বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সাদুল্লাপুরে কৃষকের মাঠে একদল কৃষি কর্মকর্তা

তোফায়েল হোসেন জাকির: চলতি রোপা আমন মৌসুমে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় শুরু হয়েছে আমন ধানচারা রোপনের কাজ। কৃষকদের এই ক্ষেত থেকে অধিক ফসল ঘরে তোলার লক্ষ্যে মাঠে কাজ করছে একদল কৃষি কর্মকর্তা।

রোববার (১ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের আরাজী জামালপুর গ্রামে দেখা যায় কৃষকদের ধানচারা রোপনের চিত্র। কাদা মাটিতে চারা বুনতে ব্যস্তত ছিলেন তারা।

এসময় কৃষকদের পরামর্শ প্রদানে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আবুল  কালাম আজাদ, উপ সহকারি উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা আব্দুর রউফ সরকার, উপ সহকারি কৃষি কর্মকর্তা রুহুল আমিন মণ্ডল, আবু নাসের বাদশা, ফরিদুল ইসলাম বেলাল, আম্বিয়া মনোয়ারা ও ছামছুন্নাহার সাথীসহ আরও অনেকে।

জানা জায়, কৃষিভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত উপজেলা সাদুল্লাপু। এখানকার জীবন জীবিকার জন্য অধিকাংশ মানুষ কৃষির ওপর নির্ভশীল। এ জেলার শতকরা প্রায় ৭০ ভাগ জনসাধারণ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষি ফসল ঘরে তুলে তাদের মৌলিক চাহিদা পুরণে চেষ্টা করে। এখানে ধান-পাট-ভূট্রা ও সবজিসহ বিভিন্ন ধরণের ফসল উৎপাদন হয়ে থাকে। এসবের মধ্যে লাভজনক ফসল হচ্ছে রোপা আমন ধান।  তাই  এই এলাকার কৃষকরা যাতে করে অধিক ফসল নিতে পারে, সেই লক্ষ্যে মাঠে কাজ করছে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা। বন্যার ঝুঁকি এড়ানো, পোকা-মাকড় থেকে রক্ষাসহ আরও কীভাবে চাষাবাদ করলে ভালো ফলন নেয়া যেতে পারে, এজন্য কৃষকদের দোড়গোড়ায় পৌঁছে পরামর্শ দিচ্ছে ওই কর্মকর্তারা।

কৃষক সিদ্দক আলী বলেন, এ বছরে  দেড় একর জমিতে আমন ধানের চারা রোপন করা হবে। ইতোমধ্যে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের সার্বিক সহযোগিতায় ৪০ শতক জমিতে রোপন কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে না পড়লে ভালো ফলন ঘরে তোলা সম্ভব।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আবুল  কালাম আজাদ জাগো২৪.নেট-কে বলেন, লাইন লোগোবো পদ্ধতি আমন ধানচারা রোপনের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।এরপর জমিতে পার্চিং স্থাপনের জন্যও বলা হচ্ছে। সঠিক পরিকল্পনা অনুযায়ী চাষাবাদ করলে অধিক ফলন পাওয়াসহ অন্যান্যভাবে রেহাই পাবেন কৃষকরা।

সাদুল্লাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খাজানুর রহমান জাগো২৪.নেট-কে জানান, এ উপজেলায় ১৫ হাজার ৭৭২ হেক্টর জমিতে আমন ধানচারা রোপনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এ পর্যন্ত অর্জন হয়েছে ১ হাজার ৫০০ হেক্টর। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা ছেড়ে যেতে পারে।

তিনি আরও বলেন, সাদল্লাপুর উপজেলার ৬৩৫ জন কৃষকরে মাঝে উফসী-হাইব্রিড জাতের আমন ধানের বীজ-সার বিতরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া বন্যা প্রস্তুতি হিসেবে আরও ১৯৫ জনের মাঝে নাবী জাতের বীজ প্রদান করা হয়।

 

