শনিবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৫:৫৪ পূর্বাহ্ন

প্রবাস ফেরত রিফাত মুরগির খামার করেই স্বাবলম্বী

মো. রফিকুল ইসলাম, করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট, চিরিরবন্দর (দিনাজপুর)
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ২ জানুয়ারী, ২০২৩
প্রবাসী জীবনে স্বাবলম্বী হতে না পারলেও নিজ গ্রামে মুরগির খামার করেই স্বাবলম্বী এবং অনেকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছেন মনিরুজ্জামান ওরফে রিফাত। দীর্ঘদিন প্রবাস জীবন কাটিয়ে স্বল্প পুঁজিতে শ্রম ও নিষ্ঠার সাথে মুরগির খামার করেই সুদিন ফিরে পেয়েছেন দিনাজপুরের  চিরিরবন্দর উপজেলার ভিয়াইল গ্রামের মনিরুজ্জামান ওরফে রিফাত। তিনি স্বল্প পুঁজিতে বিভিন্ন জাতের মুরগি পালন করে উদ্যোক্তা হয়ে তরুণ-যুবকদের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে সক্ষম হয়েছেন। তাঁকে অনুসরণ করে অনেক বেকার যুবক বেকারত্ব দূরীকরণসহ আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার মাধ্যমে এখন মুরগি পালনকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করছেন।
একান্ত আলোচনান্তে জানা গেছে, প্রবাস ফেরত মনিরুজ্জামান ওরফে রিফাত বলেন, আমি মাদ্রাসা লাইনে পড়াশোনা করেছি। এরপর উন্নত জীবনযাপনের জন্য দেশের বাইরে যাওয়ার সিন্ধান্ত নিই। সেজন্য গত ২০০৫ সালে আমি আবুধাবিতে পাড়ি জমাই এবং সেখানে কাজ শুরু করি। কিন্তু সেখানে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করেও নিজের ভাগ্যের কোন পরিবর্তন করতে পারিনি। তখন সিন্ধান্ত নেই দেশে ফিরে গিয়ে কিছু একটা করব। দীর্ঘদিন আবুধাবিতে প্রবাস জীবন কাটানোর পর গত ২০০৯ সালে দেশে ফিরে আসি এবং চরম অর্থ সংকটের মধ্যে পড়ে যাই। অর্থ সংকটের হতাশায় ভুগতে থাকি। এরপর ইউটিউব ভিডিওতে দেশের বিভিন্ন স্থানে উন্নত জাতের মুরগির খামার দেখে উদ্বুদ্ধ হই। উন্নত জাতের সোনালী মুরগির খামার করার জন্য নরসিংদী থেকে ২০টি ডিম সংগ্রহ করি । শুরু হয় আমার মুরগি পালনের কাজ। এরপর আমি ঢাকার মিরপুর থেকে আরো ২০০ মুরগি কিনে এনে প্রবাস বন্ধু পোল্ট্রি এন্ড চিকস্ নামে খামার গড়ে তুলি। তারপর আর আমাকে পিছনে তাঁকাতে হয়নি। বর্তমানে আমার ফার্মে ৪টি সেডে অন্তত ১৫-১৬ হাজার মুরগি আছে। এখানে টোটাল প্যারেন্টস্ আছে ৭ হাজার ৫০০ এবং রানিং ডিম আছে ২ হাজার। সেখান থেকে প্রতিদিন ৭০ শতাংশ ডিম সংগ্রহ করা হয়। ডিম থেকে প্রতিমাসে ২৮-৩০ হাজার বাচ্চা উৎপাদন করা হয়। বাচ্চাগুলো দিনাজপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার খামারের নিজস্ব পরিবহনে সরবরাহ করা হয়। প্রতিটি বাচ্চা ৪০-৫৫ টাকা দরে বিক্রয় করা হয়। তিনি আরো জানান, প্রবাসে থাকাকালিন আমার প্রতিমাসে ১০-১৫ হাজার টাকা আয় হতো। আমি এখন আমার খামারে ১৬ জনের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছি। তাদের বেতনভাতাসহ অন্যান্য খরচ দিয়েও আমার প্রতিমাসে দুই থেকে ‍তিন লাখ টাকা আয় হয়।
খামারের কর্মচারী পিন্টু ইসলাম বলেন, প্রবাস বন্ধু পোল্ট্রি এন্ড চিকস্ খামারে মুরগি দেখাশুনার পাশাপাশি আমি মুরগির খাবার দেয়া ও কখন ভিটামিন ভ্যাকসিন প্রয়োগ করতে হবে সেসব কাজ করি। ইতিপূর্বে আমি জয়পুরহাটে খামারে কাজ করেছি। বর্তমানে রিফাত ভাইয়ের খামারে কাজ করে ভালো বেতন পাই। তা দিয়েই আমার সংসার চলে। খামারের অপর আরেক কর্মচারী সুজন ইসলাম বলেন, আমি একজন ছাত্র। আমি লেখাপড়ার পাশাপাশি প্রবাস বন্ধু পোল্ট্রি এন্ড চিকস্ খামারে মুরগির ডিম ও বাচ্চার হিসাব দেখভাল করি। এছাড়াও আমি দেশের বিভিন্ন প্রান্তের খামারগুলোতে কীভাবে একদিনের মুরগির বাচ্চা পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করে থাকি। এ খামারে কাজ করে আমি যে বেতন পাই তা দিয়ে নিজের লেখাপড়ার খরচের পাশাপাশি পরিবারকেও সহযোগিতা করি।
চিরিরবন্দর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সারফারাজ হোসাইন বলেন, মনিরুজ্জামান ওরফে রিফাত একজন সফল উদ্যোক্তা। তিনি দীর্ঘদিন প্রবাসে থেকে ফিরে এসে মুরগির খামার করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। তিনি দিনাজপুুর জেলার একজন মডেল খামারি। তার মুরগির খামার দেখে অনেকেই এখন মুরগির খামার করে সফল হয়েছেন। তার প্রবাস বন্ধু পোল্ট্রি এন্ড চিকস্ খামারে প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের পক্ষ থেকে ভ্যাকসিনসহ সবধরনের সুযোগ সুবিধা দেয়া হয়।

শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | জাগো২৪.নেট

কারিগরি সহায়তায় : শাহরিয়ার হোসাইন