শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পাপ মোচনে নদীর তীরে স্নানোৎসব

করোনার দু’বছর পর হিন্দুধর্মাবলম্বীরা আনন্দঘন পরিবেশে অষ্টমীর স্নানোৎসবে অংশ নিতে পেরে খুশি। আর স্নানের সময় ফুল, বেলপাতা, ধান, দূর্বা , হরিতকি, ডাব, আম পাতা ইত্যাদি পিতৃকুলের উদ্দেশ্যে নদের জলে অর্পণ করছেন তারা। পঞ্জিকামতে চৈত্র মাসের অষ্টমী তিথিতে হিন্দু সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষরা পবিত্র অষ্টমী স্নানে মেতে ওঠেন। এসময় ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে বহু ভক্তের সমাগম ঘটে। শুক্রবার রাত ৯টা ১১ মিনিটে পুণ্যস্নানের লগ্ন শুরু হয়ে শেষ হবে শনিবার রাত ১১টা ৮ মিনিটে।

গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার তিস্তামুখঘাট, বালাসিঘাট, সদর উপজেলার কামারজানি ব্রহ্মপুত্র নদ ও সুন্দরগঞ্জের হরিপুর তিস্তা নদীর তীরে প্রতি বছরের মতো এবারও হে মহা ভাগ ব্রহ্মপুত্র, হে লৌহিত্য আমার পাপ হরণ কর; এ মন্ত্র উচ্চারণ করে পাপ মোচনের আশায় পূণ্যার্থীরা আদি ব্রহ্মপুত্র নদে স্নানে অংশ নিচ্ছেন। এ উৎসবে যোগ দেয় জেলা ও জেলার বাইরে থেকে হাজার হাজার নারী, শিশু ও পুরুষ।

স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের আয়োজনে ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে প্রতি বছর এই অষ্টমী স্নানের আয়োজন করা হয়। আয়োজক গোষ্ঠীর একাধিক ব্যক্তিরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই নদীর পাড়ে আমরা এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আসছি। এখানে জেলার সর্বস্তরের হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রায় ৫০ হাজার পুণ্যার্থী অংশগ্রহণ করেন। ভোরবেলা থেকেই বিভিন্ন এলাকার হিন্দুধর্মাবলম্বীরা পাপমোচনের জন্য পবিত্র মন্ত্র উচ্চারণ করে কলার নৌকায় ফুল-ফল ভাসিয়ে দেন গঙ্গাদেবীর উদেশ্যে। স্নান শেষে পুণ্যার্থীদের মাঝে প্রসাদ বিতরণ করা হয়।

ভক্তগণের বিশ্বাস এ সময় ব্রহ্মপুত্র নদে স্নান খুবই পুণ্যের, এ স্নানে ব্রহ্মার সন্তুষ্টি লাভ করে পাপমোচন হয়। এই স্নানই অষ্টমী স্নান নামে অভিহিত। অধিকাংশ স্থানীয় লোকজনের বিশ্বাস, চৈত্রের অষ্টমীতে জগতের সকল পবিত্র স্থানের পুণ্য ব্রহ্মপুত্রে মিলিত হয়। নদীর পানি স্পর্শমাত্রই সকলের পাপ মোচন হয়। যে এই পবিত্র পানিতে স্নান করে সে চিরমোক্ষ লাভ করে।

মেলায় লোকজ পণ্য, শিশুদের খেলাধুলার জিনিসপত্র, কানমুচুরি, বাতাসা, জিলাপী, গুরের বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রীর পসরা সাজিয়েছে দোকানিরা। এছাড়া জেলা ও জেলার বাহির থেকে বড় বড় মাছের বাজার বসেছে। এবার স্নানে অংশ নিতে আসা মানুষদের সুবিধার জন্য স্থানীয় প্রশাসন বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। নেয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুলিশ সদস্যদের সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। মেলা থেকে একটু দুরে আশেপাশের বালুচরে জুয়ারিদের আনাগোনা লক্ষ্য করা গেছে।

 

 

