বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সুন্দরগঞ্জে হরিজন সম্প্রদায়ের কিশোরীকে ধর্ষণ, ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা  

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় প্রেমের ফাঁদে ফেলে হরিজন সম্প্রদায়ের ১৬ বছরের এক কিশোরী কন্যাকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এঘটনায় ৪ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করা হয়েছে।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার (১৯ জুন) ওই ধর্ষকদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।

জানা গেছে, উপজেলার তালুক বাজিত (ধনিয়ারকুড়া) গ্রামের মহাবীর বাঁশফোড়ের ১৬ বছরের কিশোরী কন্যার সাথে পাশ্ববর্তী পশ্চিম রামজীবন গ্রামের জামালের ছেলে মোত্তালেব মিয়ার (৩৬) সাথে মোবাইলে পরিচয় ও প্রেম হয়। সেই সুবাদে ১২ এপ্রিল তারিখে মোবাইলে ধনিয়ারকুড়া বাজারের পাশে ডেকে নিয়ে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে উক্ত কিশোরীকে মোত্তালেব তার বাড়িতে নিয়ে গিয়ে আটকে রেখে ধর্ষণ করে। এভাবে মাসাধিককাল আটকে রেখে ধর্ষণ করে ১৭ মে ঢাকায় নিয়ে যায়। সেখানেও বাসা ভাড়া নিয়ে কিশোরীসহ অবস্থান করে তাকে ধর্ষণ করে। এরপর ১৩ জুন মোত্তালেব ঢাকা থেকে গাইবান্ধা সদর উপজেলার লক্ষীপুর বাজারে নিয়ে গিয়ে কিশোরীকে রেখে কৌশলে পালিয়ে যায়। নিরুপায় হয়ে কিশোরী অটোবাইক যোগে ধনিয়ারকুড়া বাজারে ফিরে গেলে জনৈক খলিফার মেয়ের বাড়িতে কিশোরীকে রেখে দেয় তার মা। কিন্তু লোকজন জানতে পেরে ওই বাড়িতে থাকতে না দিলে পরদিন ১৪ মে পশ্চিম রামজীবন গ্রামের মৃত আমির উদ্দিনের ছেলে হায়দার মেম্বারের বাড়িতে কিশোরীকে রেখে দেয়া হয়। ওই রাতে হায়দার মেম্বার নিজেই কিশোরীকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালালে কিশোরী কৌশলে সেখান থেকে বেরিয়ে ধনিয়ারকুড়া বাজারের নাইটগার্ড তালুক বাজিত গ্রামের ইসি আকন্দের ছেলে আব্দুল মতিনের কাছে সাহায্য কামনা করে। আঃ মতিন পশ্চিম রামজীবন গ্রামের মৃত মছির উদ্দিনের ছেলে মোফাজ্জলের বাড়িতে রাখার জন্য নিয়ে যাওয়ার পথে তিনিও ধর্ষণের চেষ্টা চালান। এরপর মোফাজ্জলের বাড়িতে থাকা অবস্থায় পরদিন রাতে তিনিও কিশোরীকে ধর্ষণের চেষ্টা চালালে কিশোরী ভোর রাতে কৌশলে বের হয়ে আবারও ধনিয়ারকুড়া বাজারে ফিরে যায়। বাধ্য হয়ে কিশোরীর মা স্থানীয় লোকজনকে অবহিত করে বিচার কামনা করেন।

এব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান মাহবুবার রহমান জানান, ধর্ষণের ঘটনার বিচার ইউপি চেয়ারম্যানের আওতার মধ্যে না থাকায় থানা পুলিশকে খবর দিয়েছি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অসুস্থ্য অবস্থায় শুক্রবার (১৮ জুন) কিশোরীকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে দেন। এঘটনায় রাতেই কিশোরীর মা মালতী বাঁশফোড় ধর্ষণ ও ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ এনে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ধারায় মোত্তালেব, হায়দার মেম্বার, আঃ মতিন ও মোফাজ্জলকে আসামি করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

সুন্দরগঞ্জ থানা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) বুলবুল ইসলাম মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আসামি গ্রেফতারে জোর তৎপরতা চলছে।

এদিকে, আজ অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তরা বলেন, বাংলাদেশে হরিজন জনগোষ্ঠীর মানুষ অত্যন্ত প্রান্তিক অবস্থায় রয়েছে। তাই ভিকটিম পরিবারের নিরাপত্তাসহ ওই ঘটনার সাথে যুক্ত সকল আসামীর বিরুদ্ধে যথাযথ আইনী ব্যবস্থাসহ শাস্তি নিশ্চিতের দাবী জানান তারা। একই সাথে গাইবান্ধা পুলিশ সুপারের নির্দেশে সুন্দরগঞ্জ থানা পুলিশ তড়িৎ ব্যবস্থা গ্রহণ করায় ধন্যবাদ জানান। ঘটনাটির তদন্ত রিপোর্ট দ্রুত প্রদান করে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা না হলে পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা ধর্মঘটে যাবেন বলে জানান তারা।

 

