বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হাকিমপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে অবৈধ সিদ্ধান্তের অভিযোগ এসএসসি’দের

দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলা সরকারি প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মাসুদুল হাসানের অবৈধ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতি হারুন উর রশিদ হারুনের নিকট লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন উপজেলার সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি ও এসএমসি’রা। এছাড়াও অনুলিপিটি, সচিব প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ ঢাকা। মহাপরিচালক প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ সচিবলয় ঢাকা। উপ-পরিচালক রংপুর বিভাগ রংপুর। উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাকিমপুর ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার দিনাজপুরকে দিয়েছেন তারা।

মঙ্গলবার (২২ জুন) দুপুরে অভিযোগটি হাকিমপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতি হারুন উর রশিদ হারুনের নিকট তার কার্যালয়ে তাকে প্রদান করেন উপজেলার সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এসএমসি’রা।

অভিযোগটিতে উপজেলার সকল এসএমসি’দের পক্ষে স্বাক্ষরকারী হাকিমপুর উপজেলার ইটাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি সাইফুল ইসলামের অভিযোগে লিখা রয়েছে, বিভিন্ন সময় সরকার প্রতি বছর দুই কিস্তিতে ¯িøপ বরাদ্দের টাকা এবং অন্যান্য সংস্কারের টাকা প্রদান করেন। আমরা বিদ্যায়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির ¯িøপ এবং অন্যান্য টাকার ব্যাপারে াবদ্যালয়ের প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী কাজ করতে পারি না। এসএমসি সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকদের মধ্যে বিবেধ সৃষ্টি লক্ষে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মাসুদুল হাসান নির্বাহী ভুমিকা রাখেন, এই কারণে আমরা কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। বিদ্যালয়ে কি কাজ করবো তার সকল সিদ্ধান্ত উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার প্রতিটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে বলে দেন। প্রধান শিক্ষকরা অসহায় ও নিরুপায় হয়ে আমাদের কাছে অনুরোধ করে বিল ভাউচারে সই করে নেন। প্রধান শিক্ষককে রেজুলেশনের ব্যাপারে জানতে চাইলে বলে উপজেলা শিক্ষা অফিসার বলে দিয়েছেন, কিভাবে রেজুলেশন করতে হবে এবং এর বাহিরে কিছুই করা যাবে না। উপজেলা শিক্ষা অফিসারের এহেন কর্মকান্ড সরকারের পরিপত্রের পরিপন্থি। বর্তমান আমরা সভাপতিসহ এসএমসি সদস্যবৃন্দ কাঠের পুতুলে পরিণত হয়ে আছি।

হাকিমপুর উপজেলা সরকারি প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মাসুদুল হাসানের নিকট বক্তব্য নিতে গেলে তার অফিসে তালা ঝুলানো দেখা যায় এবং তার ব্যক্তগিত নাম্বারে প্রায় ৭ বার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি, বিধায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

দিনাজপুর জেলা শিক্ষা অফিসার স্বপন কুমার রায় চৌধুরী জানান, হাকিমপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে অভিযোগটি পেয়েছি এবং ঐউপজেলা চেয়ারম্যা মহোদয় ও শিক্ষা অফিসারের সাথে আমার কথা হয়েছে, তারা সকল বিদ্যালয়ের এসএমসি’দের সাথে সমাধানে বসবেন। যদি পরবর্তীতে সমাধান না হয় তাহলে আমরা এর ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

এবিষয়ে হাকিমপুর উপজেলা চেয়ারম্যান হারুন উর রশিদ হারুন বলেন, উপজেলার প্রতিটি বিদ্যালয়ের এসএমসি সভাপতিরা আমার নিকট উপজেলা সরকারি প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে অবৈধ সিদ্ধান্ত চাপিয়ে এবং প্রধান শিক্ষকদের সাথে সম্পর্কের অবনতি করে দেওয়ার একটি লিখিত চিঠি তারা দিয়েছেন। বিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম বিদ্যালয়ের সভাপতি এসএমসি’রা করে থাকবেন এবং বিদ্যালয়ের সরকারি সব বরাদ্দ তাদের। এখানে উপজেলা শিক্ষা অফিসার কিংবা জেলা শিক্ষা অফিসারে কোন একতিয়ার নেই। যদি শিক্ষা অফিসার এরকম কাজের সাথে জরিত থাকে তাহলে অবশ্যই এটি সরকারের পরিপত্রের পরিপন্থি।

তিনি আরও বলেন, কয়েকজন প্রধান শিক্ষকের নিকট আমিও জানতে পেরেছি প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার তাদের বিভিন্ন অনিয়মের কাজ করতে বাধ্য করে। যেহেতু আমি তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি সেহেতু আমি শিক্ষা কমিটিতে বিষয়টি তুলে ধরবো এবং তদন্ত করবো। যদি বিষয়টি সঠিক হয় তাহলে উপর মহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হবে।

 

হাকিমপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে অবৈধ সিদ্ধান্তের অভিযোগ এসএসসি’দের

প্রকাশের সময়: ০৬:২৩:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ জুন ২০২১

দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলা সরকারি প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মাসুদুল হাসানের অবৈধ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতি হারুন উর রশিদ হারুনের নিকট লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন উপজেলার সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি ও এসএমসি’রা। এছাড়াও অনুলিপিটি, সচিব প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ ঢাকা। মহাপরিচালক প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ সচিবলয় ঢাকা। উপ-পরিচালক রংপুর বিভাগ রংপুর। উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাকিমপুর ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার দিনাজপুরকে দিয়েছেন তারা।

মঙ্গলবার (২২ জুন) দুপুরে অভিযোগটি হাকিমপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতি হারুন উর রশিদ হারুনের নিকট তার কার্যালয়ে তাকে প্রদান করেন উপজেলার সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এসএমসি’রা।

অভিযোগটিতে উপজেলার সকল এসএমসি’দের পক্ষে স্বাক্ষরকারী হাকিমপুর উপজেলার ইটাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি সাইফুল ইসলামের অভিযোগে লিখা রয়েছে, বিভিন্ন সময় সরকার প্রতি বছর দুই কিস্তিতে ¯িøপ বরাদ্দের টাকা এবং অন্যান্য সংস্কারের টাকা প্রদান করেন। আমরা বিদ্যায়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির ¯িøপ এবং অন্যান্য টাকার ব্যাপারে াবদ্যালয়ের প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী কাজ করতে পারি না। এসএমসি সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকদের মধ্যে বিবেধ সৃষ্টি লক্ষে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মাসুদুল হাসান নির্বাহী ভুমিকা রাখেন, এই কারণে আমরা কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। বিদ্যালয়ে কি কাজ করবো তার সকল সিদ্ধান্ত উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার প্রতিটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে বলে দেন। প্রধান শিক্ষকরা অসহায় ও নিরুপায় হয়ে আমাদের কাছে অনুরোধ করে বিল ভাউচারে সই করে নেন। প্রধান শিক্ষককে রেজুলেশনের ব্যাপারে জানতে চাইলে বলে উপজেলা শিক্ষা অফিসার বলে দিয়েছেন, কিভাবে রেজুলেশন করতে হবে এবং এর বাহিরে কিছুই করা যাবে না। উপজেলা শিক্ষা অফিসারের এহেন কর্মকান্ড সরকারের পরিপত্রের পরিপন্থি। বর্তমান আমরা সভাপতিসহ এসএমসি সদস্যবৃন্দ কাঠের পুতুলে পরিণত হয়ে আছি।

হাকিমপুর উপজেলা সরকারি প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মাসুদুল হাসানের নিকট বক্তব্য নিতে গেলে তার অফিসে তালা ঝুলানো দেখা যায় এবং তার ব্যক্তগিত নাম্বারে প্রায় ৭ বার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি, বিধায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

দিনাজপুর জেলা শিক্ষা অফিসার স্বপন কুমার রায় চৌধুরী জানান, হাকিমপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে অভিযোগটি পেয়েছি এবং ঐউপজেলা চেয়ারম্যা মহোদয় ও শিক্ষা অফিসারের সাথে আমার কথা হয়েছে, তারা সকল বিদ্যালয়ের এসএমসি’দের সাথে সমাধানে বসবেন। যদি পরবর্তীতে সমাধান না হয় তাহলে আমরা এর ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

এবিষয়ে হাকিমপুর উপজেলা চেয়ারম্যান হারুন উর রশিদ হারুন বলেন, উপজেলার প্রতিটি বিদ্যালয়ের এসএমসি সভাপতিরা আমার নিকট উপজেলা সরকারি প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে অবৈধ সিদ্ধান্ত চাপিয়ে এবং প্রধান শিক্ষকদের সাথে সম্পর্কের অবনতি করে দেওয়ার একটি লিখিত চিঠি তারা দিয়েছেন। বিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম বিদ্যালয়ের সভাপতি এসএমসি’রা করে থাকবেন এবং বিদ্যালয়ের সরকারি সব বরাদ্দ তাদের। এখানে উপজেলা শিক্ষা অফিসার কিংবা জেলা শিক্ষা অফিসারে কোন একতিয়ার নেই। যদি শিক্ষা অফিসার এরকম কাজের সাথে জরিত থাকে তাহলে অবশ্যই এটি সরকারের পরিপত্রের পরিপন্থি।

তিনি আরও বলেন, কয়েকজন প্রধান শিক্ষকের নিকট আমিও জানতে পেরেছি প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার তাদের বিভিন্ন অনিয়মের কাজ করতে বাধ্য করে। যেহেতু আমি তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি সেহেতু আমি শিক্ষা কমিটিতে বিষয়টি তুলে ধরবো এবং তদন্ত করবো। যদি বিষয়টি সঠিক হয় তাহলে উপর মহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হবে।