জনপ্রিয়

পাপ মোচনে নদীর তীরে স্নানোৎসব

প্রকাশের সময়: ০৬:৪২:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ এপ্রিল ২০২২

করোনার দু’বছর পর হিন্দুধর্মাবলম্বীরা আনন্দঘন পরিবেশে অষ্টমীর স্নানোৎসবে অংশ নিতে পেরে খুশি। আর স্নানের সময় ফুল, বেলপাতা, ধান, দূর্বা , হরিতকি, ডাব, আম পাতা ইত্যাদি পিতৃকুলের উদ্দেশ্যে নদের জলে অর্পণ করছেন তারা। পঞ্জিকামতে চৈত্র মাসের অষ্টমী তিথিতে হিন্দু সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষরা পবিত্র অষ্টমী স্নানে মেতে ওঠেন। এসময় ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে বহু ভক্তের সমাগম ঘটে। শুক্রবার রাত ৯টা ১১ মিনিটে পুণ্যস্নানের লগ্ন শুরু হয়ে শেষ হবে শনিবার রাত ১১টা ৮ মিনিটে।

গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার তিস্তামুখঘাট, বালাসিঘাট, সদর উপজেলার কামারজানি ব্রহ্মপুত্র নদ ও সুন্দরগঞ্জের হরিপুর তিস্তা নদীর তীরে প্রতি বছরের মতো এবারও হে মহা ভাগ ব্রহ্মপুত্র, হে লৌহিত্য আমার পাপ হরণ কর; এ মন্ত্র উচ্চারণ করে পাপ মোচনের আশায় পূণ্যার্থীরা আদি ব্রহ্মপুত্র নদে স্নানে অংশ নিচ্ছেন। এ উৎসবে যোগ দেয় জেলা ও জেলার বাইরে থেকে হাজার হাজার নারী, শিশু ও পুরুষ।

স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের আয়োজনে ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে প্রতি বছর এই অষ্টমী স্নানের আয়োজন করা হয়। আয়োজক গোষ্ঠীর একাধিক ব্যক্তিরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই নদীর পাড়ে আমরা এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আসছি। এখানে জেলার সর্বস্তরের হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রায় ৫০ হাজার পুণ্যার্থী অংশগ্রহণ করেন। ভোরবেলা থেকেই বিভিন্ন এলাকার হিন্দুধর্মাবলম্বীরা পাপমোচনের জন্য পবিত্র মন্ত্র উচ্চারণ করে কলার নৌকায় ফুল-ফল ভাসিয়ে দেন গঙ্গাদেবীর উদেশ্যে। স্নান শেষে পুণ্যার্থীদের মাঝে প্রসাদ বিতরণ করা হয়।

ভক্তগণের বিশ্বাস এ সময় ব্রহ্মপুত্র নদে স্নান খুবই পুণ্যের, এ স্নানে ব্রহ্মার সন্তুষ্টি লাভ করে পাপমোচন হয়। এই স্নানই অষ্টমী স্নান নামে অভিহিত। অধিকাংশ স্থানীয় লোকজনের বিশ্বাস, চৈত্রের অষ্টমীতে জগতের সকল পবিত্র স্থানের পুণ্য ব্রহ্মপুত্রে মিলিত হয়। নদীর পানি স্পর্শমাত্রই সকলের পাপ মোচন হয়। যে এই পবিত্র পানিতে স্নান করে সে চিরমোক্ষ লাভ করে।

মেলায় লোকজ পণ্য, শিশুদের খেলাধুলার জিনিসপত্র, কানমুচুরি, বাতাসা, জিলাপী, গুরের বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রীর পসরা সাজিয়েছে দোকানিরা। এছাড়া জেলা ও জেলার বাহির থেকে বড় বড় মাছের বাজার বসেছে। এবার স্নানে অংশ নিতে আসা মানুষদের সুবিধার জন্য স্থানীয় প্রশাসন বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। নেয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুলিশ সদস্যদের সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। মেলা থেকে একটু দুরে আশেপাশের বালুচরে জুয়ারিদের আনাগোনা লক্ষ্য করা গেছে।