সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পীরগঞ্জে হিন্দু পল্লীতে আগুন, গ্রেফতার ৪১জন

রংপুরের পীরগঞ্জে উপজেলার রামনাথপুর ইউনিয়নের বড় করিমপুর কসবা হিন্দু জেলে পল্লীতে আগুন দিয়ে প্রায় ৬৫ টি ঘর পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

ওই ঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অর্ধশতাধিক রাউন্ড রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। এদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ৪১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

গত রোববার রাতে হিন্দু পল্লীতে আগুন লাগিয়ে দেয়ার ঘটনায় রংপুর জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, র‌্যাব, বিজিবি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। গতকাল সোমবারও তারা ঘটনাস্থলে অবস্থান করেন।

একাধিক সুত্রে জানা গেছে, গত রোববার রাতে উপজেলার রামনাথপুর ইউনিয়নের বড়করিমপুর কসবা হিন্দু জেলে পল্লীর বাসিন্দা প্রশান্ত কুমারের ছেলে পরিতোষ কুমার (১৬) ফেসবুকের একটি পোস্টে মন্তব্যের ঘরে কাবাঘরের ব্যঙ্গ ছবি দেয়। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে রাত ১০ টার পর বিক্ষুব্ধ জনতা কসবা হিন্দু জেলে পল্লীতে বসবাসরতদের বাড়ীঘর ভাংচুর করে আগুন লাগিয়ে দেয়। এতে ৫০ টির বেশি ঘর পুড়ে যায়। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অর্ধ শতাধিক রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে রাত ১ টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এদিকে খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক আসিব আহসান, পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার সরকার, র‌্যাব, বিজিবি ঘটনাস্থলে আসে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা রাতেই ৪১ জনকে গ্রেপ্তার করে। পাশাপাশি সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। অপরদিকে ওই রাতেই এই নাশকতার প্রতিবাদে জেলা ও উপজেলা ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে বিক্ষোভ মিছিল করেছে। বর্তমানে পরিস্হিতি নিয়ন্ত্রনে রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিরোদা রানী রায় বলেন, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে সংখ্যালঘু পরিবারের এক যুবকের ফেসবুকে ষ্ট্যাটাস দেয়াকে কেন্দ্র করে কসবা হিন্দু পল্লীতে সংখ্যালঘুর বাড়ীতে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, বিনা উস্কানিতে নীরিহদের বাড়ীঘরে হামলা চালিয়ে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আমরা অনেককে গ্রেফতার করেছি। জেলা প্রশাসক আসিব আহসান বলেন, ক্ষগ্রিস্তদের ঘরবাড়ী মেরামত করা হবে। সরকারী সকল সহযোগিতা প্রদান করা হবে।

পীরগঞ্জে হিন্দু পল্লীতে আগুন, গ্রেফতার ৪১জন

প্রকাশের সময়: ০৬:২১:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ অক্টোবর ২০২১

রংপুরের পীরগঞ্জে উপজেলার রামনাথপুর ইউনিয়নের বড় করিমপুর কসবা হিন্দু জেলে পল্লীতে আগুন দিয়ে প্রায় ৬৫ টি ঘর পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

ওই ঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অর্ধশতাধিক রাউন্ড রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। এদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ৪১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

গত রোববার রাতে হিন্দু পল্লীতে আগুন লাগিয়ে দেয়ার ঘটনায় রংপুর জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, র‌্যাব, বিজিবি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। গতকাল সোমবারও তারা ঘটনাস্থলে অবস্থান করেন।

একাধিক সুত্রে জানা গেছে, গত রোববার রাতে উপজেলার রামনাথপুর ইউনিয়নের বড়করিমপুর কসবা হিন্দু জেলে পল্লীর বাসিন্দা প্রশান্ত কুমারের ছেলে পরিতোষ কুমার (১৬) ফেসবুকের একটি পোস্টে মন্তব্যের ঘরে কাবাঘরের ব্যঙ্গ ছবি দেয়। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে রাত ১০ টার পর বিক্ষুব্ধ জনতা কসবা হিন্দু জেলে পল্লীতে বসবাসরতদের বাড়ীঘর ভাংচুর করে আগুন লাগিয়ে দেয়। এতে ৫০ টির বেশি ঘর পুড়ে যায়। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অর্ধ শতাধিক রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে রাত ১ টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এদিকে খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক আসিব আহসান, পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার সরকার, র‌্যাব, বিজিবি ঘটনাস্থলে আসে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা রাতেই ৪১ জনকে গ্রেপ্তার করে। পাশাপাশি সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। অপরদিকে ওই রাতেই এই নাশকতার প্রতিবাদে জেলা ও উপজেলা ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে বিক্ষোভ মিছিল করেছে। বর্তমানে পরিস্হিতি নিয়ন্ত্রনে রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিরোদা রানী রায় বলেন, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে সংখ্যালঘু পরিবারের এক যুবকের ফেসবুকে ষ্ট্যাটাস দেয়াকে কেন্দ্র করে কসবা হিন্দু পল্লীতে সংখ্যালঘুর বাড়ীতে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, বিনা উস্কানিতে নীরিহদের বাড়ীঘরে হামলা চালিয়ে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আমরা অনেককে গ্রেফতার করেছি। জেলা প্রশাসক আসিব আহসান বলেন, ক্ষগ্রিস্তদের ঘরবাড়ী মেরামত করা হবে। সরকারী সকল সহযোগিতা প্রদান করা হবে।