সুন্দরগঞ্জে হরিজন সম্প্রদায়ের কিশোরীকে ধর্ষণ, ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা  

প্রকাশের সময়: ০৬:৩৬:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ জুন ২০২১

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় প্রেমের ফাঁদে ফেলে হরিজন সম্প্রদায়ের ১৬ বছরের এক কিশোরী কন্যাকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এঘটনায় ৪ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করা হয়েছে।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার (১৯ জুন) ওই ধর্ষকদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।

জানা গেছে, উপজেলার তালুক বাজিত (ধনিয়ারকুড়া) গ্রামের মহাবীর বাঁশফোড়ের ১৬ বছরের কিশোরী কন্যার সাথে পাশ্ববর্তী পশ্চিম রামজীবন গ্রামের জামালের ছেলে মোত্তালেব মিয়ার (৩৬) সাথে মোবাইলে পরিচয় ও প্রেম হয়। সেই সুবাদে ১২ এপ্রিল তারিখে মোবাইলে ধনিয়ারকুড়া বাজারের পাশে ডেকে নিয়ে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে উক্ত কিশোরীকে মোত্তালেব তার বাড়িতে নিয়ে গিয়ে আটকে রেখে ধর্ষণ করে। এভাবে মাসাধিককাল আটকে রেখে ধর্ষণ করে ১৭ মে ঢাকায় নিয়ে যায়। সেখানেও বাসা ভাড়া নিয়ে কিশোরীসহ অবস্থান করে তাকে ধর্ষণ করে। এরপর ১৩ জুন মোত্তালেব ঢাকা থেকে গাইবান্ধা সদর উপজেলার লক্ষীপুর বাজারে নিয়ে গিয়ে কিশোরীকে রেখে কৌশলে পালিয়ে যায়। নিরুপায় হয়ে কিশোরী অটোবাইক যোগে ধনিয়ারকুড়া বাজারে ফিরে গেলে জনৈক খলিফার মেয়ের বাড়িতে কিশোরীকে রেখে দেয় তার মা। কিন্তু লোকজন জানতে পেরে ওই বাড়িতে থাকতে না দিলে পরদিন ১৪ মে পশ্চিম রামজীবন গ্রামের মৃত আমির উদ্দিনের ছেলে হায়দার মেম্বারের বাড়িতে কিশোরীকে রেখে দেয়া হয়। ওই রাতে হায়দার মেম্বার নিজেই কিশোরীকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালালে কিশোরী কৌশলে সেখান থেকে বেরিয়ে ধনিয়ারকুড়া বাজারের নাইটগার্ড তালুক বাজিত গ্রামের ইসি আকন্দের ছেলে আব্দুল মতিনের কাছে সাহায্য কামনা করে। আঃ মতিন পশ্চিম রামজীবন গ্রামের মৃত মছির উদ্দিনের ছেলে মোফাজ্জলের বাড়িতে রাখার জন্য নিয়ে যাওয়ার পথে তিনিও ধর্ষণের চেষ্টা চালান। এরপর মোফাজ্জলের বাড়িতে থাকা অবস্থায় পরদিন রাতে তিনিও কিশোরীকে ধর্ষণের চেষ্টা চালালে কিশোরী ভোর রাতে কৌশলে বের হয়ে আবারও ধনিয়ারকুড়া বাজারে ফিরে যায়। বাধ্য হয়ে কিশোরীর মা স্থানীয় লোকজনকে অবহিত করে বিচার কামনা করেন।

এব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান মাহবুবার রহমান জানান, ধর্ষণের ঘটনার বিচার ইউপি চেয়ারম্যানের আওতার মধ্যে না থাকায় থানা পুলিশকে খবর দিয়েছি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অসুস্থ্য অবস্থায় শুক্রবার (১৮ জুন) কিশোরীকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে দেন। এঘটনায় রাতেই কিশোরীর মা মালতী বাঁশফোড় ধর্ষণ ও ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ এনে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ধারায় মোত্তালেব, হায়দার মেম্বার, আঃ মতিন ও মোফাজ্জলকে আসামি করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

সুন্দরগঞ্জ থানা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) বুলবুল ইসলাম মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আসামি গ্রেফতারে জোর তৎপরতা চলছে।

এদিকে, আজ অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তরা বলেন, বাংলাদেশে হরিজন জনগোষ্ঠীর মানুষ অত্যন্ত প্রান্তিক অবস্থায় রয়েছে। তাই ভিকটিম পরিবারের নিরাপত্তাসহ ওই ঘটনার সাথে যুক্ত সকল আসামীর বিরুদ্ধে যথাযথ আইনী ব্যবস্থাসহ শাস্তি নিশ্চিতের দাবী জানান তারা। একই সাথে গাইবান্ধা পুলিশ সুপারের নির্দেশে সুন্দরগঞ্জ থানা পুলিশ তড়িৎ ব্যবস্থা গ্রহণ করায় ধন্যবাদ জানান। ঘটনাটির তদন্ত রিপোর্ট দ্রুত প্রদান করে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা না হলে পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা ধর্মঘটে যাবেন বলে জানান তারা।