দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে পরিকল্পিতভাবে ইয়াকুব আলী (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে হত্যা করে বাড়ির পার্শ্ববতী ছোট আম গাছে ডালে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে আব্দুল আজিজ বাদী হয়ে ১০ জনকে আসামী করে বুধবার থানায় নিয়মিত হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
এ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার সন্দেহে পুলিশ শাহিনুর (৩৫) নামে এজাহার নামীয় একজনকে আটক করেছে। এ ঘটনাটি উপজেলার ফতেজংপুর ইউনিয়নের উত্তর পলাশবাড়ি গ্রামের ঠাকুরেরহাট শাহ্পাড়ায় গত ১জুন দিবাগত রাতে ঘটেছে।
চিরিরবন্দর থানা ও সরজমিনে গিয়ে জানা গেছে, মৃত ইয়াকুব ও তার ভাই জবেদ আলীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এ বিরোধের জের ধরে জবেদ আলীর জামাই সিফাত, মেয়ের শ্বশুর শহিদুল ইসলাম বাদল, মেয়ের চাচা শ্বশুর শাহিনুর ইসলাম সাহেবসহ সিফাত, সিয়াম ও আরো কয়েকজন আত্মীয় এ দ্ব›েদ্ব জড়িয়ে পড়ে। গত ৪/৫ দিন পূর্বে জবেদ আলীর লোকজন অতর্কিত হামলা চালায় মৃত ইয়াকুব আলীর পরিবারের উপর। এতে আহত হয়ে ইয়াকুব আলীর স্ত্রী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। ঘটনার রাতে মৃত ইয়াকুব আলী খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। বাড়িতে কেউ না থাকার সূযোগে প্রতিপক্ষরা গোপনে বাড়িতে ঢুকে শয়ন ঘরের টিনের চালা ভেঙ্গে ঘরে প্রবেশ করে ইয়াকুব আলীকে মেরে ফেলে বাড়ির পার্শ্ববর্তী ছোট আমগাছে ডালে ঝুলিয়ে রাখে। সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ নামিয়ে এনে সুরতহাল করে ময়নাতদন্তের জন্য দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেছে।
নিহতের স্ত্রী আর্জিনা বেগম জানান, ‘তার ভাসুর (স্বামীর বড়ভাই) জাবেদ আলীর সাথে জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ঝগড়া-বিবাদ চলে আসছিল। এর মধ্যে জাবেদ আলী ও তার জামাতা মিলে আমার স্বামী ইয়াকুব আলীকে কয়েকবার পিটিয়ে আহতও করে। এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল।’
থানার অফিসার ইনচার্জ সুব্রত কুমার সরকার জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি নিয়মিত হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামীরা পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেফতার করতে ব্যাপক অভিযান চলছে। ইতিমধ্যে শাহিনুর (৩৫) নামে এজাহার নামীয় একজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতেও পুলিশ তৎপর রয়েছে।
করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট, চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) 

