জনপ্রিয়

সাদুল্লাপুরে কৃষকের মাঠে একদল কৃষি কর্মকর্তা

প্রকাশের সময়: ০২:৩০:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ অগাস্ট ২০২১

তোফায়েল হোসেন জাকির: চলতি রোপা আমন মৌসুমে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় শুরু হয়েছে আমন ধানচারা রোপনের কাজ। কৃষকদের এই ক্ষেত থেকে অধিক ফসল ঘরে তোলার লক্ষ্যে মাঠে কাজ করছে একদল কৃষি কর্মকর্তা।

রোববার (১ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের আরাজী জামালপুর গ্রামে দেখা যায় কৃষকদের ধানচারা রোপনের চিত্র। কাদা মাটিতে চারা বুনতে ব্যস্তত ছিলেন তারা।

এসময় কৃষকদের পরামর্শ প্রদানে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আবুল  কালাম আজাদ, উপ সহকারি উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা আব্দুর রউফ সরকার, উপ সহকারি কৃষি কর্মকর্তা রুহুল আমিন মণ্ডল, আবু নাসের বাদশা, ফরিদুল ইসলাম বেলাল, আম্বিয়া মনোয়ারা ও ছামছুন্নাহার সাথীসহ আরও অনেকে।

জানা জায়, কৃষিভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত উপজেলা সাদুল্লাপু। এখানকার জীবন জীবিকার জন্য অধিকাংশ মানুষ কৃষির ওপর নির্ভশীল। এ জেলার শতকরা প্রায় ৭০ ভাগ জনসাধারণ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষি ফসল ঘরে তুলে তাদের মৌলিক চাহিদা পুরণে চেষ্টা করে। এখানে ধান-পাট-ভূট্রা ও সবজিসহ বিভিন্ন ধরণের ফসল উৎপাদন হয়ে থাকে। এসবের মধ্যে লাভজনক ফসল হচ্ছে রোপা আমন ধান।  তাই  এই এলাকার কৃষকরা যাতে করে অধিক ফসল নিতে পারে, সেই লক্ষ্যে মাঠে কাজ করছে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা। বন্যার ঝুঁকি এড়ানো, পোকা-মাকড় থেকে রক্ষাসহ আরও কীভাবে চাষাবাদ করলে ভালো ফলন নেয়া যেতে পারে, এজন্য কৃষকদের দোড়গোড়ায় পৌঁছে পরামর্শ দিচ্ছে ওই কর্মকর্তারা।

কৃষক সিদ্দক আলী বলেন, এ বছরে  দেড় একর জমিতে আমন ধানের চারা রোপন করা হবে। ইতোমধ্যে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের সার্বিক সহযোগিতায় ৪০ শতক জমিতে রোপন কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে না পড়লে ভালো ফলন ঘরে তোলা সম্ভব।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আবুল  কালাম আজাদ জাগো২৪.নেট-কে বলেন, লাইন লোগোবো পদ্ধতি আমন ধানচারা রোপনের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।এরপর জমিতে পার্চিং স্থাপনের জন্যও বলা হচ্ছে। সঠিক পরিকল্পনা অনুযায়ী চাষাবাদ করলে অধিক ফলন পাওয়াসহ অন্যান্যভাবে রেহাই পাবেন কৃষকরা।

সাদুল্লাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খাজানুর রহমান জাগো২৪.নেট-কে জানান, এ উপজেলায় ১৫ হাজার ৭৭২ হেক্টর জমিতে আমন ধানচারা রোপনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এ পর্যন্ত অর্জন হয়েছে ১ হাজার ৫০০ হেক্টর। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা ছেড়ে যেতে পারে।

তিনি আরও বলেন, সাদল্লাপুর উপজেলার ৬৩৫ জন কৃষকরে মাঝে উফসী-হাইব্রিড জাতের আমন ধানের বীজ-সার বিতরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া বন্যা প্রস্তুতি হিসেবে আরও ১৯৫ জনের মাঝে নাবী জাতের বীজ প্রদান করা হয়।