বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গাইবান্ধায় করোনা সংক্রমণ বাড়ছে, মানছে না স্বাস্থ্যবিধি  

তোফায়েল হোসেন জাকির:  গাইবান্ধা জেলায় করোনা পরিস্থিতি দিনদিনে অবনতির দিকে ধাবিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে আরও ৩৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। গত সপ্তাহ থেকে সংক্রমণের সংখ্যা বাড়লেও স্বাস্থ্যবিধি তেমন মানছে না কেউ।

রোববার (২৭ জুন) রাতে গাইবান্ধা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে জানানো হয়, গত ২৪ ঘন্টায় জেলা সদরে ২৯ জন, পলাশবাড়ীতে চারজন, সাদুল্লাপুর ও সুন্দরগঞ্জ দুইজন করে, গোবিন্দগঞ্জ এবং ফুলছড়ি উপজেলায় একজন করেসহ মোট শনাক্ত হয়েছেন ৩৯ জন। এ নিয়ে জেলায় এ পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৪৫ জনে। এরমধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এক হাজার ৭৮৪ জন ও মৃত্যৃবরণ করেছেন ২০ জন রোগি। বর্তমানে আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন রয়েছে ২৪১ জন রোগি।

জানা যায়, গাইবান্ধার সাতটি উপজেলায় প্রায় ২৪ লক্ষাধিক মানুষের বসবাস। বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের প্রভাব পড়ে এখানেও। এর সংক্রমণ বিস্তার শুরু থেকে ২৭ জুন পর্যন্ত ১০ হাজার ৩০০ জন সন্দেহভাজন করোনা রোগির স্যাম্পল সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা, রংপুর ও বগুড়া টিএমএসএস পিসিআর ল্যাব থেকে ৯ হাজার ৭৩৩ জনের ফলাফল প্রাপ্ত হয়।

এদিকে, গাইবান্ধা জেলায় করোনা সংক্রমণ মোকাবিলায় সরকারি-বেসরকারি ২৫ টি চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে রোগিদের জন্য বেড রয়েছে ৬৭১ টি। চিকিৎসাসেবায় ১৫৪ জন ডাক্তার ও নার্স রয়েছেন ২০৯ জন। তারা শুধু মাত্র করোনার চিকিৎসায় নিয়োজিত থাকছেন। এছাড়া করোনায় আক্রান্ত রোগিদের জরুরি চিকিৎসায় স্থানান্তরের নিমিত্তে পৃথকভাবে ২ টি এ্যাম্বুলেন্স ও ২ টি মাইক্রোবাস প্রস্তুত রয়েছে। একই সঙ্গে ১০০ বেডের আইসোলেসনেরও ব্যবস্থা রয়েছে।

অপরদিকে, গাইবান্ধা জেলা করোনা সংক্রমিত বাড়লেও, অধিকাংশ মানুষ মানছে সরকারি স্বাস্থ্যবিধি। অফিস-আদালত, ব্যাংক-বীমা ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে সেবাগ্রহীতারা মাস্ক না পড়া ও দূরত্ব বজায় না রেখে ভির করে চলছে। একই সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ রাজনৈতিক সভা-সেমিনার ও জনসাধারণের বিভিন্ন দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অব্যাহত রয়েছে। এসব কর্মসূচিতে বালাই নেই স্বাস্থ্যবিধির। সেই সঙ্গে গণপরিবহন গুলোতেও একই অবস্থা দৃশ্যমান।

গাইবান্ধা সিভিল সার্জন ডা. আ ম আখতারুজ্জামান বলেন, করোনা চিকিৎসার জন্য সকল সামগ্রীসহ ডাক্তার-নার্সদের সুরক্ষার সামগ্রীও মজুদ রাখা হয়েছে। বিশেষ ব্যবস্থাপনায় ও রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করে কোভিডের বর্জ্য ধ্বংস করা হচ্ছে। আগের তুলনায় সম্প্রতি সংক্রমণ বাড়ছে বলে জানান তিনি।

গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক আবদুল মতিন বলেন, করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণ ঠেকাতে মানুষদের স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা হচ্ছে। সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে উপজেলা পর্যায়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনী মাঠে কাজ করছেন।

