপস্থিতিতে শান্তিপূর্নভাবে সভাটি সম্পন্ন হয়েছে। শেষে এক সংবাদ সম্মেলনও করেছে নেতারা।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি মোজাহারুল ইসলাম, জিল্লুর রহমান খন্দকার, যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক এস.টি.এম রুহুল আলম, রনজিৎ কুমার অধিকারী ও সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মিন্টুসহ আরও অনেকে।

সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সাহারিয়া খাঁন বিপ্লব বলেন, দ্বন্দ্ব এড়াতে আমরা দূরে এসে কার্যনির্বাহী কমিটির সভা করেছি। আর এই সভা থেকে দলের মধ্যে দ্বন্দ্ব-বিভেদ সৃষ্টিকারী উপজেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি জাকারিয়া খন্দকারকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিন্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এমনকি দল থেকে তার প্রাথমিক সদস্য পদ বাতিলের জন্য আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিকে লিখিত ভাবে জানানো হবে।

এদিকে ১৪৪ ধারা জারির বিষয়ে সাদুল্লাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাসুদ রানা জানান, আওয়ামীলীগের দুই পক্ষের একই দিনে একই সময়ে দলীয় সভা আহবানকে কেন্দ্র করে শহরে ১৪৪ ধারা আইন জারি করা হয়। এর সঙ্গে সকাল থেকেই শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। দলীয় কার্যালয়সহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে পুলিশ সর্তক অবস্থানে থাকায় কোথাও কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

 

ফলোআপ: ১৪৪ ধারা জারিতে যেমন ছিল সাদুল্লাপুরের পরিস্থিতি

প্রকাশের সময়: ০৮:৩৬:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ মে ২০২১

বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলা শাখার কার্যনির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠানের জন্য একই দিন ও সময়ে দুই গ্রুপে সভা আহ্বান করে। এ নিয়ে অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কায় রোববার (৩০ মে) সকাল ৬ টা থেকে সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা আইন জারি করছিলেন উপজেলা প্রশাসন। এমন পরিস্থিতি সাদুল্লাপুর শহরের দোকানপাট বন্ধসহ নানা আতঙ্কে লোকসমাগম ছিল অনেকটাই কম।

দলীয় সুত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ সাদুল্লাপুর উপজেলার শাখার  সভা অনুষ্ঠানের জন্য রোববার সকাল ১০ টায় দলীয় কার্যালয়ে শাখাটির সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) জাকারিয়া খন্দকার সভা ডাকেন। অপরদিকে একই দিন ও সময় সাধারণ সম্পাদক সাহারিয়া খান বিপ্লব স্থানীয় পাবলিক লাইব্রেরী এণ্ড ক্লাবে একই সভা আহ্বান করে।

এদিকে সৃষ্ট দলীয় গ্রুপিংয়ের পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলার অবনতিসহ শান্তিশৃঙ্খলা ভঙ্গের আশঙ্কায় উভয় স্থানে ১৪৪ ধারা আইন জারি করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নবীনেওয়াজ।

এ ধারা মোতাবেক রোববার (৩০ মে) সকাল ৬ টা থেকে সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত উভয় স্থানের ৩০০ গজের মধ্যে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। যার ফলে রোববার দিনব্যাপী অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা ছিল। এসময় সাদুল্লাপুর শহরের অধিকাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও দোকানপাট বন্ধ রাখে ব্যবসায়ীরা। সেই সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানেও কাজকর্ম ঢিলেঢালাভাবে চলছিল। যে কোনো সময় অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কায় লোকসমাগম ছিল আগের তুলনায় অনেক কম। দলীয় সৃষ্ট দ্বন্দ্বের কারণে সাদুল্লাপুরে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় মানুষের মাঝে বেশ আতঙ্ক বিরাজ করছিল।

এছাড়া ১৪৪ ধারার বিধিনিষিদ্ধ এলাকার বাহিরে সাদুল্লাপুর পশ্চিমপাড়ার তালতলায় আওয়ামীলীগ সাদুল্লাপুর উপজেলার শাখার সাধারণ সম্পাদক সাহারিয়া খান বিপ্লবরে ডাকে কার্যনির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ কমিটির ৪৮ জন সদস্যের উপস্থিতিতে শান্তিপূর্নভাবে সভাটি সম্পন্ন হয়েছে। শেষে এক সংবাদ সম্মেলনও করেছে নেতারা।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি মোজাহারুল ইসলাম, জিল্লুর রহমান খন্দকার, যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক এস.টি.এম রুহুল আলম, রনজিৎ কুমার অধিকারী ও সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মিন্টুসহ আরও অনেকে।

সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সাহারিয়া খাঁন বিপ্লব বলেন, দ্বন্দ্ব এড়াতে আমরা দূরে এসে কার্যনির্বাহী কমিটির সভা করেছি। আর এই সভা থেকে দলের মধ্যে দ্বন্দ্ব-বিভেদ সৃষ্টিকারী উপজেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি জাকারিয়া খন্দকারকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিন্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এমনকি দল থেকে তার প্রাথমিক সদস্য পদ বাতিলের জন্য আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিকে লিখিত ভাবে জানানো হবে।

এদিকে ১৪৪ ধারা জারির বিষয়ে সাদুল্লাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাসুদ রানা জানান, আওয়ামীলীগের দুই পক্ষের একই দিনে একই সময়ে দলীয় সভা আহবানকে কেন্দ্র করে শহরে ১৪৪ ধারা আইন জারি করা হয়। এর সঙ্গে সকাল থেকেই শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। দলীয় কার্যালয়সহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে পুলিশ সর্তক অবস্থানে থাকায় কোথাও কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।