গাইবান্ধায় করোনা সংক্রমণ বাড়ছে, মানছে না স্বাস্থ্যবিধি  

প্রকাশের সময়: ১০:৫৩:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ জুন ২০২১

তোফায়েল হোসেন জাকির:  গাইবান্ধা জেলায় করোনা পরিস্থিতি দিনদিনে অবনতির দিকে ধাবিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে আরও ৩৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। গত সপ্তাহ থেকে সংক্রমণের সংখ্যা বাড়লেও স্বাস্থ্যবিধি তেমন মানছে না কেউ।

রোববার (২৭ জুন) রাতে গাইবান্ধা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে জানানো হয়, গত ২৪ ঘন্টায় জেলা সদরে ২৯ জন, পলাশবাড়ীতে চারজন, সাদুল্লাপুর ও সুন্দরগঞ্জ দুইজন করে, গোবিন্দগঞ্জ এবং ফুলছড়ি উপজেলায় একজন করেসহ মোট শনাক্ত হয়েছেন ৩৯ জন। এ নিয়ে জেলায় এ পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৪৫ জনে। এরমধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এক হাজার ৭৮৪ জন ও মৃত্যৃবরণ করেছেন ২০ জন রোগি। বর্তমানে আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন রয়েছে ২৪১ জন রোগি।

জানা যায়, গাইবান্ধার সাতটি উপজেলায় প্রায় ২৪ লক্ষাধিক মানুষের বসবাস। বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের প্রভাব পড়ে এখানেও। এর সংক্রমণ বিস্তার শুরু থেকে ২৭ জুন পর্যন্ত ১০ হাজার ৩০০ জন সন্দেহভাজন করোনা রোগির স্যাম্পল সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা, রংপুর ও বগুড়া টিএমএসএস পিসিআর ল্যাব থেকে ৯ হাজার ৭৩৩ জনের ফলাফল প্রাপ্ত হয়।

এদিকে, গাইবান্ধা জেলায় করোনা সংক্রমণ মোকাবিলায় সরকারি-বেসরকারি ২৫ টি চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে রোগিদের জন্য বেড রয়েছে ৬৭১ টি। চিকিৎসাসেবায় ১৫৪ জন ডাক্তার ও নার্স রয়েছেন ২০৯ জন। তারা শুধু মাত্র করোনার চিকিৎসায় নিয়োজিত থাকছেন। এছাড়া করোনায় আক্রান্ত রোগিদের জরুরি চিকিৎসায় স্থানান্তরের নিমিত্তে পৃথকভাবে ২ টি এ্যাম্বুলেন্স ও ২ টি মাইক্রোবাস প্রস্তুত রয়েছে। একই সঙ্গে ১০০ বেডের আইসোলেসনেরও ব্যবস্থা রয়েছে।

অপরদিকে, গাইবান্ধা জেলা করোনা সংক্রমিত বাড়লেও, অধিকাংশ মানুষ মানছে সরকারি স্বাস্থ্যবিধি। অফিস-আদালত, ব্যাংক-বীমা ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে সেবাগ্রহীতারা মাস্ক না পড়া ও দূরত্ব বজায় না রেখে ভির করে চলছে। একই সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ রাজনৈতিক সভা-সেমিনার ও জনসাধারণের বিভিন্ন দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অব্যাহত রয়েছে। এসব কর্মসূচিতে বালাই নেই স্বাস্থ্যবিধির। সেই সঙ্গে গণপরিবহন গুলোতেও একই অবস্থা দৃশ্যমান।

গাইবান্ধা সিভিল সার্জন ডা. আ ম আখতারুজ্জামান বলেন, করোনা চিকিৎসার জন্য সকল সামগ্রীসহ ডাক্তার-নার্সদের সুরক্ষার সামগ্রীও মজুদ রাখা হয়েছে। বিশেষ ব্যবস্থাপনায় ও রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করে কোভিডের বর্জ্য ধ্বংস করা হচ্ছে। আগের তুলনায় সম্প্রতি সংক্রমণ বাড়ছে বলে জানান তিনি।

গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক আবদুল মতিন বলেন, করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণ ঠেকাতে মানুষদের স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা হচ্ছে। সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে উপজেলা পর্যায়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনী মাঠে কাজ করছেন।